সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি Logo গ্যাস সংকটের মুখে এলপিজি আমদানির ঋণ সুবিধা সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক Logo নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে Logo ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব Logo দূষিত বাতাসে সোমবারও এক নম্বর ঢাকা Logo বিলুপ্ত জাতের প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি : মৎস্য উপদেষ্টা Logo যে কারণে হলো তাহসান-রোজার বিবাহ বিচ্ছেদ Logo আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক Logo আজ কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস Logo আজ বায়ুদূষণের তালিকার শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’
ইউসিএল এবং গার্ডিয়ানের যৌথ অনুসন্ধান: ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস

জলবায়ু পরিবর্তন ইউরোপকেও ছাড়ছে না, মিঠা পানির সংরক্ষণশীল সম্পদ দ্রুত কমছে

জলবায়ু পরিবর্তন ইউরোপকেও ছাড়ছে না, মিঠা পানির সংরক্ষণশীল সম্পদ দ্রুত কমছে

জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে এশিয়া, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়। এজন্য বার বার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা, জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হলেও উন্নত দেশগুলো সে অর্থে সাড়া দিচ্ছে না। তবে প্রকৃতির রোষ তাদেরকেও ছাড়ছে না, উন্নত দেশগুলোতেও দেখা দিচ্ছে নিজেদের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, ইউরোপের বিশাল অংশের মিঠা পানির সংরক্ষণশীল সম্পদ দ্রুত কমছে। বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানি সংকট তীব্র হচ্ছে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপে বিশেষ ভাবে স্পেন, ইতালি থেকে শুরু করে পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। দুই দশকের স্যাটেলাইট ডেটার বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

 

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস ও সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর যৌথ প্রচেষ্ঠায় ২০০২–২০২৪ সালের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তন নিরীক্ষণ করে। পানি ভারী, ভূগর্ভস্থ জল, নদী, হ্রদ, মৃত্তিকা আর্দ্রতা ও হিমবাহের পরিবর্তন সিগন্যালের মাধ্যমে শনাক্ত হয়। এইভাবে স্যাটেলাইটগুলো ইউরোপের পানির ওজন নির্ধারণ করতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া, যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ এবং পর্তুগালে পানির স্তর কিছুটা ঠিক থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, রোমানিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত।

ইউসিএল এর প্রফেসর মোহাম্মদ শামসুদ্দুহা বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্যাদি রাজনীতিবিদদের জন্য সতর্কবার্তা।

যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতি কিছুটা মিশ্র প্রকৃতির। পশ্চিম অংশ পানি থাকলেও পূর্ব অংশ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে এবং শুষ্ক হবার প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে। বর্ষার ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে-গ্রীষ্মে ভারী বর্ষা এবং পরে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০–২০২২ সালের মধ্যে মোট পানি গ্রহণ কমলেও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রধানত সাধারণ ব্যবহার ও কৃষিকাজের জন্য। ইউরোপীয় কমিশনের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পানির ব্যবহার কমাতে অন্তত ১০ শতাংশ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইড্রোলজি প্রফেসর হান্না ক্লোক বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রবণতা খুবই উদ্বেগজনক। যদি আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হয় তবে তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মসূচি

ইউসিএল এবং গার্ডিয়ানের যৌথ অনুসন্ধান: ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস

জলবায়ু পরিবর্তন ইউরোপকেও ছাড়ছে না, মিঠা পানির সংরক্ষণশীল সম্পদ দ্রুত কমছে

আপডেট সময় ০২:৫০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে এশিয়া, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়। এজন্য বার বার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা, জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হলেও উন্নত দেশগুলো সে অর্থে সাড়া দিচ্ছে না। তবে প্রকৃতির রোষ তাদেরকেও ছাড়ছে না, উন্নত দেশগুলোতেও দেখা দিচ্ছে নিজেদের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, ইউরোপের বিশাল অংশের মিঠা পানির সংরক্ষণশীল সম্পদ দ্রুত কমছে। বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানি সংকট তীব্র হচ্ছে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। দক্ষিণ ও মধ্য ইউরোপে বিশেষ ভাবে স্পেন, ইতালি থেকে শুরু করে পোল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। দুই দশকের স্যাটেলাইট ডেটার বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

 

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা ওয়াটারশেড ইনভেস্টিগেশনস ও সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর যৌথ প্রচেষ্ঠায় ২০০২–২০২৪ সালের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তন নিরীক্ষণ করে। পানি ভারী, ভূগর্ভস্থ জল, নদী, হ্রদ, মৃত্তিকা আর্দ্রতা ও হিমবাহের পরিবর্তন সিগন্যালের মাধ্যমে শনাক্ত হয়। এইভাবে স্যাটেলাইটগুলো ইউরোপের পানির ওজন নির্ধারণ করতে সক্ষম।

গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়া, যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ এবং পর্তুগালে পানির স্তর কিছুটা ঠিক থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, রোমানিয়া, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্যের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত।

ইউসিএল এর প্রফেসর মোহাম্মদ শামসুদ্দুহা বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্যাদি রাজনীতিবিদদের জন্য সতর্কবার্তা।

যুক্তরাজ্যে পরিস্থিতি কিছুটা মিশ্র প্রকৃতির। পশ্চিম অংশ পানি থাকলেও পূর্ব অংশ শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে এবং শুষ্ক হবার প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে। বর্ষার ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে-গ্রীষ্মে ভারী বর্ষা এবং পরে দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম দেখা যাচ্ছে।

ইউরোপীয় পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০–২০২২ সালের মধ্যে মোট পানি গ্রহণ কমলেও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রধানত সাধারণ ব্যবহার ও কৃষিকাজের জন্য। ইউরোপীয় কমিশনের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে পানির ব্যবহার কমাতে অন্তত ১০ শতাংশ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইড্রোলজি প্রফেসর হান্না ক্লোক বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই প্রবণতা খুবই উদ্বেগজনক। যদি আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্মে প্রয়োজনীয় বৃষ্টি না হয় তবে তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে।