শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ’র ধ্বংসযজ্ঞের এক সপ্তাহ পরও স্থিতিশীল হয়নি পরিস্থিতি। দ্বীপজুড়ে টানা বর্ষণে এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া পাহাড়ি ঢাল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় রোববার (৭ ডিসেম্বর) নতুন করে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)।
ডিএমসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় পার্বত্য অঞ্চলসহ উত্তর-পশ্চিম মধ্যাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বহু এলাকায় পাহাড়ি গ্রাম ও সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্লেন ও হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। চলমান এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।
ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়ালো। স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দেশটির কর্মকর্তাদের বরারত দিয়ে এই তথ্য জানায় ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশের বিভিন্ন গ্রাম-শহর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৯১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এখনো কমপক্ষে ২৭৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
অস্বাভাবিক দুর্যোগ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ঘটা সর্বশেষ ঝড়-বন্যাকে ‘অস্বাভাবিক দুর্যোগ’ হিসেবে এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, শ্রীলংকা থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইন পর্যন্ত হাজার হাজার মাইল জুড়ে ঘটা প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগের বর্ণনা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা “বিরামহীন,” “বিরল” এবং “রেকর্ড-ব্রেকিং” শব্দগুলি ব্যবহার করছেন। তারা এই পরিস্থিতির সঙ্গে বাইবেলে থাকা বন্যার তুলনাও টানছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্যোগের কারণ ছিল শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার এক অসাধারণ মিশ্রণ, যা মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকট দ্বারা আরও বিস্তৃতভাবে প্রবল হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















