সংবাদ শিরোনাম ::
Logo যুদ্ধের আতঙ্কে পোষা প্রাণী ফেলে দুবাই ছাড়ছে অনেকে Logo ইরানে হামলার জেরে পাকিস্তানে বায়ুদূষণের সতর্কতা Logo পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল Logo ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ Logo ভিন্ন সুরে যুদ্ধ বন্ধের কথা বললেন ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান, তবে ইসরায়েল বলছে না   Logo আজ শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন Logo ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo মোহাম্মদপুরে বিড়াল হত্যায় আসামির ৬ মাসের কারাদণ্ড

ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে লুলার প্রত্যয়, “কপ ৩০ হবে সত্যের কপ”

ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে লুলার প্রত্যয়, “কপ ৩০ হবে সত্যের কপ”

গ্লোবাল সাউথ, সবচেয়ে কম কার্বন নিঃসরণ করেও যে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ধুঁকছে তারা তাকিয়ে আছে বিশ্বসম্প্রদায়ের ভূমিকার দিকে। বিশ্বের পরিবেশবাদী, জলবায়ুকর্মী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতায় সোমবার (১০ নভেম্বর) শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ ৩০)।

 

ব্রাজিলের আমাজন রেইনফরেস্টের প্রান্তে অবস্থিত সবুজ শহর বেলেমে দুই সপ্তাহব্যাপী চলবে এই সম্মেলন। কিন্তু হতাশার কথা হলো এই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধিই পাঠায়নি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতেও দমে যাননি পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। প্রথম দিন আশার কথাই শুনিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকে ‘‘জলবায়ু অস্বীকারবাদ’’ পরাজিত করতে হবে এবং ‘‘ভুয়া খবরের’’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে —সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

 

কপ৩০ সম্মেলনে এক উজ্জীবনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট লুলা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করেন, যিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘‘প্রতারণা’’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

 

সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ভুয়া খবর, বিকৃতি এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রত্যাখ্যানের যুগে— কপ৩০ হবে সত্যের কপ।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম না নিয়েই লুলা বলেন, তারা অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে, ঘৃণা ছড়ায় এবং ভয় তৈরি করে। এখন সময় এসেছে অস্বীকারকারীদের ওপর নতুন পরাজয় চাপিয়ে দেওয়ার।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জীবাশ্ম জ্বালানিতে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তি দিয়েছেন যে এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

 

তার প্রশাসন নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য নির্ধারিত ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল বাতিল করেছে এবং দেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন নতুন এলাকা খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতি কপ আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অংশগ্রহণ ছাড়াই দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পথে অগ্রগতি আনতে হবে।

 

কিছু প্রতিনিধি আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পাঠিয়ে আলোচনা দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে। এ বছর অন্যান্য পরিবেশ-সংক্রান্ত আলোচনাও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেস্তে গেছে, যাকে অনেকেই জোরজবরদস্তিমূলক আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।

 

প্রথম দিন, অর্থাৎ স্থানীয় সময় সোমবারের প্রথম অধিবেশনে হাজার হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন সম্মেলনে, যা আয়োজিত হয়েছে একটি প্রাক্তন বিমানঘাঁটির স্থাপনায়, যেটি এখন ভারী এয়ার কন্ডিশনিংযুক্ত। অনেকে অবস্থান করছেন নদীর ধারে নোঙর করা ক্রুজ জাহাজে বা কনটেইনার আবাসনে।

 

গুয়াজাজার আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কূটনীতিকদের স্বাগত জানাতে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন।

 

বিতর্কের পর অবশেষে দেশগুলো সোমবার সম্মেলনের কর্মসূচিতে একমত হয়েছে। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, দেশগুলো এখনও শিল্প-পূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য কাজ চালিয়ে যেতে পারবে কি না—এই প্রশ্নটি বিবেচনা করা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের আতঙ্কে পোষা প্রাণী ফেলে দুবাই ছাড়ছে অনেকে

ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে লুলার প্রত্যয়, “কপ ৩০ হবে সত্যের কপ”

আপডেট সময় ০৬:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

গ্লোবাল সাউথ, সবচেয়ে কম কার্বন নিঃসরণ করেও যে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ধুঁকছে তারা তাকিয়ে আছে বিশ্বসম্প্রদায়ের ভূমিকার দিকে। বিশ্বের পরিবেশবাদী, জলবায়ুকর্মী এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে নানা আনুষ্ঠানিকতায় সোমবার (১০ নভেম্বর) শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ ৩০)।

 

ব্রাজিলের আমাজন রেইনফরেস্টের প্রান্তে অবস্থিত সবুজ শহর বেলেমে দুই সপ্তাহব্যাপী চলবে এই সম্মেলন। কিন্তু হতাশার কথা হলো এই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধিই পাঠায়নি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তবে এতেও দমে যাননি পরিবেশ রক্ষায় আন্তরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। প্রথম দিন আশার কথাই শুনিয়েছেন তিনি।

 

বিশ্বকে ‘‘জলবায়ু অস্বীকারবাদ’’ পরাজিত করতে হবে এবং ‘‘ভুয়া খবরের’’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে —সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

 

কপ৩০ সম্মেলনে এক উজ্জীবনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট লুলা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করেন, যিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘‘প্রতারণা’’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

 

সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, ভুয়া খবর, বিকৃতি এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রত্যাখ্যানের যুগে— কপ৩০ হবে সত্যের কপ।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম না নিয়েই লুলা বলেন, তারা অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে, ঘৃণা ছড়ায় এবং ভয় তৈরি করে। এখন সময় এসেছে অস্বীকারকারীদের ওপর নতুন পরাজয় চাপিয়ে দেওয়ার।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জীবাশ্ম জ্বালানিতে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যুক্তি দিয়েছেন যে এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে।

 

তার প্রশাসন নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য নির্ধারিত ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি তহবিল বাতিল করেছে এবং দেশে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন নতুন এলাকা খুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতি কপ আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অংশগ্রহণ ছাড়াই দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পথে অগ্রগতি আনতে হবে।

 

কিছু প্রতিনিধি আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত প্রতিনিধি পাঠিয়ে আলোচনা দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে। এ বছর অন্যান্য পরিবেশ-সংক্রান্ত আলোচনাও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেস্তে গেছে, যাকে অনেকেই জোরজবরদস্তিমূলক আচরণ বলে অভিহিত করেছেন।

 

প্রথম দিন, অর্থাৎ স্থানীয় সময় সোমবারের প্রথম অধিবেশনে হাজার হাজার প্রতিনিধি অংশ নেন সম্মেলনে, যা আয়োজিত হয়েছে একটি প্রাক্তন বিমানঘাঁটির স্থাপনায়, যেটি এখন ভারী এয়ার কন্ডিশনিংযুক্ত। অনেকে অবস্থান করছেন নদীর ধারে নোঙর করা ক্রুজ জাহাজে বা কনটেইনার আবাসনে।

 

গুয়াজাজার আদিবাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কূটনীতিকদের স্বাগত জানাতে নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করেন।

 

বিতর্কের পর অবশেষে দেশগুলো সোমবার সম্মেলনের কর্মসূচিতে একমত হয়েছে। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, দেশগুলো এখনও শিল্প-পূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য কাজ চালিয়ে যেতে পারবে কি না—এই প্রশ্নটি বিবেচনা করা হবে।