সংবাদ শিরোনাম ::
Logo পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান Logo এবার মুস্তাফিজকে নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব আল হাসান Logo বাঘ-হাতি হত্যা করলে ৭ বছর জেল, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অন্যান্য প্রাণী শিকারেও দ্বিগুণ শাস্তি Logo নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা Logo হাইড্রোজেন ওয়াটার যে উপকারে আসে Logo ট্রাম্পের সামরিক বৈঠক, ইরানও প্রস্তুত! দুই দেশ কি তবে শিগগিরই যুদ্ধে জড়াচ্ছে? Logo তাহসান-রোজার বিচ্ছেদ নিয়ে পাওয়া গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo এবার স্পন্সরশিপ হারাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট Logo মাত্র ২ চিকিৎসক দিয়ে দেশের সব বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা! Logo মুহাম্মদ মনির হোসেন সম্পাদিত ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন

কে পি শর্মা ওলি কোথায়? নেপালের শাসনভার কার হাতে দিতে চায় জেন জি? এখন পর্যন্ত যা জানা গেলো

কে পি শর্মা ওলি কোথায়? নেপালের শাসনভার কার হাতে দিতে চায় জেন জি? এখন পর্যন্ত যা জানা গেলো

টানা দুইদিনের সহিংসতার পর পদত্যাগ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন সেটা বড় প্রশ্ন। পদত্যাগের খবরের পর প্রচারিত ভিডিওতে তাঁর বাসভবন এলাকায় একটি হেলিকপ্টার দেখা যায়, ধারণা করা হচ্ছে তিনি সেই হেলিকপ্টারে ছিলেন। নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পদত্যাগের আগে অলি তাঁর দলের মন্ত্রীদের পদ না ছাড়ার নির্দেশ দেন। এরপর দেশটির শিবপুরীর বুধানিলকান্তায় সেনানিবাসে আশ্রয় নেন।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালের পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী ওলি দুবাইতে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন খবর রয়েছে যে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, সূত্র আরও জানিয়েছে যে তিনি দুবাই যাচ্ছেন।

 

কাকে চাইছে নেপালের জেনজিরা

 

নেপালে সামাজিক মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভে নামে জেনারেশন জেড বা জেনজি তরুণরা (১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা প্রজন্ম)। ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটে প্রথম দিনের বিক্ষোভে। এরপর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি  পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর পর নেপালি অন্যান্য নেতারাও পদত্যাগ করেছেন।

তবে সরকার পতনের পরও নেপালে সহিংসতা কমেনি। এখন ওলির পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভার নিয়েছে তারা।

উত্তাল পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। মঙ্গলবার এই ভাষণে অশোক বলেন, ‘বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ও জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আমি বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ করছি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে নেপালে শাসনভার কার হাতে যাচ্ছে এই জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে। ওলির পদত্যাগের পর সবার মনোযোগ এখন কাঠমান্ডুর তরুণ মেয়র বালেন্দ্র শাহের দিকে। অনলাইন প্রচারণায় তাকেই নেপালের পরবর্তী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি সবার কাছে ‘বালেন শাহ’ নামেই পরিচিত। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করার দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে।

 

কে এই বালেন্দ্র শাহ?

১৯৯০ সালের ২৭ এপ্রিল জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। একইসঙ্গে একজন র‍্যাপার, গীতিকার, কবি ও রাজনীতিক। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, যা নেপালের ইতিহাসে প্রথম।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় হিপহপ সংগীতশিল্পী ছিলেন। ২০১৩ সালে ইউটিউব সিরিজ ‘র বার্জ’-এ অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকারে যোগ দেন এবং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

 

মেয়র হওয়ার পর থেকেই বালেন্দ্র শাহ বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপের জন্য আলোচিত হন:

সিটি কাউন্সিলের সভা সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অবৈধ স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেন, যদিও এ নিয়ে আদালত ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। কাঠমান্ডুর ময়লা-আবর্জনা সংকট সমাধানে তিনি সরাসরি বেসরকারি সংস্থাকে কাজে লাগান। নদী দখলমুক্ত করার অভিযানেও তিনি নেতৃত্ব দেন।

 

বিক্ষোভে সমর্থন

‘জেন-জি’ আন্দোলনের শুরু থেকেই বালেন্দ্র শাহ তরুণ প্রজন্মের পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রিয় জেন-জি, সরকারের পদত্যাগের দাবি পূরণ হয়েছে। এখন সংযত হওয়ার সময়। দেশের সম্পদ নষ্ট হওয়া মানে আমাদেরই ক্ষতি। নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠন করা।’

তিনি আরও জানান যে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা কেবল পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পরই হতে পারে।

 

কেন আলোচনায়?

ওলির পদত্যাগের পর দেশজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থাহীন তরুণ প্রজন্ম এখন বিকল্প নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বালেন্দ্র শাহকে সামনে আনছে। তার জনপ্রিয়তা, সাহসী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে থেকে উঠে আসা পরিচয় তাকে এ মুহূর্তে নেপালের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাহসান খান

কে পি শর্মা ওলি কোথায়? নেপালের শাসনভার কার হাতে দিতে চায় জেন জি? এখন পর্যন্ত যা জানা গেলো

আপডেট সময় ০২:০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

টানা দুইদিনের সহিংসতার পর পদত্যাগ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন সেটা বড় প্রশ্ন। পদত্যাগের খবরের পর প্রচারিত ভিডিওতে তাঁর বাসভবন এলাকায় একটি হেলিকপ্টার দেখা যায়, ধারণা করা হচ্ছে তিনি সেই হেলিকপ্টারে ছিলেন। নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, পদত্যাগের আগে অলি তাঁর দলের মন্ত্রীদের পদ না ছাড়ার নির্দেশ দেন। এরপর দেশটির শিবপুরীর বুধানিলকান্তায় সেনানিবাসে আশ্রয় নেন।

 

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেপালের পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী ওলি দুবাইতে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন খবর রয়েছে যে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, সূত্র আরও জানিয়েছে যে তিনি দুবাই যাচ্ছেন।

 

কাকে চাইছে নেপালের জেনজিরা

 

নেপালে সামাজিক মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভে নামে জেনারেশন জেড বা জেনজি তরুণরা (১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা প্রজন্ম)। ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটে প্রথম দিনের বিক্ষোভে। এরপর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি  পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর পর নেপালি অন্যান্য নেতারাও পদত্যাগ করেছেন।

তবে সরকার পতনের পরও নেপালে সহিংসতা কমেনি। এখন ওলির পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দেশের সার্বিক নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেনাবাহিনী। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভার নিয়েছে তারা।

উত্তাল পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল। মঙ্গলবার এই ভাষণে অশোক বলেন, ‘বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা ও জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আমি বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ করছি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংলাপের পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে নেপালে শাসনভার কার হাতে যাচ্ছে এই জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে। ওলির পদত্যাগের পর সবার মনোযোগ এখন কাঠমান্ডুর তরুণ মেয়র বালেন্দ্র শাহের দিকে। অনলাইন প্রচারণায় তাকেই নেপালের পরবর্তী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি সবার কাছে ‘বালেন শাহ’ নামেই পরিচিত। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করার দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে।

 

কে এই বালেন্দ্র শাহ?

১৯৯০ সালের ২৭ এপ্রিল জন্ম নেওয়া বালেন্দ্র শাহ পেশায় একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। একইসঙ্গে একজন র‍্যাপার, গীতিকার, কবি ও রাজনীতিক। ২০২২ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তিনি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হন, যা নেপালের ইতিহাসে প্রথম।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন জনপ্রিয় হিপহপ সংগীতশিল্পী ছিলেন। ২০১৩ সালে ইউটিউব সিরিজ ‘র বার্জ’-এ অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্থানীয় সরকারে যোগ দেন এবং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন।

 

মেয়র হওয়ার পর থেকেই বালেন্দ্র শাহ বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপের জন্য আলোচিত হন:

সিটি কাউন্সিলের সভা সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। অবৈধ স্থাপনা ভাঙার উদ্যোগ নেন, যদিও এ নিয়ে আদালত ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। কাঠমান্ডুর ময়লা-আবর্জনা সংকট সমাধানে তিনি সরাসরি বেসরকারি সংস্থাকে কাজে লাগান। নদী দখলমুক্ত করার অভিযানেও তিনি নেতৃত্ব দেন।

 

বিক্ষোভে সমর্থন

‘জেন-জি’ আন্দোলনের শুরু থেকেই বালেন্দ্র শাহ তরুণ প্রজন্মের পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বিক্ষোভকারীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রিয় জেন-জি, সরকারের পদত্যাগের দাবি পূরণ হয়েছে। এখন সংযত হওয়ার সময়। দেশের সম্পদ নষ্ট হওয়া মানে আমাদেরই ক্ষতি। নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠন করা।’

তিনি আরও জানান যে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা কেবল পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার পরই হতে পারে।

 

কেন আলোচনায়?

ওলির পদত্যাগের পর দেশজুড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থাহীন তরুণ প্রজন্ম এখন বিকল্প নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে বালেন্দ্র শাহকে সামনে আনছে। তার জনপ্রিয়তা, সাহসী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে থেকে উঠে আসা পরিচয় তাকে এ মুহূর্তে নেপালের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।