টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা, পানির তীব্র স্রোতে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কর্ণফুলীতে দেখা দিয়েছে প্রবল স্রোত। বৃষ্টির পানির প্রবল স্রোতে নগরীর দুই নম্বর গেট-অক্সিজেন সড়কের স্টারশিপ কারখানা এলাকায় সড়ক দেবে গেছে, ভেঙে গেছে কালভার্ট।
সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে; সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কে গাড়ির সংখ্যাও কম। এতে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিফাতুল করিম চৌধুরী জানান, শীতল ঝর্ণা খালের উপর ইটের তৈরি সেতুটি ১৯৮০ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় শীতল ঝর্ণা খাল সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে সেতুর চেয়ে খালের প্রস্থ বেড়েছে। ফলে পানির স্রোতে সেতুর একাংশ দুই ভাগ হয়ে ধ্বসে গেছে। সেতুটি এখন পুননির্মাণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে পিবিও আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল নয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর রাহাত্তরপুল, বহদ্দারহাট, জিইসি, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ চকবাজার একালায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে।
এদিকে, কর্ণফুলী নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনায় ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাঙ্গামাটি-বান্দরবান, রাজস্থলী ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।
তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট ৩ ফুট খুলে দেয়ায় কর্ণফুলী নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফেরি চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।’

তিনি জানান, বর্তমানে হ্রদ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার কিউসেক পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে, সঙ্গে রয়েছে ভাটার টান। এমন পরিস্থিতিতে ফেরি চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ফেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















