কর্তন নিষিদ্ধ বৃক্ষের তালিকাভুক্ত বা বন অধিদপ্তরের বিপদাপন্ন ঘোষিত কোনো গাছ কাটলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে, অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণ বনায়নের শাস্তিও পেতে হতে পারে। এমন বিধান রেখে ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ গেজেট জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের বিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বৃক্ষের ক্ষতিসাধনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে।
এতে আরও বলা হয়, বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা ধাতব বস্তু দিয়ে বৃক্ষের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান প্রচারে বন অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকা গেজেটে প্রকাশ এবং প্রয়োজনে হালনাগাদের কথাও বলা হয়।
অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে: কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রজাতির বৃক্ষ বা গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক ব্যবহৃত বৃক্ষ কর্তনের ক্ষেত্রে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
ব্যক্তি মালিকানাধীন রোগাক্রান্ত বা মৃত বৃক্ষ, ঝড়ে পড়া বৃক্ষ, সড়ক যোগাযোগে বাধা সৃষ্টিকারী বৃক্ষ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বৃক্ষ এবং জীবন বা সম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বৃক্ষ কর্তনে আগাম অনুমোদন লাগবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, বন সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ‘বন আইন, ১৯২৭’ এর ৪ ও ৬ ধারার অধীন গেজেটভুক্ত বন, অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন, সামাজিক বন, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরের বৃক্ষ কর্তন ও অপসারণ করা যাবে। এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান বন সংরক্ষক বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেবেন।
অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষের তালিকায় থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বৃক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্তন করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বৃক্ষের প্রজাতি, সংখ্যা, আনুমানিক উচ্চতা, বুক সমান উচ্চতায় বেড়, কর্তনের কারণসহ নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন বনভূমিতে এ ধারার বিধান প্রযোজ্য হবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মৌজা রিজার্ভে গাছ কাটার ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারার পরিবর্তে ‘চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাকস রেগুলেশন, ১৯৯০’-এর অধীন প্রণীত বিধিমালার রুল ৪১-এ প্রযোজ্য হবে। কোনো আবেদন মঞ্জুর হলে কর্তিত বৃক্ষের বিপরীতে একই এলাকায় নির্দিষ্ট প্রজাতি ও সংখ্যার বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে বন সংরক্ষকের কাছে আপিল করতে পারবেন।
অধ্যাদেশে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ফরেস্ট অফিসারদের মামলা দায়ের, তদন্ত, তল্লাশি, জব্দ এবং আদালতে বন অধিদপ্তরের পক্ষে মামলা পরিচালনার ক্ষমতাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















