তাপমাত্রা রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে ২০১১-২০২০ দশকটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম দশক। তবে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) এবং অন্যান্য জলবায়ু সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান দশক অর্থাৎ ২০২১-২০৩০ দশকটি আরও উষ্ণ হওয়ার পথে রয়েছে। ২০২৩ সালটি রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল এবং এরপর সেই রেকর্ড ভেঙেছিল ২০২৪ ও ২০২৫ সালও উষ্ণতম বছরগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আসলে গত চারটি দশক ধরেই বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিটি নতুন দশক পূর্ববর্তী দশকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানো থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি। অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বেড়েই চলেছে, আর এতে করে জলবায়ু সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

জাতিসংঘের মতে, ২০২৫ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে গরম বছরগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। চলতি বছরটিই মানব ইতিহাসের শীর্ষ তিন উষ্ণ বছরের তালিকায় জায়গা পেতে যাচ্ছে— যা পৃথিবীকে আরও গভীরভাবে ঠেলে দিচ্ছে জলবায়ু সংকটের দিকে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত জাতিসংঘের সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএমও) প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল হবে রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে উষ্ণ তিন বছর। সংস্থার ১৭৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সাল দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর হতে পারে।

আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০) সামনে রেখে ডব্লিউএমও জানিয়েছে— গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ডব্লিউএমও মহাপরিচালক সেলেস্টে সাওলো বলেন, “আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, উষ্ণতা ২ ডিগ্রির নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৪২ ডিগ্রি বেশি ছিল। মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, “বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানবজাতির জন্য নৈতিক ব্যর্থতা। ১.৫ ডিগ্রির ওপরে উষ্ণতা বৃদ্ধি মানে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বৈষম্য ও অপ্রত্যাবর্তনীয় ক্ষতি।”
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে— যেখানে বরফের পরিমাণ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। পাশাপাশি, এ বছর বন্যা, তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মতো জলবায়ু দুর্যোগ বিশ্বজুড়ে জীবন ও খাদ্যব্যবস্থায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।
তবে আশার খবর হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু দেশ আগাম দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১৫ সালে যেখানে মাত্র ৫৬টি দেশে এমন ব্যবস্থা ছিল, এখন সংখ্যা বেড়ে ১১৯টিতে পৌঁছেছে। তবুও এখনো বিশ্বের ৪০% দেশে এই ব্যবস্থা নেই— যা দ্রুত পূরণ করা জরুরি বলে জানিয়েছে ডব্লিউএমও।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















