সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান Logo এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান Logo বাঘ-হাতি হত্যা করলে ৭ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অন্যান্য প্রাণী শিকারেও দ্বিগুণ শাস্তি Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo হাইড্রোজেন ওয়াটার যে উপকারে আসে Logo ট্রাম্পের সামরিক বৈঠক, ইরানও প্রস্তুত! দুই দেশ কি তবে শিগগিরই যুদ্ধে জড়াচ্ছে? Logo তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ নিয়ে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo এবার স্পন্সরশিপ হারাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট Logo মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা! Logo মুহাম্মদ মনির হোসেন সম্পাদিত ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ১৭ই আগস্ট। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি শামসুর রাহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩শে অক্টোবর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে “আধুনিকতার কবি” বলা হয়। সমকালীন জীবন, প্রেম, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্য, গণতন্ত্র, মানবিকতা—সবকিছুই তাঁর কবিতার মূল উপজীব্য।

শামসুর রাহমান জীবদ্দশায় প্রায় ৬০টির বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে: প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০), রৌদ্র করোটিতে, বন্দী শিবির থেকে (মুক্তিযুদ্ধকালীন কাব্য), উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, দুঃসময়, অন্তরে অন্তরে ইদ্যাদি।

তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ছিল প্রতিবাদের ভাষা। গণতন্ত্র ও সাম্য সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর। প্রেম ও মানবিকতা নগর জীবনের প্রেম-বিরহ, একাকিত্ব, ব্যক্তিগত অনুভব।

তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক ও সম্মাননার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯১), এছাড়াও দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা লাভ করেন।

তাঁর কবিতায় যেমন নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন, তেমনি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা দিনগুলোর অগ্নিপ্রতিচ্ছবি। এজন্য শামসুর রাহমানকে “মুক্তিযুদ্ধের কবি” নামেও অভিহিত করা হয়। তার কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’র মতো কালজয়ী কবিতাগুলো তার হাতেই লেখা। তাকে ‘স্বাধীনতার কবি’ বা ‘কবিতার বরপুত্র’ বলা হয়। জীবনানন্দ দাশের পর বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথে নতুন মাত্রা যোগ করতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতাকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশের পরপরই সাহিত্যাঙ্গনের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শামসুর রাহমান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’সহ বেশ কিছু কবিতা। সাংবাদিক হিসেবে শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ‘দৈনিক বাংলা’ ও সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’র সম্পাদক নিযুক্ত হন।

অনেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠক-প্রেমিক সম্প্রদায় আজ তাঁর স্মরণে কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও অন্যান্য শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। শামসুর রহমানের কবিতার প্রতি মানুষের অনুরাগ ও শ্রদ্ধা আজও অটুট।

কবি শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ১৭ই আগস্ট ৭৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তার ইচ্ছানুসারে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ০৩:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

আজ ১৭ই আগস্ট। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি শামসুর রাহমানের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩শে অক্টোবর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে “আধুনিকতার কবি” বলা হয়। সমকালীন জীবন, প্রেম, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্য, গণতন্ত্র, মানবিকতা—সবকিছুই তাঁর কবিতার মূল উপজীব্য।

শামসুর রাহমান জীবদ্দশায় প্রায় ৬০টির বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে আছে: প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০), রৌদ্র করোটিতে, বন্দী শিবির থেকে (মুক্তিযুদ্ধকালীন কাব্য), উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, দুঃসময়, অন্তরে অন্তরে ইদ্যাদি।

তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ছিল প্রতিবাদের ভাষা। গণতন্ত্র ও সাম্য সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর। প্রেম ও মানবিকতা নগর জীবনের প্রেম-বিরহ, একাকিত্ব, ব্যক্তিগত অনুভব।

তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদক ও সম্মাননার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯১), এছাড়াও দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা লাভ করেন।

তাঁর কবিতায় যেমন নাগরিক জীবনের টানাপোড়েন, তেমনি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা দিনগুলোর অগ্নিপ্রতিচ্ছবি। এজন্য শামসুর রাহমানকে “মুক্তিযুদ্ধের কবি” নামেও অভিহিত করা হয়। তার কবিতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন। ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ এবং ‘স্বাধীনতা তুমি’র মতো কালজয়ী কবিতাগুলো তার হাতেই লেখা। তাকে ‘স্বাধীনতার কবি’ বা ‘কবিতার বরপুত্র’ বলা হয়। জীবনানন্দ দাশের পর বাংলা কবিতায় আধুনিকতার পথে নতুন মাত্রা যোগ করতে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতাকেও পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশের পরপরই সাহিত্যাঙ্গনের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শামসুর রাহমান। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’সহ বেশ কিছু কবিতা। সাংবাদিক হিসেবে শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজে। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ‘দৈনিক বাংলা’ ও সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’র সম্পাদক নিযুক্ত হন।

অনেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠক-প্রেমিক সম্প্রদায় আজ তাঁর স্মরণে কবিতা পাঠ, আলোচনা সভা ও অন্যান্য শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। শামসুর রহমানের কবিতার প্রতি মানুষের অনুরাগ ও শ্রদ্ধা আজও অটুট।

কবি শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৬ সালের ১৭ই আগস্ট ৭৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তার ইচ্ছানুসারে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।