সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ‘আন্তর্জাতিক পাপের’ চড়া মূল্য দিচ্ছে পাকিস্তান

পাকিস্তান, দেশটির নাম শুনলেই প্রকৃতির রুক্ষ রূপ কল্পনায় আসতে পারে অনেকের। শুষ্ক, মরুময়ও মনে হতে পারে। কিন্তু এই শুষ্ক পাকিস্তানই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত বিপর্যস্ত হচ্ছে বন্যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালে, সেবছর মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে প্রাণ হারায় প্রায় এক হাজার ৭০০ জন। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে তখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল আরও ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

 

এবারের বর্ষায় পাকিস্তানে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যা হয়েছে। জুনে প্রাণ গেছে প্রায় ৮০০ জনের, আগস্টে কেবল খাইবার অঞ্চলে প্রাণ গেছে ৪০০ শতাধিক।

কেন পাকিস্তানে এমন বিপর্যয় নিয়মিত হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার অন্যতম একটি দেশ হয়ে উঠছে পাকিস্তান, এজন্য পাকিস্তানের দায়ই বা কতটুকু।

 

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভুক্তভোগী পাকিস্তানিদের কথা, বিশেষজ্ঞমত এবং তাদের ‘আন্তর্জাতিক পাপের’ শিকার হওয়ার ক্ষোভমিশ্রিত আক্ষেপ।

 

বিবিসির প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ:

ভৌগোলিক কারণে পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। দেশটিকে শুধু ভারী মৌসুমি বৃষ্টিই মোকাবিলা করতে হচ্ছে না, সঙ্গে আছে চরম তাপমাত্রা ও খরা।

 

পাশাপাশি, হিমবাহ গলতে শুরু করায় নতুন নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে, এই হিমবাহগুলো ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগের প্রধান আবহাওয়াবিদ ড. সাইয়েদ ফয়সাল সাঈদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রবণতা আরও খারাপ হচ্ছে।

 

তার মতে, “আগামী কয়েক দশকে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বাড়বে। তাই এটি এক বছরের মধ্যে সমাধানযোগ্য কোনো সমস্যা নয়।”

 

তবে অনেক পাকিস্তানির কাছে এটি এক কঠিন বাস্তবতা, কারণ দেশটি বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের এক শতাংশেরও কম অবদান রাখে।

 

“আন্তর্জাতিক পাপের জন্য আমরা বড় মূল্য দিচ্ছি,” বলেন ড. আমজাদ আলী খান, যিনি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে জলবায়ু ইস্যুতে পরামর্শ দেন। এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এই প্রদেশেই।

 

এই ক্ষোভ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সব দিকেই শোনা যাচ্ছে।

 

সাবেক ফেডারেল জলবায়ুমন্ত্রী সেনেটর শেরি রহমান সম্প্রতি বলেছেন, “গ্লোবাল সাউথে যখন প্রাণহানি ঘটে, নদীগুলো ভেঙে যায় আর জীবিকা বিলীন হয়ে যায়, তখন পাকিস্তানের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য আসলে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয় না।”

 

তবে কেউ কেউ বলছেন, দেশটি নিজস্ব অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে তা নিয়ে দ্বিধায় আছে। জলবায়ু সহনশীলতায় বিনিয়োগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকে প্রতিরক্ষার মতো খাতের। এ বছরের পাকিস্তানের ফেডারেল বাজেটও তার প্রমাণ।

সামগ্রিক ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে প্রায় ৯.৭ মিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

 

শেরি রহমান এই কাটছাঁটের সমালোচনা করে বলেন, এতে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

বাজেট ঘোষণার সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে বিনিয়োগ না করি, তবে অন্যরা কেন আমাদের সহায়তা করবে?”

 

এদিকে পাকিস্তানের জলবায়ু তহবিলের আসল রূপ জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাজেটে প্রতিফলিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলী তাওকির শেখ।

 

তিনি জানান, আইএমএফ-এর সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ফেডারেল সরকার জলবায়ু-সম্পর্কিত খাতে অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রেখেছে। তবে তার দাবি, এর মধ্যে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো কিছু পুরনো প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত আছে।

 

 

তার কথায়, বাজেটের বাইরে বিভিন্ন খাতে এক হাজারেরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না থাকায়, চরম ক্ষতিকর দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া বা সতর্ক করাটাই এখন পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখ্য কাজ।

 

তবে এখানেও ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’ রয়েছে। যেমন ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘ বিস্ফোরণের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব কঠিন।

 

আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে বাতাস হঠাৎ করে ওপরের দিকে উঠে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে স্থানীয়ভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে।

 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ ধরনের বৃষ্টি একের পর এক গ্রাম ধ্বংস করেছে।

তবে ড. সাঈদ বলেছেন, যদিও কয়েক দিন আগে থেকে ক্লাউডবার্স্টের সঠিক সময় জানা যায় না। তবুও যে ধরনের আবহাওয়ায় এটি ঘটতে পারে তা শনাক্ত করা সম্ভব। মানে ঝুঁকিপূর্ণ জোন নির্ণয় করার কথা বলছেন তিনি।

 

“যখন আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দেয়, তখনই সব জেলা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত,” বলেন ড. সাঈদ।

 

তবে তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, “আমি বলছি না যে এটি নিখুঁত।”

 

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথ এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিএমডি নতুন রাডার ও স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন কিনছে এবং স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাসের মডেলিং উন্নত করার কাজ করছে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: ‘আন্তর্জাতিক পাপের’ চড়া মূল্য দিচ্ছে পাকিস্তান

আপডেট সময় ১২:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

পাকিস্তান, দেশটির নাম শুনলেই প্রকৃতির রুক্ষ রূপ কল্পনায় আসতে পারে অনেকের। শুষ্ক, মরুময়ও মনে হতে পারে। কিন্তু এই শুষ্ক পাকিস্তানই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিয়মিত বিপর্যস্ত হচ্ছে বন্যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল ২০২২ সালে, সেবছর মৌসুমি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে প্রাণ হারায় প্রায় এক হাজার ৭০০ জন। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে তখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। আর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন ছিল আরও ১৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

 

এবারের বর্ষায় পাকিস্তানে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যা হয়েছে। জুনে প্রাণ গেছে প্রায় ৮০০ জনের, আগস্টে কেবল খাইবার অঞ্চলে প্রাণ গেছে ৪০০ শতাধিক।

কেন পাকিস্তানে এমন বিপর্যয় নিয়মিত হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার অন্যতম একটি দেশ হয়ে উঠছে পাকিস্তান, এজন্য পাকিস্তানের দায়ই বা কতটুকু।

 

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভুক্তভোগী পাকিস্তানিদের কথা, বিশেষজ্ঞমত এবং তাদের ‘আন্তর্জাতিক পাপের’ শিকার হওয়ার ক্ষোভমিশ্রিত আক্ষেপ।

 

বিবিসির প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ:

ভৌগোলিক কারণে পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। দেশটিকে শুধু ভারী মৌসুমি বৃষ্টিই মোকাবিলা করতে হচ্ছে না, সঙ্গে আছে চরম তাপমাত্রা ও খরা।

 

পাশাপাশি, হিমবাহ গলতে শুরু করায় নতুন নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে, এই হিমবাহগুলো ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগের প্রধান আবহাওয়াবিদ ড. সাইয়েদ ফয়সাল সাঈদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রবণতা আরও খারাপ হচ্ছে।

 

তার মতে, “আগামী কয়েক দশকে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বাড়বে। তাই এটি এক বছরের মধ্যে সমাধানযোগ্য কোনো সমস্যা নয়।”

 

তবে অনেক পাকিস্তানির কাছে এটি এক কঠিন বাস্তবতা, কারণ দেশটি বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের এক শতাংশেরও কম অবদান রাখে।

 

“আন্তর্জাতিক পাপের জন্য আমরা বড় মূল্য দিচ্ছি,” বলেন ড. আমজাদ আলী খান, যিনি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে জলবায়ু ইস্যুতে পরামর্শ দেন। এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এই প্রদেশেই।

 

এই ক্ষোভ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সব দিকেই শোনা যাচ্ছে।

 

সাবেক ফেডারেল জলবায়ুমন্ত্রী সেনেটর শেরি রহমান সম্প্রতি বলেছেন, “গ্লোবাল সাউথে যখন প্রাণহানি ঘটে, নদীগুলো ভেঙে যায় আর জীবিকা বিলীন হয়ে যায়, তখন পাকিস্তানের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য আসলে কোনো অর্থ বরাদ্দ হয় না।”

 

তবে কেউ কেউ বলছেন, দেশটি নিজস্ব অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে তা নিয়ে দ্বিধায় আছে। জলবায়ু সহনশীলতায় বিনিয়োগের সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকে প্রতিরক্ষার মতো খাতের। এ বছরের পাকিস্তানের ফেডারেল বাজেটও তার প্রমাণ।

সামগ্রিক ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমিয়ে আনা হয়েছে প্রায় ৯.৭ মিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

 

শেরি রহমান এই কাটছাঁটের সমালোচনা করে বলেন, এতে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে।

 

বাজেট ঘোষণার সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আমরা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে বিনিয়োগ না করি, তবে অন্যরা কেন আমাদের সহায়তা করবে?”

 

এদিকে পাকিস্তানের জলবায়ু তহবিলের আসল রূপ জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বাজেটে প্রতিফলিত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ আলী তাওকির শেখ।

 

তিনি জানান, আইএমএফ-এর সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ফেডারেল সরকার জলবায়ু-সম্পর্কিত খাতে অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রেখেছে। তবে তার দাবি, এর মধ্যে বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো কিছু পুরনো প্রকল্পও অন্তর্ভুক্ত আছে।

 

 

তার কথায়, বাজেটের বাইরে বিভিন্ন খাতে এক হাজারেরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না থাকায়, চরম ক্ষতিকর দুর্যোগের পূর্বাভাস দেওয়া বা সতর্ক করাটাই এখন পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখ্য কাজ।

 

তবে এখানেও ‘যদি’ ও ‘কিন্তু’ রয়েছে। যেমন ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘ বিস্ফোরণের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগে থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা খুব কঠিন।

 

আর্দ্র ও স্যাঁতসেঁতে বাতাস হঠাৎ করে ওপরের দিকে উঠে গেলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে স্থানীয়ভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটে।

 

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এ ধরনের বৃষ্টি একের পর এক গ্রাম ধ্বংস করেছে।

তবে ড. সাঈদ বলেছেন, যদিও কয়েক দিন আগে থেকে ক্লাউডবার্স্টের সঠিক সময় জানা যায় না। তবুও যে ধরনের আবহাওয়ায় এটি ঘটতে পারে তা শনাক্ত করা সম্ভব। মানে ঝুঁকিপূর্ণ জোন নির্ণয় করার কথা বলছেন তিনি।

 

“যখন আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দেয়, তখনই সব জেলা প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা উচিত,” বলেন ড. সাঈদ।

 

তবে তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, “আমি বলছি না যে এটি নিখুঁত।”

 

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথ এক উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিএমডি নতুন রাডার ও স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন কিনছে এবং স্বল্পমেয়াদী পূর্বাভাসের মডেলিং উন্নত করার কাজ করছে।

 

সূত্র: বিবিসি বাংলা