ইমরান খান মারা গেছেন, এমন গুজব এখনো বেশ কার্যকরভাবে দাগ কাটছে পাকিস্তানিদের মনে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ জেল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে কাসিম খান। তাঁর আশঙ্কা, জেল কর্তৃপক্ষ হয়তো ইমরান খানের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে কিছু ‘গোপন’ করছেন।
কাসিম খান রয়টার্সকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশের পরেও সাক্ষাৎ না দেওয়া এবং কারাগার থেকে স্থানান্তরের গুজবের মধ্যে পরিবারের কাউকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি যেন সপ্তাহে একবার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন, বিচার বিভাগের এই নির্দেশ আছে। বাবা নিরাপদ আছেন কি না, এটা জানতে না পারাটা এক ধরনের মানসিক নির্যাতন।’
কাসিম খান অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস ধরেই ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাচ্ছি না। আমাদের ভয় হলো, তারা হয়তো কোনো অপ্রত্যাশিত বিষয় গোপন করছে।’
এই পরিস্থিতিতে ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথ এক এক্স পোস্টে লেখেন,’ ফোনেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁর সঙ্গে, কাউকে দেওয়া হচ্ছে না।’
এদিকে ইমরানের খোঁজ দেওয়ার দাবিতে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) রাওয়ালপিন্ডিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের এ বিক্ষোভ ঠেকাতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে। তাঁকে একাধিক মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন। ইমরানের এই পরিণতির পেছনে মূলত দেশটির সর্বময় ক্ষমতার সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইমরান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্বকে বার বার চ্যালেঞ্জ করে আসছিলেন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















