সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা Logo আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা Logo ১৬ এপ্রিলের আবহাওয়া স্বস্তিদায়ক হতে পারে, তবে এরপর আবার গরম Logo মিরসরাইয়ে হরিণ জবাই! জড়িতদের ধরতে বন বিভাগের অভিযান Logo জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা Logo প্রাণী নির্যাতন বন্ধে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ Logo কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার ক্ষোভ: এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ Logo পহেলা বৈশাখে আকাশ থাকতে পারে মেঘলা, তাপপ্রবাহ চলছে, সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা Logo পহেলা বৈশাখে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশন

ইরান যুদ্ধ: আমিরাতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যু  

ইরান যুদ্ধ: আমিরাতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যু  

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।  নিহত অন্য দুজনের একজন পাকিস্তান ও একজন নেপালের নাগরিক। এ ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আরও বাংলাদেশি আছেন।

গতকাল রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এপি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনজন নিহতের কথা নিশ্চিত করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলেছে, নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ। তিনি আমিরাতের আজমান প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের কাজ করতেন।

সালেহ আহমেদের পুরোনো বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গাজীটেকায় বাড়ি করেন। সালেহ আহমদ স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল শনিবার সকালে ইরানে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৪১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলার দ্বিতীয় দিনে আমিরাতের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৮টি সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া তারা ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩১১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের দিকে ধেয়ে আসা ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে আর ১৩টি সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের পর ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ৩৫টি ড্রোন আমিরাতের ভূখণ্ডের ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের ৫৮ জন নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনার হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া

ইরান যুদ্ধ: আমিরাতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যু  

আপডেট সময় ১০:১৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।  নিহত অন্য দুজনের একজন পাকিস্তান ও একজন নেপালের নাগরিক। এ ঘটনায় অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আরও বাংলাদেশি আছেন।

গতকাল রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এপি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনজন নিহতের কথা নিশ্চিত করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি। তবে বিভিন্ন সূত্র বলেছে, নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ। তিনি আমিরাতের আজমান প্রদেশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি পানি সরবরাহের কাজ করতেন।

সালেহ আহমেদের পুরোনো বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে। পরে তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখার গাজীটেকায় বাড়ি করেন। সালেহ আহমদ স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল শনিবার সকালে ইরানে হামলা শুরু করে। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে ইরান।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ইরানের ছোড়া ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৪১টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলার দ্বিতীয় দিনে আমিরাতের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে ৮টি সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া তারা ২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩১১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের দিকে ধেয়ে আসা ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে আর ১৩টি সাগরে পড়েছে। এ ছাড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের পর ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ৩৫টি ড্রোন আমিরাতের ভূখণ্ডের ভেতরে বিধ্বস্ত হয়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এসব হামলায় পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আমিরাত, মিসর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন ও আফগানিস্তানের ৫৮ জন নাগরিক সামান্য আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনার হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।