প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিশাল তারতম্য রেখেই শেষ হলো জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের ৩০তম আসর। ব্রাজিলে জলবায়ু আলোচনা শনিবার (২১ নভেম্বর) শেষ হয় অত্যন্ত দুর্বল চুক্তির মাধ্যমে। যেখানে পৃথিবীকে ভয়ঙ্করভাবে উত্তপ্ত করে তুলছে এমন জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের কাঙ্ক্ষিত রোডম্যাপের কোনো উল্লেখই নেই। তবে চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য তহবিল বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে চাইছিল যে অভিযোজন অর্থায়ন তিনগুণ বাড়ানোর নিশ্চয়তা থাকুক। চূড়ান্ত নথিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে অভিযোজন অর্থায়ন “অন্তত তিনগুণ” করার আহ্বান রাখা হয়েছে।
যদিও গত বছরের সম্মেলনে ধনী দেশগুলো জলবায়ু বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এখনো সেই অর্থ বিতরণ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিতে খুব বেশি আস্থা রাখতে পারছেন না পরিবেশবাদীরা।
এদিকে বড় কোনো প্রত্যাশা পূরণ না করলেও এই চুক্তি জলবায়ু সম্মেলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এসময় এই চুক্তি নিয়ে পরিবেশবাদী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষের বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।
ধরিত্রী রক্ষায় সিদ্ধান্তের জন্য আবারও অপেক্ষা আগামী ৩১তম আসরের দিকে অর্থাৎ তুরস্কে। ২১ নভেম্বর সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেক বেলা বাড়িয়ে ২২ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত করা হয়।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোর একটি কপ। এটি কেবল আলোচনা নয়, বরং অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, খাদ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নতুন প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের সংকেত।
সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে কূটনীতিকরা চূড়ান্ত বিবৃতির ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য একটি বড় জয় হয়েছে। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক তাপমাত্রা মোকাবিলায় কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেই বিষয়ে কোনো ব্যবহারিক নির্দেশনা নেই।
তেল, গ্যাস এবং কয়লার ব্যবহার দ্রুত বন্ধ না করলে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও দাবানলের মতো ধ্বংসাত্মক প্রভাব আরও বাড়বে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















