টি-২০ বিশ্বকাপ-২০২৬ বা আইসিসি আয়োজিত কোনও বৈশ্বিক আসরে কোনো দল বা দেশ অংশ নিতে না চাইলে বা ভেন্যু নিয়ে আপত্তি জানালে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর নিয়ম অনুযায়ী তাদের ম্যাচগুলো ‘ফোরফিট’ (forfeit) বা ছেড়ে দিতে হতে পারে। তবে দলটির আপত্তির কারণ (যেমন নিরাপত্তা) গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয় এবং আইসিসি বিকল্প ভেন্যু (যেমন শ্রীলঙ্কা) নির্ধারণ করতে পারে, যা অতীতে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। যদি আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন না করে এবং সংশ্লিষ্ট দেশ বা দলটি আপত্তি জানাতে থাকে; তবে তাদের পয়েন্টও বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সেই দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে পারে। যা টুর্নামেন্টের সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
নিয়ম ও পদ্ধতি:
1. আইসিসি-র কাছে আবেদন: কোনো দল যদি ভেন্যু নিয়ে সমস্যায় পড়ে, তবে তারা আইসিসি-এর কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানাতে পারে এবং বিকল্প ভেন্যুর জন্য অনুরোধ করতে পারে, যা নিরাপত্তা বা অন্যান্য কারণেও হতে পারে।
2. আইসিসির সিদ্ধান্ত: আইসিসি -এর কাছে এই ধরনের আবেদন এলে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে। যদি ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়, তবে খেলা সেই নতুন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় (যেমনটি পাকিস্তান ক্রিকেট দল বা পিসিবি-এর ক্ষেত্রে অতীতে ঘটেছিল)।
3. ফোরফিট বা Points deduction: যদি আইসিসি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং দল অংশগ্রহণ না করে, তবে সেই দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় এবং তাদের ম্যাচগুলো ‘ফোরফিট’ হিসেবে গণ্য হয়, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পূর্ববর্তী উদাহরণ:
* নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে কেনিয়া সফর বাতিল করার পর তারা পয়েন্ট হারায়।
* জিম্বাবুয়েও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২০০৯ টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল।
সুতরাং, নিয়ম অনুযায়ী, দলগুলি ভেন্যু পরিবর্তন করতে বলতে পারে, কিন্তু যদি আইসিসি তাদের দাবি না মানে, তবে তাদের টুর্নামেন্ট ছেড়ে দিতে হতে পারে এবং নিয়ম অনুযায়ী পয়েন্টও খোয়াতে পারে।
আইসিসি আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো দেশ বা দল অংশগ্রহণ করতে না চাইলে আইসিসি-র নিয়ম ও নীতি অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো কার্যকর হতে পারে:
* পয়েন্ট বাজেয়াপ্ত ও ওয়াকওভার: কোনো দল নির্ধারিত ম্যাচে উপস্থিত হতে না চাইলে বা টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করলে, প্রতিপক্ষ দলকে সাধারণত ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় বা পূর্ণ পয়েন্ট দেওয়া হয়। যাকে ‘ওয়াকওভার’ বলা হয় [১.২.২, ১.২.৯]।
* দল প্রতিস্থাপন: কোনো দেশ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে নাম প্রত্যাহার করে নিলে, আইসিসি র্যাঙ্কিং অনুযায়ী পরবর্তী যোগ্য কোনো দেশকে সেই জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে [১.২.১, ১.২.৯]।
* আর্থিক জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা: অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আইসিসি-র সাথে ‘পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ বা অংশগ্রহণ চুক্তিতে বাধ্য থাকে। এই চুক্তি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট বোর্ড বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা, সম্প্রচারকদের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আইসিসি-র অনুদান হ্রাসের সম্মুখীন হতে পারে [১.৪.২, ১.৪.১১]।
* ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন: যদি কোনো দেশ নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে একটি নির্দিষ্ট দেশে গিয়ে খেলতে অস্বীকার করে, তবে তারা ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসি-র কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারে। আইসিসি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় [১.১.১, ১.১.২]।
* সাসপেনশন বা বহিষ্কার: গুরুতর ক্ষেত্রে বা বারবার নিয়ম ভঙ্গ করলে আইসিসি সংশ্লিষ্ট দেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে পারে বা ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারে [১.১.৪, ১.৪.৮]।
যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে আইসিসি-র মূল লক্ষ্য থাকে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, তাই একটি দলের অনুপস্থিতিতে সাধারণত পুরো টুর্নামেন্ট বন্ধ হয় না [১.২.৯]।
এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায় সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কিছুদিন। আশঙ্কা এবং প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি কোনও জটিলতায় আটকে যাবে নাতো বাংলাদেশের ক্রিকেট?
জয়ন্ত সরকার 
























