সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী! Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু Logo চলতি মাসে ২-৩ টি তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে, রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা Logo পদ্মা ব্যারেজ: ইলিশের ভাল-মন্দ Logo ২৭তম বিসিএসের বঞ্চিত আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন Logo ঈদযাত্রার ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু Logo পরিবেশ দূষণকারীদের ‘মানুষরূপী চতুষ্পদ প্রাণী’ বললেন গাজীপুরের ডিসি   Logo লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সরকারের নিন্দা Logo শতবর্ষে প্রকৃতির কণ্ঠস্বর: স্যার ডেভিড অ্যাটেনবরো, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ুর এক অনন্য যোদ্ধা Logo মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিমান হামলা; ক্ষোভে ফুঁসছেন আফগান ক্রিকেটাররা

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিমান হামলা; ক্ষোভে ফুঁসছেন আফগান ক্রিকেটাররা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ এক বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাটি চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

আফগানিস্তান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে এই হামলা হয়। প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বেসামরিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা করা- ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত, এটি যুদ্ধাপরাধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু বিভাজন ও ঘৃণাই বাড়াবে। আমি জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হোক এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।’

সাবেক আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আশা নিভে গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছে। মায়েরা হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে তাদের ছেলেদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন থেমে গেল।’

এদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।’

মুজাহিদ বলেন, ‘পাকিস্তানের সামরিক শাসন আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। এতে চিকিৎসাধীন অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এটিকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কেবল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাবুল এবং পূর্বাঞ্চলীয় নানগরহার প্রদেশে দুটি স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ‘সব লক্ষ্যবস্তু খুব নির্ভুলভাবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং কেবল সেইসব স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে যেগুলো আফগান তালেবান সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করছিল।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাকার ফিশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধে’ নেমেছে সেনাবাহিনী!

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিমান হামলা; ক্ষোভে ফুঁসছেন আফগান ক্রিকেটাররা

আপডেট সময় ০১:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ এক বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনের বেশি আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাটি চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

আফগানিস্তান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে এই হামলা হয়। প্রায় দুই হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কাবুলে পাকিস্তানি বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহতের খবর শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বেসামরিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা করা- ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত, এটি যুদ্ধাপরাধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে, অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি শুধু বিভাজন ও ঘৃণাই বাড়াবে। আমি জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই, এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা হোক এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।’

সাবেক আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আশা নিভে গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের বোমা হামলায় হত্যা করা হয়েছে। মায়েরা হাসপাতালের গেটে দাঁড়িয়ে তাদের ছেলেদের নাম ধরে ডাকছিলেন। রমজানের ২৮তম রাতে তাদের জীবন থেমে গেল।’

এদিকে আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পাকিস্তান আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।’

মুজাহিদ বলেন, ‘পাকিস্তানের সামরিক শাসন আবারও আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। এতে চিকিৎসাধীন অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এটিকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কেবল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত বিমান হামলা চালিয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কাবুল এবং পূর্বাঞ্চলীয় নানগরহার প্রদেশে দুটি স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত অবকাঠামো ও গোলাবারুদের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ‘সব লক্ষ্যবস্তু খুব নির্ভুলভাবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং কেবল সেইসব স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে যেগুলো আফগান তালেবান সরকারের সহযোগিতায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবহার করছিল।’