দিন-রাতের পার্থক্য মুছে দিল ‘মিডনাইট সান’, ৮৪ দিন সূর্যাস্ত হবে না যেখানে

দিন-রাতের পার্থক্য মুছে দিল ‘মিডনাইট সান’, ৮৪ দিন সূর্যাস্ত হবে না যেখানে

যুক্তরাষ্ট্রের সুদূর উত্তরের শহর আলাস্কার উতকিয়াগভিকে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিস্ময় ‘মিডনাইট সান’ বা মধ্যরাতের সূর্যের সময়। স্থানীয় সময় গত ১০ মে ভোর ২টা ৫৭ মিনিটে সেখানে যে সূর্য উদিত হয়েছে, তা টানা ৮৪ দিন আর দিগন্তের নিচে নামবে না। অর্থাৎ, আগামী প্রায় তিন মাস শহরটিতে কোনো রাত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত উতকিয়াগভিকের আকাশে সূর্য টানা দৃশ্যমান থাকবে। এরপর সূর্য ডুবতে শুরু করলেও পুরোপুরি রাত বা প্রকৃত অন্ধকার ফিরে আসতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সাধারণত উত্তর গোলার্ধে মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হয়। উত্তর মেরুর সবচেয়ে কাছে অবস্থিত হওয়ায় উতকিয়াগভি এই দীর্ঘতম অবিরাম সূর্যালোক উপভোগ করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী তার নিজের অক্ষে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। গ্রীষ্মকালে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ২১ জুনের কাছাকাছি সময়ে এই ঝুঁকে থাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এর ফলে পৃথিবী নিজের অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে এলেও, আর্কটিক সার্কেল বা সুমেরু বৃত্তের ভেতরে থাকা অঞ্চলগুলো সূর্যের আলো থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত হয় না। সূর্য গোল বৃত্তাকারে আকাশের চারপাশ ঘোরে, কিন্তু কখনো দিগন্ত রেখার নিচে অস্ত যায় না।

টানা ৮৪ দিন সূর্য মাথার ওপর থাকলেও উতকিয়াগভি শহরের আবহাওয়া কিন্তু মোটেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের মতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে না। আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ‘আকুওয়েদার’ এর তথ্য বলছে, এখানকার সবচেয়ে উষ্ণ মাস হলো জুলাই।

ঐতিহাসিকভাবে জুলাই মাসেও এখানকার গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে মাত্র ৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

আর্কটিক সাগরের শীতল বাতাস এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ২৪ ঘণ্টার রোদও এখানকার বরফ-শীতল আবহাওয়াকে খুব বেশি উষ্ণ করতে পারে না।

শুধু উতকিয়াগভিক নয়, আলাস্কার অন্যান্য বড় শহর যেমন—অ্যাঙ্কোরেজ ফেয়ারব্যাঙ্কস এবং জুনোতেও এখন প্রতিদিন প্রায় ১৬ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত সূর্যালোক থাকছে।

এই দীর্ঘ দিনের আলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বা ১টা বাজলেও বাইরে তখন ভরদুপুরের মতো আলো থাকে। স্থানীয়রা এই সময়টিকে উৎসবের আমেজে উদযাপন করেন। রাত জেগে বাগানে কাজ করা, হাইকিং, সমুদ্রে মাছ ধরা কিংবা গলফ খেলার মতো আউটডোর কার্যক্রম এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।

প্রকৃতির এই অনন্য উপহার দেখতে প্রতিবছরই এই সময়ে আলাস্কায় ভিড় জমান হাজারো পর্যটক। একদিকে যেমন এটি রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে টানা সূর্যালোকের কারণে মানুষের ঘুমের চক্র বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখতে অনেক সময় ঘরের জানালায় ভারী কালো পর্দা ব্যবহার করতে হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত

দিন-রাতের পার্থক্য মুছে দিল ‘মিডনাইট সান’, ৮৪ দিন সূর্যাস্ত হবে না যেখানে

আপডেট সময় ০১:১২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সুদূর উত্তরের শহর আলাস্কার উতকিয়াগভিকে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিস্ময় ‘মিডনাইট সান’ বা মধ্যরাতের সূর্যের সময়। স্থানীয় সময় গত ১০ মে ভোর ২টা ৫৭ মিনিটে সেখানে যে সূর্য উদিত হয়েছে, তা টানা ৮৪ দিন আর দিগন্তের নিচে নামবে না। অর্থাৎ, আগামী প্রায় তিন মাস শহরটিতে কোনো রাত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ২ আগস্ট পর্যন্ত উতকিয়াগভিকের আকাশে সূর্য টানা দৃশ্যমান থাকবে। এরপর সূর্য ডুবতে শুরু করলেও পুরোপুরি রাত বা প্রকৃত অন্ধকার ফিরে আসতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সাধারণত উত্তর গোলার্ধে মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এই অবস্থা স্থায়ী হয়। উত্তর মেরুর সবচেয়ে কাছে অবস্থিত হওয়ায় উতকিয়াগভি এই দীর্ঘতম অবিরাম সূর্যালোক উপভোগ করে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী তার নিজের অক্ষে ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। গ্রীষ্মকালে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। ২১ জুনের কাছাকাছি সময়ে এই ঝুঁকে থাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এর ফলে পৃথিবী নিজের অক্ষে ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে এলেও, আর্কটিক সার্কেল বা সুমেরু বৃত্তের ভেতরে থাকা অঞ্চলগুলো সূর্যের আলো থেকে বিন্দুমাত্র বঞ্চিত হয় না। সূর্য গোল বৃত্তাকারে আকাশের চারপাশ ঘোরে, কিন্তু কখনো দিগন্ত রেখার নিচে অস্ত যায় না।

টানা ৮৪ দিন সূর্য মাথার ওপর থাকলেও উতকিয়াগভি শহরের আবহাওয়া কিন্তু মোটেও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের মতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে না। আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ‘আকুওয়েদার’ এর তথ্য বলছে, এখানকার সবচেয়ে উষ্ণ মাস হলো জুলাই।

ঐতিহাসিকভাবে জুলাই মাসেও এখানকার গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে মাত্র ৪৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

আর্কটিক সাগরের শীতল বাতাস এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ২৪ ঘণ্টার রোদও এখানকার বরফ-শীতল আবহাওয়াকে খুব বেশি উষ্ণ করতে পারে না।

শুধু উতকিয়াগভিক নয়, আলাস্কার অন্যান্য বড় শহর যেমন—অ্যাঙ্কোরেজ ফেয়ারব্যাঙ্কস এবং জুনোতেও এখন প্রতিদিন প্রায় ১৬ থেকে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত সূর্যালোক থাকছে।

এই দীর্ঘ দিনের আলো স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বা ১টা বাজলেও বাইরে তখন ভরদুপুরের মতো আলো থাকে। স্থানীয়রা এই সময়টিকে উৎসবের আমেজে উদযাপন করেন। রাত জেগে বাগানে কাজ করা, হাইকিং, সমুদ্রে মাছ ধরা কিংবা গলফ খেলার মতো আউটডোর কার্যক্রম এই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।

প্রকৃতির এই অনন্য উপহার দেখতে প্রতিবছরই এই সময়ে আলাস্কায় ভিড় জমান হাজারো পর্যটক। একদিকে যেমন এটি রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে টানা সূর্যালোকের কারণে মানুষের ঘুমের চক্র বা বায়োলজিক্যাল ক্লক ঠিক রাখতে অনেক সময় ঘরের জানালায় ভারী কালো পর্দা ব্যবহার করতে হয়।