গ্রীষ্মে ঠা ঠা রোদে গরম পড়বে। বর্ষায় ঝরবে মুষলধারে বৃষ্টি। শীতে পড়বে হাঁড় কনকনে শীত। এটাই আবহমান বাংলাদেশের চিরাচরিত আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য। পঞ্জিকার পাতায় পৌষ-মাঘ মিলে শীত ঋতু। বিগত কয়েক বছরে পৌষে উত্তরাঞ্চল ছাড়া দেশে সেভাবে শীত তার আসল রূপ দেখায়নি বা দেখাতে পারেনি। লাখো এসি-যানবাহনের শহর ঢাকায়তো শীতই কাবু ছিল এসবের উত্তাপে। তবে এবারের পৌষ রাজধানীসহ গোটা দেশে তার আসল রূপ দেখাচ্ছে। আপনি হয়তো বলছেন ‘এত শীত কেন’, ‘ওরে বাবা কী শীত’! কিন্তু এটাই শীতকালের প্রকৃত রূপ।
ফেসবুক এবং দেশীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমে যেভাবে শীতকে দেখানো হচ্ছে তাতে মনে হতে পারে শীতটাই বুঝি বাড়াবাড়ি করছে। তাই গুগলের এআই জেমিনিকে জিজ্ঞেস করলাম পৌষে এত শীত কি স্বাভাবিক?
উত্তর জেমিনি বলছে: হ্যাঁ, পৌষ মাসে বেশি শীত পড়াটাই স্বাভাবিক, কারণ এটি বাংলা শীতকালের প্রধান মাস পৌষ-মাঘ (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)। হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে এই সময়েই দেশে তীব্র শীত অনুভূত হয়, তাপমাত্রা কমে যায় এবং হাড় কাঁপানো শীতের প্রকোপ বাড়ে, যা বছরের এই সময়ে প্রত্যাশিত।
পৌষ মাসে শীতের স্বাভাবিক কারণ:
হিমালয়ের প্রভাব: হিমালয় পর্বতমালার উপর থেকে ঠান্ডা বাতাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
কুয়াশা ও জলীয়বাষ্প: বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প এবং ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
তাপমাত্রা হ্রাস: এই মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায়।
তবে, আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি শীত পড়তে পারে, বা শীতের ধরন অপ্রত্যাশিত হতে পারে।
কোনো কোনো বছর পৌষ মাসে তীব্র শীত না পড়লেও মাঘ মাসে তা অনুভূত হয়, আবার কোনো বছর পৌষ মাস থেকেই হাড় কাঁপানো শীত শুরু হয়।
সংক্ষেপে: পৌষ মাসে তীব্র শীত স্বাভাবিক, যা বছরের এই সময়ে প্রত্যাশিত, তবে এর তীব্রতা আবহাওয়ার প্যাটার্নের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
যেমন ইন্টারনেটে যদি আপনি বিগত কয়েক বছরে ডিসেম্বরের শেষ দিকের সপ্তাহগুলোর আবহাওয়া সংবাদ ঘাটেন তাহলে দেখবেন ২০১৭, ২০২৩ এমনকি গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও এবারের মতো শীত অনুভূত হয়নি। অথচ এবার যে শীত অনুভূত হচ্ছে পৌষে এটাই স্বাভাবিক। অর্থাৎ এবার শীত বেশি বাড়াবাড়ি করছে না, এটাই শীতের স্বাভাবিক রূপ।
নাসিমুল শুভ 




















