বিপুল সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পকে টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুরে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সভাকক্ষে ‘অ্যাওয়ারনেস রেইজিং ক্যাম্পেইন অন এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্টস এন্ড রাইটস অ্যাট লেদার সেক্টর’ শিরোনামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সলিডার সুইসের তত্ত্বাবধানে ওশি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায়, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সচেতনতামূলক সভায় প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের হেড অফ ইভেন্ট খন্দকার আহমেদ শাহেদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার শিক্ষা শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। শুধু আমি ভালো থাকলে হবে না, সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হবে। আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন আমরা পরিষ্কার থাকলাম কিন্তু বাসার কাজের লোক পরিষ্কার না থাকলে আমার পরিবার সুরক্ষিত না। ঠিক তেমনি পরিবেশ সুরক্ষায় নিজের পাশাপাশি অপরকেও সচেতন করতে হবে। তা না হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।
চামড়া শিল্পের গুরুত্ব আরোপ করে শাহেদ আহমেদ বলেন, এই শিল্পের কোন কিছুই ফিল না নয়, চামড়া শিল্পের বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ক্যাপসুলের খোসা। ইতোমধ্যে সাভারে একটি কারখানা এই কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ভৈরবে টেকসই চামড়া শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত
শ্রমিক ও মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলে যেমন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায় তেমনি কারখানার কাজের মান উন্নত হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি কারখানার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন কারখানায় যারা আঠা লাগায় তারা ঠিকভাবে খাবার খেতে পারতো না। আঠার গন্ধে পেটে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে তাদের এই অবস্থা হয়েছিল। পরবর্তীতে মুখে মাক্স ব্যবহার করায় এখন শারীরিকভাবে তারা অনেকটাই সুস্থ। শ্রমিকরা সুস্থ থাকা কাজের মান আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, চামড়া শিল্প আমাদের দেশে অনেক পুরনো একটি শিল্প। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই আমাদের দেশে চামড়া শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। চামড়া শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন হাজারীবাগ এবং সাভারে ট্যানারি শিল্প একই অবস্থায় আছে। হাজারীবাগে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করেছে বুড়িগঙ্গাকে আর সাভারে ট্যানারি শিল্প ধ্বংস করছে ধলেশ্বরীকে। তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এই শিল্পকে বাঁচানোর পাশাপাশি পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখার।
সভায় আগত শ্রমিক ও মালিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন প্রতিনিয়ত আপনাদের বার্তা দিয়ে যাচ্ছে সচেতন হওয়ার জন্য। এখান থেকে আপনাদের শিক্ষা নিতে হবে, সচেতন হতে হবে। তাদের এই কার্যক্রম থেকে সচেতন হয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতে হবে।

সভায় চামড়া শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য করণীয় নিয়ে উপস্থিত সকলের মাঝে অংশদারীত্বমূলক আলোচনা করা হয়। চামড়া শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে সুষ্ঠভাবে কাজ করা একান্ত জরুরি তাই এই সভা সবার সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভায় সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, সংগঠক, স্কুল কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভার সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের হেড অফ ইভেন্ট খন্দকার আহমেদ শাহেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এ এম এম খায়রুল আনাম এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন বন্যা।
জোবায়ের আহমেদ 




















