সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সর্বশেষ খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সর্বশেষ খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ (ছবি: সম্প্রতি প্লাস্টিক বিপদকে দানব হিসেবে দেখানো ভাস্কর্য)

বাংলাদেশ প্রস্তাবিত গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সর্বশেষ খসড়া দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

১৩ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক আন্তঃসরকারি আলোচনাসভা (আইএনসি-৫.২)-এর দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়।

 

জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের প্রস্তাব ৫/১৪ অনুযায়ী, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে একটি আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়নের ম্যান্ডেট রয়েছে। তবে বাংলাদেশ মনে করছে, খসড়াটি এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতে, খসড়াটি দুর্বল ও অপর্যাপ্ত কারণ এতে সরবরাহপক্ষীয় পদক্ষেপ বাদ দেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি প্লাস্টিকের পূর্ণ জীবনচক্র, স্বাস্থ্য প্রভাব, ক্ষতিকর রাসায়নিক, বর্জ্য ব্যবস্থার অগ্রাধিকার ও আন্তঃসীমান্ত দূষণ রোধে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য উপায়ও নেই; বরং জটিল ও স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে, যা বৈশ্বিক সংকটের গুরুত্ব উপেক্ষা করে।

 

বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তির মূল অংশে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক, নিঃসরণ ও প্রাথমিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এই খসড়া মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যত কিছুই করে না। এটি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামো, যা উৎপাদকদের দায়মুক্ত রাখে এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য বন্ধে কোন বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ দেয় না। অর্থবহ সংশোধন ছাড়া খসড়াটি সমর্থনযোগ্য নয় বলেও বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে এবং জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

 

এদিনের আরেক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্পদের আহ্বান জানান।

 

তিনি সার্কুলার অর্থনীতি মডেল প্রচার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকর বন্ধ, টেকসই পণ্যের নকশা উন্নয়ন এবং বর্জ্য খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব তুলে ধরে তিনি ক্ষতিকর প্লাস্টিক পর্যায়ক্রমে বন্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈশ্বিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সর্বশেষ খসড়া প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০২:২৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ প্রস্তাবিত গ্লোবাল প্লাস্টিকস চুক্তির সর্বশেষ খসড়া দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

১৩ আগস্ট সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক আন্তঃসরকারি আলোচনাসভা (আইএনসি-৫.২)-এর দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশের এই অবস্থান প্রকাশ করা হয়।

 

জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের প্রস্তাব ৫/১৪ অনুযায়ী, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে একটি আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক চুক্তি প্রণয়নের ম্যান্ডেট রয়েছে। তবে বাংলাদেশ মনে করছে, খসড়াটি এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতে, খসড়াটি দুর্বল ও অপর্যাপ্ত কারণ এতে সরবরাহপক্ষীয় পদক্ষেপ বাদ দেওয়া হয়েছে।  পাশাপাশি প্লাস্টিকের পূর্ণ জীবনচক্র, স্বাস্থ্য প্রভাব, ক্ষতিকর রাসায়নিক, বর্জ্য ব্যবস্থার অগ্রাধিকার ও আন্তঃসীমান্ত দূষণ রোধে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যদিকে, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নির্ভরযোগ্য উপায়ও নেই; বরং জটিল ও স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে, যা বৈশ্বিক সংকটের গুরুত্ব উপেক্ষা করে।

 

বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তির মূল অংশে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক, নিঃসরণ ও প্রাথমিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এই খসড়া মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যত কিছুই করে না। এটি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামো, যা উৎপাদকদের দায়মুক্ত রাখে এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর প্লাস্টিক পণ্য বন্ধে কোন বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ দেয় না। অর্থবহ সংশোধন ছাড়া খসড়াটি সমর্থনযোগ্য নয় বলেও বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে এবং জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

 

এদিনের আরেক অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও লক্ষ্যভিত্তিক সম্পদের আহ্বান জানান।

 

তিনি সার্কুলার অর্থনীতি মডেল প্রচার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকর বন্ধ, টেকসই পণ্যের নকশা উন্নয়ন এবং বর্জ্য খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবেশ ও স্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব তুলে ধরে তিনি ক্ষতিকর প্লাস্টিক পর্যায়ক্রমে বন্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈশ্বিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান।