সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস

আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস

সিনেমার পর্দায় এক অমর যাত্রার সূচনা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ থেকে এবং সেই যাত্রার পেছনে ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘ওরা ১১ জন’, যা দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। মাত্র স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাসের মধ্যে এই ছবি মুক্তি পেয়েছিল, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও ত্যাগকে প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়েছিলেন নজরুল। দর্শকরা তখনই উপলব্ধি করেছিলেন, সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ইতিহাস ও দেশপ্রেমের শক্তিশালী বাহন।
তার ক্যারিয়ার একের পর এক সফল নির্মাণে ভরা। ১৯৮২ সালে তিনি ‘দেবদাস’ এ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে শরৎ সাহিত্যের সৌন্দর্য নিয়ে আসেন। বুলবুল আহমেদ, কবরী ও আনোয়ারার অভিনয় এই সিনেমাকে যুগান্তকারী করে তোলে। ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ নির্মাণ করে তিনি ১৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন—এক বিরল রেকর্ড।
এরপর ১৯৯৭ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, রবীন্দ্র সাহিত্য অবলম্বনে ২০০৫ সালের ‘শাস্তি’, মরমি সাধক হাছন রাজাকে কেন্দ্র করে ২০০২ সালের ‘হাছন রাজা’ এবং ২০০৪ সালের ‘মেঘের পরে মেঘ’—প্রতিটি ছবিই দেশের সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গকে চলচ্চিত্রের ভাষায় সফলভাবে তুলে ধরেছে।
চাষী নজরুল ইসলাম ছিলেন শুধু পরিচালক নয়, দেশের ইতিহাস ও মানুষের বীরত্বকে পর্দায় তুলে আনার এক অদম্য শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প থেকে শুরু করে সাহিত্যের নান্দনিক বর্ণনা—প্রতিটি চলচ্চিত্রই দেশের দর্শককে ভাবতে ও অনুভব করতে শেখায়।
২০১৫ সালের আজকের দিনে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি আমাদের ছেড়ে গেলেও, তার কাজ থাকবে চিরকাল অম্লান। আজ আমরা স্মরণ করি চাষী নজরুল ইসলামকে—যিনি আমাদের চলচ্চিত্র ও ইতিহাসের মধ্যে চিরস্থায়ী পদচিহ্ন রেখে গেছেন। তার সাহস, সৃষ্টি ও দেশপ্রেমের গল্প আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস

আপডেট সময় ০১:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
সিনেমার পর্দায় এক অমর যাত্রার সূচনা হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ থেকে এবং সেই যাত্রার পেছনে ছিলেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৭২ সালে তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘ওরা ১১ জন’, যা দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। মাত্র স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাসের মধ্যে এই ছবি মুক্তি পেয়েছিল, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও ত্যাগকে প্রাণবন্তভাবে ফুটিয়েছিলেন নজরুল। দর্শকরা তখনই উপলব্ধি করেছিলেন, সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ইতিহাস ও দেশপ্রেমের শক্তিশালী বাহন।
তার ক্যারিয়ার একের পর এক সফল নির্মাণে ভরা। ১৯৮২ সালে তিনি ‘দেবদাস’ এ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে শরৎ সাহিত্যের সৌন্দর্য নিয়ে আসেন। বুলবুল আহমেদ, কবরী ও আনোয়ারার অভিনয় এই সিনেমাকে যুগান্তকারী করে তোলে। ১৯৮৬ সালে ‘শুভদা’ নির্মাণ করে তিনি ১৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন—এক বিরল রেকর্ড।
এরপর ১৯৯৭ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, রবীন্দ্র সাহিত্য অবলম্বনে ২০০৫ সালের ‘শাস্তি’, মরমি সাধক হাছন রাজাকে কেন্দ্র করে ২০০২ সালের ‘হাছন রাজা’ এবং ২০০৪ সালের ‘মেঘের পরে মেঘ’—প্রতিটি ছবিই দেশের সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গকে চলচ্চিত্রের ভাষায় সফলভাবে তুলে ধরেছে।
চাষী নজরুল ইসলাম ছিলেন শুধু পরিচালক নয়, দেশের ইতিহাস ও মানুষের বীরত্বকে পর্দায় তুলে আনার এক অদম্য শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প থেকে শুরু করে সাহিত্যের নান্দনিক বর্ণনা—প্রতিটি চলচ্চিত্রই দেশের দর্শককে ভাবতে ও অনুভব করতে শেখায়।
২০১৫ সালের আজকের দিনে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি আমাদের ছেড়ে গেলেও, তার কাজ থাকবে চিরকাল অম্লান। আজ আমরা স্মরণ করি চাষী নজরুল ইসলামকে—যিনি আমাদের চলচ্চিত্র ও ইতিহাসের মধ্যে চিরস্থায়ী পদচিহ্ন রেখে গেছেন। তার সাহস, সৃষ্টি ও দেশপ্রেমের গল্প আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।