ঘাস পরিবারের সর্ববৃহৎ সদস্য ‘বাঁশের’ জন্য বিশেষ দিন

ঘাস পরিবারের সর্ববৃহৎ সদস্য ‘বাঁশের’ জন্য বিশেষ দিন

বাঁশ মূলত একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ। ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য। বাঁশ গাছ গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়, এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলা হয়। প্রায় ১৫০ ধরণের বাঁশ হয়ে থাকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। গৃহ নির্মাণ থেকে গৃহস্থালী দ্রব্য, বাদ্য থেকে খাদ্য, বাঁশ কাজে লাগে সর্বক্ষেত্রে। বাঙালির সর্বনাশে ‘বাঁশ খাওয়া’ অথবা ‘বাঁশ দেওয়ার’ কথাতো রীতিমতো চলতি সংস্কৃতি। সর্বনাশা প্লাস্টিক আসার আগে এই বাঁশই ছিল সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যের মধ্যে প্রতিদিনের সঙ্গী। সেই বাঁশকে যেন ভুলে যেতে বসেছিল মানুষ। আর উপকারী বন্ধু বাঁশ সংরক্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০১০ সাল থেকে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিবস।

 

বাঁশ প্রকৃতির এক চমৎকার দান, টেকসই সভ্যতার অকৃত্রিম বন্ধু, এসব স্মরণ করিয়ে দিতে ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন’ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। পরিবেশ রক্ষা, টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্পের জন্য বাঁশ চাষে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখাই এর উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নও এর অন্যতম লক্ষ্য।

২০০৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু কংগ্রেসের’ অষ্টম আসর বসেছিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সেখানেই ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) দাপ্তরিকভাবে দিবসটির সূচনা করে। শতাধিক দেশ এ সংস্থার সদস্য।

 

বাঙালির জীবনে বাঁশ

এই আধুনিক সময়েও বাংলার গ্রাম-মফস্বলের বাঁশকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। আজও গৃহস্থালী কাজে, নির্মাণ, কৃষিতে বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে। নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় ঠেকানোর অন্যতম ভরসা বাঁশ ঝাড়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বাঁশ একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান, যা গৃহনির্মাণ, আসবাবপত্র, কৃষি, মৎস্য শিকার, এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বাঁশ থেকে তৈরি হয় ঘরবাড়ি, বেড়া, কুলা, ঝুড়ি, মাছ ধরার সরঞ্জাম, এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প, যা বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীক।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঙালির জীবনে বাঁশের ব্যবহার দেখা যায়, যেমন নাড়ি কাটতে বাঁশের চাঁছি ব্যবহার এবং শেষকৃত্যে কবরেও লাগে বাঁশ।

 

বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশ

দেশে বাঁশের বাজারের মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি, যা প্রমাণ করে বাঁশ শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম অবলম্বন।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার যাদুরানী বাজারে প্রতি শুক্রবার সকালে ভিড় জমে যায় বাঁশ কিনতে আসা পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের। এই হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। শুধু যাদুরানী নয়, দেশের অর্ধশতাধিক বড় বাঁশের হাট একইভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে।

বাঁশের বাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছে। রাঙামাটির বন বিভাগের হিসাবে শুধু ওই জেলা থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বাঁশ বিক্রি হয়। রাজশাহী অঞ্চলে বাঁশ বেচাকেনার বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের স্থানীয় হাটগুলোতে মাসে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, যা বছরে প্রায় তিন কোটি টাকার সমান।

 

বাহারের বাঁশ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গ্লোবাল ব্যাম্বু রিসোর্সেস প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায় চীনে। দেশটিতে মেলে ৫০০ প্রজাতির বাঁশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে রয়েছে ২৩২ প্রজাতি। আর ৩৩ প্রজাতির বাঁশ থাকা বাংলাদেশ আছে তালিকার অষ্টমে।

 

পরিবেশের বন্ধু বাঁশ

সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশভিত্তিক ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য তৈরি করে দেশের তরুণ উদ্যোক্তারাও যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববাজারে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প খুঁজতে গিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই বাঁশ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ।

বাঁশ গবেষক ও পরিবেশবিদদের মতে, বাঁশ একটি পুনঃনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কার্বন শোষণ করে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমায়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও বাঁশ একটি কার্যকর হাতিয়ার।

প্লাস্টিক বাজার দখলের আগে বাঁশের পণ্যই ছিল ভরসা। এখন প্লাস্টিক দূষণে দুনিয়া যখন অতিষ্ঠ তখন আবার বাঁশই হতে পারে টেকসই আস্থা।

 

বাঁশ খাওয়া

কেবল বাহ্যিক ব্যবহার নয়, উদরপূর্তিতেও কাজে লাগে বাঁশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের অনেক জাতিগোষ্ঠীর খাবার বাঁশকোঁড়ল। বাঁশের মধ্যে রয়েছে ভালো পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বাঁশের মধ্যে অনেক ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে, যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাঁশে থাকা খাদ্য উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কচি বাঁশ সেদ্ধ করে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়,বাঁশ কাণ্ডের আচার খাওয়া যায়।

 

বিরল পান্ডার টিকে থাকার ভরসা বাঁশ 

বিশ্বের বিরল প্রাণী পান্ডার আবাসস্থল ও জীবনচক্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাঁশ। কচি বাঁশ পান্ডার প্রিয়, একই সঙ্গে এই বাঁশ চিবিয়ে শরীরে পানির যোগান নিশ্চিত করে পান্ডারা।

সব মিলিয়ে প্রকৃতি ও জীবনের স্বার্থে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঘাস, বাঁশের অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবহার আবারও জনপ্রিয় করা সচেতন বিশ্ববাসীর কাম্য।

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

ঘাস পরিবারের সর্ববৃহৎ সদস্য ‘বাঁশের’ জন্য বিশেষ দিন

আপডেট সময় ১২:৫০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাঁশ মূলত একটি চিরহরিৎ উদ্ভিদ। ঘাস পরিবারের বৃহত্তম সদস্য। বাঁশ গাছ গুচ্ছ হিসেবে জন্মায়, এসব গুচ্ছকে বাঁশ ঝাড় বলা হয়। প্রায় ১৫০ ধরণের বাঁশ হয়ে থাকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। গৃহ নির্মাণ থেকে গৃহস্থালী দ্রব্য, বাদ্য থেকে খাদ্য, বাঁশ কাজে লাগে সর্বক্ষেত্রে। বাঙালির সর্বনাশে ‘বাঁশ খাওয়া’ অথবা ‘বাঁশ দেওয়ার’ কথাতো রীতিমতো চলতি সংস্কৃতি। সর্বনাশা প্লাস্টিক আসার আগে এই বাঁশই ছিল সাধারণ মানুষের নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যের মধ্যে প্রতিদিনের সঙ্গী। সেই বাঁশকে যেন ভুলে যেতে বসেছিল মানুষ। আর উপকারী বন্ধু বাঁশ সংরক্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০১০ সাল থেকে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ দিবস।

 

বাঁশ প্রকৃতির এক চমৎকার দান, টেকসই সভ্যতার অকৃত্রিম বন্ধু, এসব স্মরণ করিয়ে দিতে ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন’ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়। পরিবেশ রক্ষা, টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন শিল্পের জন্য বাঁশ চাষে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখাই এর উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নও এর অন্যতম লক্ষ্য।

২০০৯ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু কংগ্রেসের’ অষ্টম আসর বসেছিল থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সেখানেই ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশন (ডব্লিউবিও) দাপ্তরিকভাবে দিবসটির সূচনা করে। শতাধিক দেশ এ সংস্থার সদস্য।

 

বাঙালির জীবনে বাঁশ

এই আধুনিক সময়েও বাংলার গ্রাম-মফস্বলের বাঁশকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। আজও গৃহস্থালী কাজে, নির্মাণ, কৃষিতে বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে। নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় ঠেকানোর অন্যতম ভরসা বাঁশ ঝাড়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বাঁশ একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান, যা গৃহনির্মাণ, আসবাবপত্র, কৃষি, মৎস্য শিকার, এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় সকল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। বাঁশ থেকে তৈরি হয় ঘরবাড়ি, বেড়া, কুলা, ঝুড়ি, মাছ ধরার সরঞ্জাম, এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প, যা বাংলাদেশের নিজস্ব শিল্প-সংস্কৃতির প্রতীক।

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঙালির জীবনে বাঁশের ব্যবহার দেখা যায়, যেমন নাড়ি কাটতে বাঁশের চাঁছি ব্যবহার এবং শেষকৃত্যে কবরেও লাগে বাঁশ।

 

বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশ

দেশে বাঁশের বাজারের মূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি, যা প্রমাণ করে বাঁশ শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম অবলম্বন।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও জেলার যাদুরানী বাজারে প্রতি শুক্রবার সকালে ভিড় জমে যায় বাঁশ কিনতে আসা পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের। এই হাটে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা। শুধু যাদুরানী নয়, দেশের অর্ধশতাধিক বড় বাঁশের হাট একইভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে।

বাঁশের বাজারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এক ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছে। রাঙামাটির বন বিভাগের হিসাবে শুধু ওই জেলা থেকে বছরে প্রায় ৭০ কোটি টাকার বাঁশ বিক্রি হয়। রাজশাহী অঞ্চলে বাঁশ বেচাকেনার বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে মানিকগঞ্জের স্থানীয় হাটগুলোতে মাসে ২৫ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়, যা বছরে প্রায় তিন কোটি টাকার সমান।

 

বাহারের বাঁশ

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গ্লোবাল ব্যাম্বু রিসোর্সেস প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায় চীনে। দেশটিতে মেলে ৫০০ প্রজাতির বাঁশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে রয়েছে ২৩২ প্রজাতি। আর ৩৩ প্রজাতির বাঁশ থাকা বাংলাদেশ আছে তালিকার অষ্টমে।

 

পরিবেশের বন্ধু বাঁশ

সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশভিত্তিক ইকো-ফ্রেন্ডলি পণ্য তৈরি করে দেশের তরুণ উদ্যোক্তারাও যুক্ত হয়েছেন বিশ্ববাজারে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প খুঁজতে গিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই বাঁশ নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ছে, যা বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ।

বাঁশ গবেষক ও পরিবেশবিদদের মতে, বাঁশ একটি পুনঃনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কার্বন শোষণ করে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমায়। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধেও বাঁশ একটি কার্যকর হাতিয়ার।

প্লাস্টিক বাজার দখলের আগে বাঁশের পণ্যই ছিল ভরসা। এখন প্লাস্টিক দূষণে দুনিয়া যখন অতিষ্ঠ তখন আবার বাঁশই হতে পারে টেকসই আস্থা।

 

বাঁশ খাওয়া

কেবল বাহ্যিক ব্যবহার নয়, উদরপূর্তিতেও কাজে লাগে বাঁশ। বিশেষ করে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের অনেক জাতিগোষ্ঠীর খাবার বাঁশকোঁড়ল। বাঁশের মধ্যে রয়েছে ভালো পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

বাঁশের মধ্যে অনেক ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে, যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বাঁশে থাকা খাদ্য উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কচি বাঁশ সেদ্ধ করে সবজি হিসেবে খাওয়া যায়,বাঁশ কাণ্ডের আচার খাওয়া যায়।

 

বিরল পান্ডার টিকে থাকার ভরসা বাঁশ 

বিশ্বের বিরল প্রাণী পান্ডার আবাসস্থল ও জীবনচক্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বাঁশ। কচি বাঁশ পান্ডার প্রিয়, একই সঙ্গে এই বাঁশ চিবিয়ে শরীরে পানির যোগান নিশ্চিত করে পান্ডারা।

সব মিলিয়ে প্রকৃতি ও জীবনের স্বার্থে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঘাস, বাঁশের অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবহার আবারও জনপ্রিয় করা সচেতন বিশ্ববাসীর কাম্য।