সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু Logo হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন Logo ২২০০ পিঁপড়া পাচার চেষ্টায় চীনা নাগরিকের এক বছরের জেল Logo চট্টগ্রামে নিজেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার ডেকে চিকিৎসা নিলো কাক! Logo বাংলাদেশে প্রতি তিন শিশুর মধ্যে এক জন মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে Logo এপ্রিল এখন পর্যন্ত সহনীয়, দেশে এবছরের গ্রীষ্ম কম ভোগাবে আশা আবহাওয়াবিদের   Logo আজ স্বাধীনতা পদক প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ‘ধান খাওয়ায়’ মেরে ফেলা হলো বাবুই পাখির ২৯ বাচ্চা, এক জনের কারাদণ্ড Logo পাবলো এসকোবারের ‘কোকেন’ জলহস্তীদের নিয়ে বিপাকে কলম্বিয়া Logo জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হতে পারে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

চিরতরে চলে গেলেন ‘সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’  

চিরতরে চলে গেলেন ‘সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’  

পেপে নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উরুগুয়ে শাসন করা সাবেক এই গেরিলা নেতা তার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’ নামে। পরিমিত জীবনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন।

 

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, “আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, জনগণের জন্য যা করেছেন, সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।”

বিবিসি জানায়, মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা না গেলেও তিনি খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

 

রাষ্ট্রপ্রধান থাকা অবস্থায়ও হোসে মুজিকা ভোগবাদকে সমালোচনা করে সাধারণ জীবনযাপন চালিয়ে যান এবং সামাজিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। তার এই অবস্থান তাকে লাতিন আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

 

মাত্র ৩৪ লাখ মানুষের দেশ উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, তা কল্পনারও বাইরে।

 

এক সময় তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির পাশাপাশি বই পড়া এবং জমিতে কাজ করাও তার ভালো লাগত। এই শ্রমের প্রতি ভালোবাসা তিনি পেয়েছিলেন তার মায়ের কাছ থেকে। মুজিকা দেশটির রাজধানী মন্টেভিডিওর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হন।

 

বিবিসি জানায়, ১৯৬০-এর দশকে তিনি ‘টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট’ (এমএলএন-টি) গঠনে সহায়তা করেন। এটি ছিল একটি বামপন্থী শহুরে গেরিলা সংগঠন, যারা হামলা, অপহরণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জড়িত ছিল। যদিও মুজিকা সবসময় দাবি করতেন, তিনি কখনো কাউকে হত্যা করেননি।

 

কিউবার বিপ্লব এবং আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রে প্রভাবিত হয়ে এমএলএন-টি তখনকার উরুগুয়ের সরকারের বিরুদ্ধে গোপন প্রতিরোধ শুরু করে। এই সময় মুজিকাকে অন্তত চারবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭০ সালে একবার তাকে ছয়বার গুলি করা হয় তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

তিনি দু’বার কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। একবার তিনি ১০৫ জন এমএলএন-টি বন্দীর সঙ্গে একটি টানেল ব্যবহার করে পালিয়ে যান। এটিকে উরুগুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জেল পালানোর ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

 

১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে মুজিকা মোট ১৪ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। বন্দিদশায় তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘদিন তাকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে মুজিকা কারামুক্ত হন।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন মুকিত মজুমদার বাবু

চিরতরে চলে গেলেন ‘সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’  

আপডেট সময় ০৫:৩০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

পেপে নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত উরুগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন। আজ বুধবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উরুগুয়ে শাসন করা সাবেক এই গেরিলা নেতা তার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে গরিব প্রেসিডেন্ট’ নামে। পরিমিত জীবনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন।

 

বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন, “আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, জনগণের জন্য যা করেছেন, সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।”

বিবিসি জানায়, মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা না গেলেও তিনি খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

 

রাষ্ট্রপ্রধান থাকা অবস্থায়ও হোসে মুজিকা ভোগবাদকে সমালোচনা করে সাধারণ জীবনযাপন চালিয়ে যান এবং সামাজিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। তার এই অবস্থান তাকে লাতিন আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক পরিসরে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

 

মাত্র ৩৪ লাখ মানুষের দেশ উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, তা কল্পনারও বাইরে।

 

এক সময় তিনি বলেছিলেন, রাজনীতির পাশাপাশি বই পড়া এবং জমিতে কাজ করাও তার ভালো লাগত। এই শ্রমের প্রতি ভালোবাসা তিনি পেয়েছিলেন তার মায়ের কাছ থেকে। মুজিকা দেশটির রাজধানী মন্টেভিডিওর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হন।

 

বিবিসি জানায়, ১৯৬০-এর দশকে তিনি ‘টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট’ (এমএলএন-টি) গঠনে সহায়তা করেন। এটি ছিল একটি বামপন্থী শহুরে গেরিলা সংগঠন, যারা হামলা, অপহরণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জড়িত ছিল। যদিও মুজিকা সবসময় দাবি করতেন, তিনি কখনো কাউকে হত্যা করেননি।

 

কিউবার বিপ্লব এবং আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রে প্রভাবিত হয়ে এমএলএন-টি তখনকার উরুগুয়ের সরকারের বিরুদ্ধে গোপন প্রতিরোধ শুরু করে। এই সময় মুজিকাকে অন্তত চারবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭০ সালে একবার তাকে ছয়বার গুলি করা হয় তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

তিনি দু’বার কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। একবার তিনি ১০৫ জন এমএলএন-টি বন্দীর সঙ্গে একটি টানেল ব্যবহার করে পালিয়ে যান। এটিকে উরুগুয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জেল পালানোর ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।

 

১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে মুজিকা মোট ১৪ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। বন্দিদশায় তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘদিন তাকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে মুজিকা কারামুক্ত হন।