কপ থার্টির সমাপ্তির সময় ঘনিয়ে আসছে এবং বিশ্ব দেখছে, মানবজাতি সংকটের এই মোড়ে এসে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি কার্যকর চুক্তি তৈরি করতে পারে কিনা। জ্বালানী নিরাপত্তা ও প্রচলিত অর্থনীতি রক্ষায় যখন দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ চরমে, তখন নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও অর্ধবেলা বাড়ানো হয়েছে সম্মেলনের কার্যক্রম। এমন অবস্থায় অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত ঐক্যের আহ্বান পরিবেশবিদদের।
ব্রাজিলের বেলেমে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের নির্ধারিত দিন শেষ হলেও, সম্মেলন সমাপ্তি তো দূরের কথা, মূল আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়েই এখনও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি বিশ্বনেতারা। বরং সম্মেলনের শেষ মুহূর্তগুলো কাটছে চরম নাটকীয়তা, হতাশা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে।
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার রূপরেখা নিয়ে ধনী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, তা সম্মেলনটিকে ব্যর্থতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত সম্মেলনের খসড়া চুক্তিটি যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নতুন খসড়া থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে অত্যন্ত দুর্বল ভাষায় কিছু প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, লাতিন আমেরিকা এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোটের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনের স্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ ছাড়া কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর বিপর্যয়কর বলে আখ্যায়িত করেছেন পরিবেশবিদগণ। তাদের মতে, প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিকল্প নেই।
বেলেমে সম্মেলন কেন্দ্র থেকে অচলাবস্থা তুলে ধরে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, ‘বলতে গেলে আমরা হতাশ। প্রতিবার কিছু না কিছু অগ্রগতি হয় তবে এবার জীবাশ্ম জ্বালানী নিয়ে যে রোডম্যাপের কথা বলা হচ্ছিল চূড়ান্ত চুক্তির খসড়ায় সেটি নেই! এই বিষয়টি যুক্ত না করার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ৩০টি দেশ বলে দিয়েছে তারা চুক্তিতে সাইন করবে না। এদিকে রাশিয়া, ভারত এবং সৌদি আরব বলছে যে, যদি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দেখছি যে অনেক দেশই জলবায়ু পরিবর্তন পাশ কাটিয়ে তাদের নিজস্ব স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সবমিলিয়ে খুবই জটিল একটি পরিস্থিতি, এরমধ্যে গতকালের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।’
এদিকে স্বাগতিক দেশ হিসেবে ব্রাজিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুরুতে তারা উচ্চাশা দেখালেও, আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে ব্রাজিল তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী
ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















