ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। গত শনিবার ইসরায়েলি হামলায় তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের রাজধানী তেহরান ও আশপাশের এলাকার আকাশে নজিরবিহীন এক দৃশ্য দেখা গেছে। রবিবার সকালে নগরীর বহু মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখেন আকাশে ঘন কালো মেঘ, একই সঙ্গে ঝরছে আর কালো রঙের বৃষ্টি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন তেহরান থেকে জানিয়েছেন, এই বৃষ্টির পানিতে তেলের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, বৃষ্টির পানি কালো দেখাচ্ছে এবং মনে হচ্ছে সেটি তেলের সঙ্গে মিশে আছে।

শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, এসব স্থাপনা থেকে সামরিক সংস্থাসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে। হামলার পর নগরীর বায়ুমণ্ডলে তেলের কণা ও কার্বন ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব কণা বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় বৃষ্টির রঙ কালো হয়ে গেছে।
এদিকে টেলিগ্রাম বার্তায় দেওয়া এক সতর্কবার্তায় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তেল ও রাসায়নিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ফলে বিষাক্ত কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এসব কণা মিশে তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এই আগুনের কারণে আরও কালো বা অ্যাসিড বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছে।
রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ও মেঘের মধ্যে প্রবেশ করে। ফলে বৃষ্টি হলে সেই বৃষ্টি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয় এবং তাতে অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

বিশেষ করে ত্বক এবং শ্বাসতন্ত্রের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আইআরসিএস।
অব্যাহত হামলায় তেল ট্যাঙ্কার, পাইপলাইন এবং শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পারস্য উপসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে । তেল নিঃসরণের ফলে সামুদ্রিক প্রাণী, বিশেষ করে কচ্ছপ এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ঘাঁটিতে হামলায় ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত প্রোপেল্যান্ট মাটিতে মিশে যাচ্ছে।
বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস: সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের প্রায় ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ হেক্টর বনভূমি এবং সংরক্ষিত চারণভূমি আগুনে পুড়ে গেছে। এটি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে প্রাকৃতিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে ।
পারমাণবিক ঝুঁকি: নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা হামলার ফলে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে । যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এখন পর্যন্ত বড় ধরনের তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রমাণ পায়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদী ভূগর্ভস্থ দূষণের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন নিঃসরণ: যুদ্ধের প্রথম ১২ দিনেই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র থেকে প্রায় ৩৫,০০০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশাল পরিমাণ জেট ফুয়েল দহন এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















