সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’

কপ ৩০: ৫ম দিনে সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ, ভেতরের আলোচনাতেও অচলাবস্থা  

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের পঞ্চম দিনে আলোচনার টেবিল এবং মূল ফটক, উভয় স্থানেই ছিলো উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। এই দিনে একদিকে যেমন আদিবাসী ও পরিবেশকর্মীরা সম্মেলনের বাইরে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেন, তেমনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে মূল আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

 

নিরাপদ ধরিত্রী বিনির্মাণের দাবীতে দিনের কার্যক্রম শুরুর আগেই জোরালো আন্দোলনে সম্মেলনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন আদিবাসী অ্যাক্টিভিস্টরা। তাদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ উন্নত দেশগুলো।

 

অন্যদিকে, বেলেমের স্থানীয় যুবারাসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা  একত্রিত হয়ে যুব জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেন। তাদের দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অবিলম্বে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্ধ করতে হবে।  এদিকে এসবের মাঝেও সম্মেলনের আলোচনায় কোন গতি যেমন আসেনি, তেমনই ঐক্যমতেও পৌঁছাতে পারেনি অধিকাংশ দেশ।

 

তথ্য বলছে, জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় বরাদ্দ তহবিলের সিংহভাগ এখনও সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টগুলোতে উঠে আসে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে খাদ্য নিরাপত্তা সংহত করার পাশাপাশি বিপন্ন বন ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা।

রুনা খান, প্রতিষ্ঠাতা, ফ্রেন্ডশিপ

সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, ‘শুধু এই সম্মেলন থেকে আমরা হয়তো জলবায়ু নিয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্তগুলোর পরিবর্তন আনতে পারবো না। তাই আমরা জলবায়ু দাবিগুলো তুলে ধরে সরব ভূমিকা রাখতে প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। সমমনাদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মই আমাদের শক্তি। এর মাধ্যমেই আমরা বিশ্বনেতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে চাপে রাখতে পারবো বলে আশা করছি।’

 

সম্মেলনে অংশ নেয়া বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা তুলে ধরেছি যে আমাদের এখানে ভালো কিছু গ্রিন প্রজেক্ট হতে পারে, যেসবের মাধ্যমে আমরা শিল্পদূষণ কমাতে পারি এবং সেটাকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারি।’

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু সংকটের সমাধান কেবল গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের অংশ।

 

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বেলেম থেকে বলেন, ‘মূল আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নেও সাইড ইভেন্টে অ্যাডাপ্টেশন গোল এক্সিলারেট করার জন্য যে আলোচনাটা এসছে সেটা হলো: ইনক্লুসিভ রেস্টোরেশন এবং ইনক্লুসিভ বায়োডাইভারসিটিকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যাই। একই সঙ্গে ইনোভেটিভ ফাইনান্সিং ফর রেজিলিয়েন্ট ফুড সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে এভাবে আলোচনার মূল কারণই হচ্ছে যে,বাংলাদেশ নানাভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও এসব সাইড ইভেন্টগুলো অংশ নিচ্ছেন এবং এসব পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করছেন।’

 

সার্বিক বাস্তবতায়, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল চুক্তি করাই পর্যাপ্ত নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও তৃণমূলের দাবির প্রতি সংবেদনশীলতার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

কপ ৩০: ৫ম দিনে সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ, ভেতরের আলোচনাতেও অচলাবস্থা  

আপডেট সময় ০১:১৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের পঞ্চম দিনে আলোচনার টেবিল এবং মূল ফটক, উভয় স্থানেই ছিলো উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। এই দিনে একদিকে যেমন আদিবাসী ও পরিবেশকর্মীরা সম্মেলনের বাইরে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেন, তেমনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে মূল আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

 

নিরাপদ ধরিত্রী বিনির্মাণের দাবীতে দিনের কার্যক্রম শুরুর আগেই জোরালো আন্দোলনে সম্মেলনের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন আদিবাসী অ্যাক্টিভিস্টরা। তাদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ উন্নত দেশগুলো।

 

অন্যদিকে, বেলেমের স্থানীয় যুবারাসহ বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা  একত্রিত হয়ে যুব জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেন। তাদের দাবি, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অবিলম্বে ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্ধ করতে হবে।  এদিকে এসবের মাঝেও সম্মেলনের আলোচনায় কোন গতি যেমন আসেনি, তেমনই ঐক্যমতেও পৌঁছাতে পারেনি অধিকাংশ দেশ।

 

তথ্য বলছে, জলবায়ু সঙ্কট মোকাবিলায় বরাদ্দ তহবিলের সিংহভাগ এখনও সবচেয়ে দুর্বল দেশগুলোতে পৌঁছাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের সাইড ইভেন্টগুলোতে উঠে আসে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে খাদ্য নিরাপত্তা সংহত করার পাশাপাশি বিপন্ন বন ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা।

রুনা খান, প্রতিষ্ঠাতা, ফ্রেন্ডশিপ

সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, ‘শুধু এই সম্মেলন থেকে আমরা হয়তো জলবায়ু নিয়ে আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সিদ্ধান্তগুলোর পরিবর্তন আনতে পারবো না। তাই আমরা জলবায়ু দাবিগুলো তুলে ধরে সরব ভূমিকা রাখতে প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। সমমনাদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মই আমাদের শক্তি। এর মাধ্যমেই আমরা বিশ্বনেতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে চাপে রাখতে পারবো বলে আশা করছি।’

 

সম্মেলনে অংশ নেয়া বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা তুলে ধরেছি যে আমাদের এখানে ভালো কিছু গ্রিন প্রজেক্ট হতে পারে, যেসবের মাধ্যমে আমরা শিল্পদূষণ কমাতে পারি এবং সেটাকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারি।’

 

পরিবেশবিদরা বলছেন, জলবায়ু সংকটের সমাধান কেবল গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের অংশ।

 

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বেলেম থেকে বলেন, ‘মূল আলোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নেও সাইড ইভেন্টে অ্যাডাপ্টেশন গোল এক্সিলারেট করার জন্য যে আলোচনাটা এসছে সেটা হলো: ইনক্লুসিভ রেস্টোরেশন এবং ইনক্লুসিভ বায়োডাইভারসিটিকে যেন আমরা এগিয়ে নিয়ে যাই। একই সঙ্গে ইনোভেটিভ ফাইনান্সিং ফর রেজিলিয়েন্ট ফুড সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়গুলো নিয়ে এভাবে আলোচনার মূল কারণই হচ্ছে যে,বাংলাদেশ নানাভাবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও এসব সাইড ইভেন্টগুলো অংশ নিচ্ছেন এবং এসব পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করছেন।’

 

সার্বিক বাস্তবতায়, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল চুক্তি করাই পর্যাপ্ত নয়, বরং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও তৃণমূলের দাবির প্রতি সংবেদনশীলতার মাধ্যমেই তা অর্জন সম্ভব।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান