সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

কপ ৩০: জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে রোডম্যাপ চায় ব্রিটেন-জার্মানিসহ ৬০ দেশ, জানালেন মুকিত মজুমদার বাবু

কপ ৩০: জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে রোডম্যাপ চায় ব্রিটেন-জার্মানিসহ ৬০ দেশ, জানালেন মুকিত মজুমদার বাবু

জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু সম্মেলন শেষের দিকে এগোতে থাকায়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে দ্রুত ও ন্যায্যভাবে বন্ধ করার দাবি। বিশ্বজুড়ে হাজারও তরুণ এবং ৬০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ গ্রহণের জন্য ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্সির ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ক্ষমতাধর দেশগুলো একমত না হওয়ায়, অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান পরিবেশবাদিদের।

 

বেলেমে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানি ও রোডম্যাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কপ ৩০-তে নানা বিষয়ে আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রসঙ্গ, যেটি আমাদের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে খুব বেশি সমস্যা তৈরি করছে। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনেও এই বিষয়টি বেশ জোরেশোরে উঠে এসেছিল। কিন্তু তার পরবর্তী কপগুলোতে এই আলোচনা আমরা তেমনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি।’

 

তবে এবার সম্মেলনে বেশ জোরের সঙ্গে দাবি উঠছে জানিয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘এবার ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির রোডম্যাপের দাবি নিয়ে বেশ সোচ্চার। তারা চাইছে রোডম্যাপের মাধ্যমে যেন জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয়টি পর্যায়ক্রমে সমাধান হয়। এই দাবির সঙ্গে ব্রিটেন এবং জার্মানি বেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। সবকিছু মিলিয়ে এই সম্মেলন শেষের দিকে গেলে হয়তো আমরা ভালো ফলাফল আশা করতে পারবো।’

 

এদিকে সম্মেলনে ১শ’র বেশি দেশ আর ৩০ হাজারের অধিক তরুণ-তরুণীর ঐক্যমতে গ্লোবাল ইউথ স্টেটম্যান্ট পেশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ন্যায্যতার সাথে জীবাস্ম জ্বালানী পর্যায়ক্রমে বন্ধ, যথাযথ জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন নিশ্চিতে কার্যকর নৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ। সমাধানের আড়ালে উপনিবেশবাদি আচরণ হচ্ছে অভিযোগ করে তারা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে।

 

জীবাশ্ম  জ্বালানী বন্ধের রোডম্যাপে মার্শাল দীপপুঞ্জ, সিয়েরা লিওন, কেনিয়া এবং ইয়োরোপের অধিকাংশ দেশ যখন সমর্থন দিয়েছে, তখন কার্যকর রোড়ম্যাপ ছাড়া ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলেছে জার্মানি।

 

সম্মেলনে এই নিয়ে যখন মূল আলোচনা তখন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে, দেশের জলবায়ু পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজারে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কেবল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, বরং প্যারিস চুক্তির এবং তৃতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার অধীনে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানানো হয় আলোচনায়।

 

চলমান সম্মেলনকে বিশ্লেষকরা ফলাফল প্রদানে সক্ষম হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, অর্থায়ন, স্বচ্ছতা, বাণিজ্য এবং তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ রাখার ইস্যুতে এখনও রয়ে গেছে বড় মতানৈক্য।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

কপ ৩০: জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে রোডম্যাপ চায় ব্রিটেন-জার্মানিসহ ৬০ দেশ, জানালেন মুকিত মজুমদার বাবু

আপডেট সময় ০৬:৪৩:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু সম্মেলন শেষের দিকে এগোতে থাকায়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে দ্রুত ও ন্যায্যভাবে বন্ধ করার দাবি। বিশ্বজুড়ে হাজারও তরুণ এবং ৬০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ গ্রহণের জন্য ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্সির ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ক্ষমতাধর দেশগুলো একমত না হওয়ায়, অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের আহ্বান পরিবেশবাদিদের।

 

বেলেমে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানি ও রোডম্যাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কপ ৩০-তে নানা বিষয়ে আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রসঙ্গ, যেটি আমাদের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে খুব বেশি সমস্যা তৈরি করছে। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনেও এই বিষয়টি বেশ জোরেশোরে উঠে এসেছিল। কিন্তু তার পরবর্তী কপগুলোতে এই আলোচনা আমরা তেমনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি।’

 

তবে এবার সম্মেলনে বেশ জোরের সঙ্গে দাবি উঠছে জানিয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘এবার ৬০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির রোডম্যাপের দাবি নিয়ে বেশ সোচ্চার। তারা চাইছে রোডম্যাপের মাধ্যমে যেন জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয়টি পর্যায়ক্রমে সমাধান হয়। এই দাবির সঙ্গে ব্রিটেন এবং জার্মানি বেশ অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। সবকিছু মিলিয়ে এই সম্মেলন শেষের দিকে গেলে হয়তো আমরা ভালো ফলাফল আশা করতে পারবো।’

 

এদিকে সম্মেলনে ১শ’র বেশি দেশ আর ৩০ হাজারের অধিক তরুণ-তরুণীর ঐক্যমতে গ্লোবাল ইউথ স্টেটম্যান্ট পেশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ন্যায্যতার সাথে জীবাস্ম জ্বালানী পর্যায়ক্রমে বন্ধ, যথাযথ জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন নিশ্চিতে কার্যকর নৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ। সমাধানের আড়ালে উপনিবেশবাদি আচরণ হচ্ছে অভিযোগ করে তারা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে।

 

জীবাশ্ম  জ্বালানী বন্ধের রোডম্যাপে মার্শাল দীপপুঞ্জ, সিয়েরা লিওন, কেনিয়া এবং ইয়োরোপের অধিকাংশ দেশ যখন সমর্থন দিয়েছে, তখন কার্যকর রোড়ম্যাপ ছাড়া ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলেছে জার্মানি।

 

সম্মেলনে এই নিয়ে যখন মূল আলোচনা তখন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে, দেশের জলবায়ু পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজারে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কেবল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, বরং প্যারিস চুক্তির এবং তৃতীয় জলবায়ু কর্মপরিকল্পনার অধীনে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানানো হয় আলোচনায়।

 

চলমান সম্মেলনকে বিশ্লেষকরা ফলাফল প্রদানে সক্ষম হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, অর্থায়ন, স্বচ্ছতা, বাণিজ্য এবং তাপমাত্রা সীমাবদ্ধ রাখার ইস্যুতে এখনও রয়ে গেছে বড় মতানৈক্য।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান