জলবায়ু পরিবর্তনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ভুগছে বেশি। এর মধ্যে ভীষণ গরমের পর চরম আদ্র আবহাওয়া, মেঘ বিস্ফোরণের মতো ঘটনা এবং টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্থ ভারত ও পাকিস্তান। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্থ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যর্থ পাকিস্তানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। গত জুন থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় পাকিস্তানজুড়ে অন্তত ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭৫ শিশু, ৫৬৮ জন পুরুষ ও ১৬৩ জন নারী।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন।
পাকিস্তানে এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে, এখানে মৃতের সংখ্যা ৫০৪। এরপর পাঞ্জাব প্রদেশে ৩০৪, সিন্ধুতে ৮০, বেলুচিস্তানে ৩০, গিলগিত-বালতিস্তানে ৪১, আজাদ কাশ্মীরে ৩৮ এবং রাজধানী ইসলামাবাদে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
![]()
এনডিএমএ জানিয়েছে, মৃত্যুর পাশাপাশি দেশজুড়ে ১ হাজার ৬৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩২১ শিশু, ৪৫০ পুরুষ ও ২৯২ জন নারী। সবচেয়ে বেশি ৬৬১ জন আহত হয়েছেন পাঞ্জাবে, এরপর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ২১৮ জন ও সিন্ধুতে ৮৭ জন।

গত ২৬ জুন থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৬৮টি অভিযানের মধ্য দিয়ে দুর্গত এলাকাগুলো থেকে ৩০ লাখের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এনডিএমএ, প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও অন্য সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ২৬ জুন থেকে কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ১ হাজার ৬৯০টি ত্রাণশিবির ও মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে এনডিএমএ।

পাকিস্তানজুড়ে ১২ হাজার ৫৬৯টি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও ৬ হাজার ৫০৯টি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ২৩৯টি সেতু ও প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 

















