সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। সুস্থ থাকার জন্য রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এর জন্য, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং কিছু ক্ষেত্রে ঔষধের উপর নির্ভর করতে হয়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না আনলে এই সামান্য সমস্যাটিই ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, স্ট্রোকের মতো বড় বিপদ। উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু সতর্কতা খুবই জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। চলুন, জেনে নিই যেসব খাবার এড়িয়ে চললে কোলেস্টেরলকে সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন

ডিপ ফ্রাইড খাবার, যেমন—চপ, ফিশ ফ্রাই, শিঙাড়া, সমুচা, নাগেট ইত্যাদি কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, শরীরে ট্রান্স ফ্যাটও জোগায়। যা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ঘনঘন এসব খাবার খাওয়া হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ঘরের খাবার হোক বা বাইরের, ভাজাপোড়া থেকে দূরত্ব রাখুন।

অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার নয়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মিষ্টি বা চিনি মেশানো খাবার বেশি থাকলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যেতে পারে। যা কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। রসগোল্লা, সন্দেশ, কেক, মিষ্টি পানীয় এই ধরনের খাবার মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে, তবে প্রতিদিন খেলে তা শরীরের ওপর চাপ ফেলে। চিনির বিকল্প হিসেবে ফল খাওয়া যেতে পারে।

রেড মিট ও চর্বিযুক্ত মাংস কম খান

লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের খাবারে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি পায়। গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস এগুলোতে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের মাংস নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় এবং রক্তনালিতে চর্বি জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। রেড মিটের পরিবর্তে মুরগি, মাছ অথবা ডাল ও বাদামজাত প্রোটিন বেছে নিতে পারেন।

অ্যালকোহল বর্জন করুন বা সীমিত রাখুন

অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত বা মাত্রাতিরিক্ত পান করলে শুধু কোলেস্টেরলই নয়, লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা উচিত। খাবার-দাবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই অভ্যাসগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে সময় থাকতে সতর্ক হন। কোলেস্টেরল একবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা থামানো কঠিন।

নিয়মিত শরীরচর্চা

নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) নিয়ন্ত্রণে থাকে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটা উপকারী। ওজন তোলা বা অন্যান্য শক্তি প্রশিক্ষণের ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয় এবং বিপাক ক্রিয়া উন্নত হয়।

যদি খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন করেও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে ঔষধ বা অন্য কোনো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। জরুরি বিষয় হলো জীবনধারার পরিবর্তন, যা ওষুধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর।

 

 

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ

আপডেট সময় ০৬:২৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। সুস্থ থাকার জন্য রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। এর জন্য, খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং কিছু ক্ষেত্রে ঔষধের উপর নির্ভর করতে হয়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না আনলে এই সামান্য সমস্যাটিই ডেকে আনতে পারে হৃদরোগ, স্ট্রোকের মতো বড় বিপদ। উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ এই দুইয়ের মিলিত প্রভাব শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু সতর্কতা খুবই জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। চলুন, জেনে নিই যেসব খাবার এড়িয়ে চললে কোলেস্টেরলকে সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন

ডিপ ফ্রাইড খাবার, যেমন—চপ, ফিশ ফ্রাই, শিঙাড়া, সমুচা, নাগেট ইত্যাদি কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি নয়, শরীরে ট্রান্স ফ্যাটও জোগায়। যা খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। ঘনঘন এসব খাবার খাওয়া হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ঘরের খাবার হোক বা বাইরের, ভাজাপোড়া থেকে দূরত্ব রাখুন।

অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার নয়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মিষ্টি বা চিনি মেশানো খাবার বেশি থাকলে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যেতে পারে। যা কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। রসগোল্লা, সন্দেশ, কেক, মিষ্টি পানীয় এই ধরনের খাবার মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে, তবে প্রতিদিন খেলে তা শরীরের ওপর চাপ ফেলে। চিনির বিকল্প হিসেবে ফল খাওয়া যেতে পারে।

রেড মিট ও চর্বিযুক্ত মাংস কম খান

লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের খাবারে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি পায়। গরু, খাসি বা ভেড়ার মাংস এগুলোতে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের মাংস নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় এবং রক্তনালিতে চর্বি জমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। রেড মিটের পরিবর্তে মুরগি, মাছ অথবা ডাল ও বাদামজাত প্রোটিন বেছে নিতে পারেন।

অ্যালকোহল বর্জন করুন বা সীমিত রাখুন

অল্প পরিমাণ অ্যালকোহলও শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মিত বা মাত্রাতিরিক্ত পান করলে শুধু কোলেস্টেরলই নয়, লিভারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা উচিত। খাবার-দাবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পর্যাপ্ত ঘুম এই অভ্যাসগুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে সময় থাকতে সতর্ক হন। কোলেস্টেরল একবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা থামানো কঠিন।

নিয়মিত শরীরচর্চা

নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধি পায় এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) নিয়ন্ত্রণে থাকে। অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং বা সাঁতার কাটা উপকারী। ওজন তোলা বা অন্যান্য শক্তি প্রশিক্ষণের ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয় এবং বিপাক ক্রিয়া উন্নত হয়।

যদি খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন করেও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে ঔষধ বা অন্য কোনো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। জরুরি বিষয় হলো জীবনধারার পরিবর্তন, যা ওষুধের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর।