বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া শিল্পকে টেকসই শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার নিয়ে মৈত্রীবন্ধন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) গাজীপুর সদর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সভাকক্ষে ‘অ্যালায়েন্স বিল্ডিং মিটিং অন এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্টস এন্ড রাইটস অ্যাট লেদার সেক্টর’ শিরোনামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সলিডার সুইসের তত্ত্বাবধানে ওশি ফাউন্ডেশনের পরিচালনায়, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “বিল্ডিং এ সাসটেইনেবল লেদার সেক্টর ইন বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকিত মজুমদার বাবু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, আজকে চামড়া শিল্পের এই যে দুর্গতি, আমরা এই দুর্গতিকে যদি শনাক্ত না করি এবং সমাধানে না যাই, তাহলে এই শিল্পটাকে একসময় হারিয়ে ফেলবো। সারা বিশ্ব কমপ্লায়েন্সের দিকে জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন মাত্র চারটি কোম্পানি গ্রীন ইন্ডাস্ট্রি বা কমপ্লায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে চামড়া রপ্তানি করতে পারছে বাকিগুলো চামড়া রপ্তানি করতে পারছে না।
চামড়া শিল্পের সমস্যা গুলোকে সমাধানে রূপান্তরিত করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রকৃতিবন্ধু। তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরের যারা চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত তাদের নড়েচড়ে বসতে হবে এই শিল্পের উন্নয়ন সাধনে।
মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, পোশাক শিল্পের পরে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় এই চামড়া শিল্প দিন দিন রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। এই রুগ্ন শিল্পকে যদি চাঙ্গা করতে হয়, ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হয়, দেশের রপ্তানি আয় কে বাড়াতে হয় তাহলে এই চামড়া শিল্পকে জোরেশোরে ধাক্কা দিতে হবে। তাহলে চামড়া শিল্প পোশাকশিল্পের মত একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু খায়ের। অদূর ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পও বাংলাদেশের একটি অপার সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠবে এই আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের সাথে যারা জড়িত আছেন, তাদের যথাযথ আগ্রহ, যথাযথ মনোনিবেশ এবং সচেতনতার মধ্য দিয়ে দেশের যে বিদ্যমান আইনি পরিকাঠামো আছে, সেই আইনগুলো যদি আমরা মেনে চলি তাহলে চামড়া শিল্প আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে এবং আমাদের রপ্তানি আয় আরো বৃদ্ধি পাবে।

বিশেষ অতিথি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সোহেল রানা বলেন, আমাদের দেশে প্রচুর সুযোগ থাকার পরেও বিদেশ থেকে চামড়া আমদানি করে জুতা উৎপাদন করতে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশে উন্নত মানের চামড়া উৎপাদন সম্ভব। পাশাপাশি পরিবেশ ঠিক রেখে চামড়া শিল্পকে বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ড হিসাবে তুলে ধরতে আমাদের সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন কমপ্লায়েন্স এর উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, লেদার ওয়র্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সহ বিভিন্ন সনদের সঠিক মানদন্ড না থাকলে ইউরোপ ও আমেরিকা আমাদের কাছ থেকে চামড়া কিনবে না। অতিসত্বর আমাদের এই মানদন্ড পূরণ করে কমপ্লায়েন্স হতে হবে। তাহলে আমাদের চামড়াগুলো বিদেশে রপ্তানি করতে পারবো এবং দেশে যে চামড়ার দামটা পড়ে গেছে সেটা পুনরুদ্ধার করতে পারব।

সভায় চামড়া শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য করণীয় নিয়ে উপস্থিত সকলের মাঝে অংশদারীত্বমূলক আলোচনা হয়।
এছাড়াও টেকসই চামড়া খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি, চামড়া উৎপাদন খাদ ও ট্যানারির পরিবেশগত সমস্যার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত মান রক্ষার বিষয়ে শ্রমিক, মালিক ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে সভায় আলোচনা হয়।
সভায় সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা, সংগঠক, স্কুল কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালনায় ছিলেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের হেড অফ ইভেন্ট খন্দকার আহমেদ শাহেদ, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর খায়রুল আনাম এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন বন্যা।
জোবায়ের আহমেদ 




















