ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার বিষয়ে বৃহত্তর ঐকমত্য অর্জিত হলেও, জলবায়ু অর্থায়ন এবং ধনী-দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ন্যায়সংগত পদক্ষেপের প্রশ্নে এখনও মারাত্মক বিভেদ রয়েছে। এমন অবস্থায়, জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয়ের মুখে থাকা দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ এবং মানবিক সহায়তায় জোর পরিবেশবিদদের।
সমর্থন ও বিরোধীতায় সম্মেলনের অন্তিম দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে সরে আসার প্রসঙ্গ। ইতিমধ্যে ৮০টির অধিক দেশ যখন জীবাশ্ম জ্বালানী বন্ধে কঠোর সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ চাচ্ছে, তখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের জোট ওপেক এর সরাসরি বিরোধীতা করেছে।
পর্যায়ক্রমে বন্ধের বিপরীতে তারা পর্যায়ক্রমে কমানোর প্রস্তাব তুলে ধরেছে। পরিবেশ কর্মিরা এতে হতাশা জানালেও, আলোচনায় গতি আনতে রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে বিষয়টিকে।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টে, লস অ্যান্ড ডেমেজ তহবিলের যথাযত কার্যকারিতা নিয়ে দরিদ্র দেশগুলোর দাবির প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। সেসময় ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে যাওয়ার পথে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অধিকার ও জীবিকা সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

ওশি ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ড. এস. এম. মোর্শেদ বলেন, ‘ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর আসলে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি যে এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসবে, যাতে আমরা জাস্ট ট্রানজিশন অ্যাকশন প্ল্যান আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারি।’

বিজ্ঞান যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসার কথা বলছে, সেখানে অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কারণে আপস করতে বাধ্য হচ্ছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সঙ্কট কাটাতে পরিবেশবান্ধব সমাধানের তাগিদ পরিবেশবিদদের।
বেলেমে জলবায়ু সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘সম্মেলনের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি আমরা। এরমধ্যে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা না ঘটলে হয়তো আমরা পুরো দিনটাই পেতাম। আশা রাখছি যে শেষদিনের আলোচনা থেকে আমরা হয়তো আশাব্যঞ্জক কিছু পাবো।’
এবারের সম্মেলনের কিছু নেতিবাচক দিক চোখে পড়েছে জানিয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘ সম্মেলনে এবার একধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে। আমরা যারা প্রকৃতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু নিয়ে কাজ করি তারা সম্মেলনে আশায় থাকি যে একটা ভাল কিছু হবে এবং বাংলাদেশের জন্য কিছু একটা ভাল ফল আসবে। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় যে সিদ্ধান্ত আসার কথা সেখানে অগ্রগতিটা ধীর হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি ফসিল ফুয়েল নিয়ে, জাস্ট ট্রানজিশন নিয়ে এবং অভিযোজন নিয়ে একটা ভাল সিদ্ধান্ত আসুক, কিন্তু সেরকমটা আমরা দেখছি না।’
এদিকে যুদ্ধকালীন নির্গমন ও জলবায়ু উষ্ণায়নজনিত ক্ষতির জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৪৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইউক্রেন, এ ধরনের নির্গমনের জন্য এটিই কোনো দেশের প্রথম দাবি।
প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী
ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















