সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত Logo ইবোলা ভাইরাসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Logo হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু Logo থাইল্যান্ডে সবচেয়ে বড় ডাইনোসর নাগাটাইটানের খোঁজ Logo বৃষ্টি-লঘুচাপ, আগামী কয়েকদিন যেমন থাকতে পারে আবহাওয়া Logo শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন কমিটি গঠন Logo এবারের কোরবানির হাট কাঁপাবে যশোরের ‘বিসিএস ক্যাডার’ Logo সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমানের জানাজায় অংশগ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo সুন্দরবনের বিপদ বাড়ছেই: ভৈরব-রূপসার তলদেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক-ভারী ধাতু   Logo রোববার রাত থেকে টানা ১৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

গণহত্যার সঙ্গে গাজার পরিবেশও হত্যা করেছে ইসরায়েল

গণহত্যার সঙ্গে গাজার পরিবেশও হত্যা করেছে ইসরায়েল

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা গাজা যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে, আহত প্রায় ১ লাখ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে জেনোসাইড বা গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। জেনোসাইড ছাড়াও গাজায় ইসরায়েল মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশও নষ্ট করে দিয়েছে, যাকে বলা হয় ‘ইকোসাইড’।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ইউরোপীয় আইন ইনস্টিটিউটের সংজ্ঞা মতে ‘ইকোসাইড’ বলতে মানুষ হত্যার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করাকে বুঝায়। এই ধারণাটি সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক আর্থার গ্যালস্টন প্রবর্তন  করেছিলেন। শত্রু বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গাছপালা এবং ফসল নির্মূল করতে আমেরিকার সামরিক বাহিনী যে ভেষজনাশক এবং ডিফোলিয়েন্ট এজেন্ট অরেঞ্জ (প্রতিবেশ ধ্বংসকারী পদার্থ) ব্যবহার করেছিলো তা বুঝাতে এই ইকোসাইড শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

গাজার পানি উৎপাদনের সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অক্সফাম জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের পানির কূপের ৮৮ শতাংশ এবং পানি লবণমুক্ত করার সব ক’টি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

গাজার মানুষ ক্ষুধার্ত। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য উৎপাদনের জন্য সামান্য ভূমি আছে গাজায়। কিন্তু এই ভূমির অর্ধেকের বেশি সংঘাতের কারণে ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

যুদ্ধের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বাগানের পর বাগান ধ্বংস হয়েছে। চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে ফসল ও সবজির খেত। এক বছর  ধরে গাজায় বোমাবর্ষণ চলছে। ফলে সেখানে খাদ্যাভাব বেড়েই চলেছে।

অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত গাজায় মানুষের মাথাগোঁজার ঠাই পুনরায় নির্মাণ করতে এবং দখল করা জায়গায় দ্রুত ইহুদি বসতি নির্মাণ করতে গিয়ে মারাত্মক পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় ৬ কোটি মেট্রিক টন ক্ষতিকর কার্বন গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে।

ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির ৬০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অট্টালিকা ও এখনও দাড়িয়ে আছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এমন ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ চার কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হবে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব ধ্বংসস্তূপ ২০০৮ থেকে গত বছর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত গাজা ভূখণ্ডে সঞ্চিত আবর্জনার ১৪ গুণ এবং ২০১৬-১৭ সালে ইরাকের মসুলে হওয়া যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের পাঁচ গুণের বেশি।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় উড়িয়ে দিল ভারত

গণহত্যার সঙ্গে গাজার পরিবেশও হত্যা করেছে ইসরায়েল

আপডেট সময় ১২:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর ২০২৪

হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা গাজা যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে, আহত প্রায় ১ লাখ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে জেনোসাইড বা গণহত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। জেনোসাইড ছাড়াও গাজায় ইসরায়েল মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশও নষ্ট করে দিয়েছে, যাকে বলা হয় ‘ইকোসাইড’।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ইউরোপীয় আইন ইনস্টিটিউটের সংজ্ঞা মতে ‘ইকোসাইড’ বলতে মানুষ হত্যার জন্য পরিবেশ ধ্বংস করাকে বুঝায়। এই ধারণাটি সত্তরের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক আর্থার গ্যালস্টন প্রবর্তন  করেছিলেন। শত্রু বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গাছপালা এবং ফসল নির্মূল করতে আমেরিকার সামরিক বাহিনী যে ভেষজনাশক এবং ডিফোলিয়েন্ট এজেন্ট অরেঞ্জ (প্রতিবেশ ধ্বংসকারী পদার্থ) ব্যবহার করেছিলো তা বুঝাতে এই ইকোসাইড শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

গাজার পানি উৎপাদনের সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অক্সফাম জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের পানির কূপের ৮৮ শতাংশ এবং পানি লবণমুক্ত করার সব ক’টি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

গাজার মানুষ ক্ষুধার্ত। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য উৎপাদনের জন্য সামান্য ভূমি আছে গাজায়। কিন্তু এই ভূমির অর্ধেকের বেশি সংঘাতের কারণে ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

যুদ্ধের ফলে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বাগানের পর বাগান ধ্বংস হয়েছে। চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে ফসল ও সবজির খেত। এক বছর  ধরে গাজায় বোমাবর্ষণ চলছে। ফলে সেখানে খাদ্যাভাব বেড়েই চলেছে।

অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত গাজায় মানুষের মাথাগোঁজার ঠাই পুনরায় নির্মাণ করতে এবং দখল করা জায়গায় দ্রুত ইহুদি বসতি নির্মাণ করতে গিয়ে মারাত্মক পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় ৬ কোটি মেট্রিক টন ক্ষতিকর কার্বন গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে।

ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির ৬০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অট্টালিকা ও এখনও দাড়িয়ে আছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এমন ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ চার কোটি ২০ লাখ টনেরও বেশি হবে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, এসব ধ্বংসস্তূপ ২০০৮ থেকে গত বছর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত গাজা ভূখণ্ডে সঞ্চিত আবর্জনার ১৪ গুণ এবং ২০১৬-১৭ সালে ইরাকের মসুলে হওয়া যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের পাঁচ গুণের বেশি।