ইরানে পুরোদমে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, ড্রোন-মিসাইলে জবাব দেয়া অব্যাহত রেখেছে ইরান। চলমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কবে থামবে এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দুজনেই কথা বলেছেন, কিন্তু ভিন্নসুরে।
পেজেশকিয়ান যুদ্ধ বন্ধের কথা বলেছেন, তবে তিন শর্তে। সেগুলো হলো– ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এমন আগ্রাসন হবে না তার নিশ্চয়তা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট এক্সে এক পোস্টে ওই শর্তের কথা জানান। তিনি লিখেছেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সাথে কথা বলে আমি এই অঞ্চলে শান্তির প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইহুদিবাদী সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা সৃষ্ট এই যুদ্ধের অবসানের একমাত্র উপায় হলো ইরানের বৈধ অধিকার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দেওয়া।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে দাবি করে চলমান যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ইরানের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ দারুণভাবে চলছে। আমরা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। ছয় সপ্তাহের যে পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষতি আমরা ইতোমধ্যে করে ফেলেছি।
তিনি আরও বলেন, যেকোনও সময় আমি চাইলে এই যুদ্ধ শেষ হবে।
ফ্লোরিডার ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাদের ড্রোন কারখানাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও তলানিতে। তিনি বলেন, সামরিক দিক থেকে তাদের আর কিছুই নেই।
ইরানি তেলক্ষেত্রে হামলা চালানোকে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি প্রথমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানে, তবেই কেবল তাদের তেলক্ষেত্রে হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলকে ইরানি তেলক্ষেত্রে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে অবহিত করতে বলেছে। মূলত জ্বালানি অবকাঠামোয় আঘাত হানলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষের কথা বললেও দিলেও ভিন্ন কথা বলছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সব লক্ষ্য অর্জন এবং চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত কোনও সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধ চলবে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















