ভাষা, সংস্কৃতি, শিক্ষা-অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে চরম বৈষম্য, শোষণ-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ভোটের জবাব মেনে না নিয়ে পাকিস্তানিরা শুরু করে গণহত্যা। এই চরম বর্বরতার জবাব দিতে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাস সামরিকভাবে প্রবল শক্তিশালী পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মনোবল এবং আত্মসম্মানের প্রবল জেদে লড়ে যান বাংলামায়ের সন্তানরা। মুক্তিবাহিনী, মিত্রবাহিনীর যৌথ যুদ্ধে ডিসেম্বরে ক্রমশ এগিয়ে আসতে থাকে বাংলাদেশের বিজয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায় রচিত হয়।
সেই থেকে ডিসেম্বর দেশের বিজয়ের মাস, শত্রুকে হারানোর পরম স্পৃহা। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন ও গর্বের মাস এই ডিসেম্বর।
বছর ঘুরে আবার এসেছে ডিসেম্বর, সারাদেশতো বটেই এমনকি রাজধানীতেও শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে, কেমন এক উৎসব-উৎসব ব্যাপার। উত্তরের বাতাস ছড়িয়ে পড়ছে দেশেরে আনাচে-কানাচে। রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য, সংবাদমাধ্যম, ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামসহ সবখানে চোখে পড়ছে লাল-সবুজ পতাকা, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের প্রতীকী ছবি।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে বিজয়ের মাস ও বিজয় দিবস। যদিও দীর্ঘদিন ধরে ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করা হলেও তা এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত হয়নি। তবু মহান বিজয় মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন থাকে। রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর পালিত হবে বিজয় দিবস।
বিজয়ের মাস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী চলবে যাত্রা প্রদর্শনী। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা যাত্রা দলগুলোর অংশগ্রহণে আজ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এ যাত্রাপালার প্রদর্শনী চলবে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনেও থাকবে বিজয় মাস ও আসন্ন বিজয় দিবস ঘিরে নানা কর্মসূচি।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















