সাক্ষাৎকারে মুকিত মজুমদার বাবু

‘দেশের প্রতি আমার অনেক ঋণ আছে’

সাক্ষাৎকারে মুকিত মজুমদার বাবু: ‘দেশের প্রতি আমার অনেক ঋণ আছে’

ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য সুপরিচিত। ২৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রকতিবার্তার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ত্রৈমাসিক প্রকৃতিবার্তা ম্যাগাজিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহিন মাহফুজ

 

প্রকৃতিবার্তা: প্রথমেই আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমরা জানতে চাই, আপনার শৈশবের প্রভাব কীভাবে আপনার জীবনে প্রকৃতিপ্রেমের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ধন্যবাদ। আমার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। সে সময়ের সবুজে ঘেরা শান্ত সুনিবিড় পরিবেশে কাটানো সময়গুলো আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার মা রাবেয়া খাতুন ও বাবা মজুমদার আবদুল মতিনের স্নেহ এবং তখনকার প্রকৃতির বিশালতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। খোলা মাঠ, নদীর নির্মলতা এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্য আমাকে মুগ্ধ করত। সেখান থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাকে জীবনের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের পর কীভাবে আপনি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে যখন দেখি বাংলার প্রকৃতি দূষণের কবলে পড়েছে, তখন আমি উপলব্ধি করি যে, আমাদের দেশে পরিবেশ রক্ষার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। ২০০৯ সালে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করি, যার মাধ্যমে আমি পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজ শুরু করি।

 

প্রকৃতিবার্তা: চ্যানেল আইতে প্রচারিত আপনার ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃতি ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা। ইতিমধ্যে ৩৭০টির বেশি পর্ব প্রচারিত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। মানুষ এখন পরিবেশ নিয়ে আরও বেশি কথা বলছে এবং নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে পারছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখে?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: আমাদের ফাউন্ডেশনের অনেক প্রকল্প রয়েছে। তবে বিশেষভাবে বলতে গেলে এখন দেশব্যাপী ৬৪টি জেলাতে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব হয়েছে। আমরা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি, যা আমাকে আশাবাদী করে। এটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে গত বছর প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সারাদেশে ১০ লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে। চলতি বছরও এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: আপনার ব্যক্তিগত জীবনে মানবসেবার বিষয়ে জানতে চাই। প্রকৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি আপনি মানবিক উদ্যোগেও যুক্ত আছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: মানবিক কাজ সবসময় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃতিকে বাঁচানোর পাশাপাশি আমাদের মানবিক দায়িত্বও পালন করতে হবে। ২০১২ সালে আমরা ‘প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। এছাড়াও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা সবসময় করেছি। তারা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাদের জীবনে আনন্দ আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

 

প্রকৃতিবার্তা: আপনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে আপনাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছে?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ১৯৭১ সালে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, তখন ক্লাস নাইনে পড়তাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। আমি জানতাম না বেঁচে ফিরতে পারব কিনা, কিংবা আমাদের দেশ স্বাধীন হবে কিনা। কিন্তু আমরা যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য এবং আজ আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন। এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, আমাদেরই দায়িত্ব এটাকে ভালো রাখা। আমি সবসময় অনুভব করি এই দেশের প্রতি আমার অনেক ঋণ আছে। শুধু স্বাধীনতা অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ নয় বরং স্বাধীন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করাও জরুরি। এই ভাবনা থেকেই আমার পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়।

 

প্রকৃতিবার্তা: প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব নামে একটি সংগঠন করেছেন সম্প্রতি।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: হ্যাঁ, এই বছর শুরু হলো এটা। এখনো ওইভাবে লাইমলাইটে আসে নাই। প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হলো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গানগুলো ফিরিয়ে আনা এবং সংরক্ষণ করা। এটি এখনো শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গানগুলো আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলো এখনো আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এ গানটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের গান, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, ফোক গান ও অন্যান্য দেশীয় গান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব গান আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম এই গানগুলোর সঙ্গে পরিচিত হোক এবং প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক বুঝতে পারুক। পিওজে মিউজিক ক্লাবের মাধ্যমে আমরা এসব গানের সংরক্ষণ ও প্রচারে কাজ করে যাব।

 

প্রকৃতিবার্তা: ভবিষ্যতের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী? বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণে আপনার স্বপ্ন কী?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: আমার স্বপ্ন একটাই—একটি সবুজ ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ। আমি স্বপ্ন দেখি আগামী প্রজন্ম এমন একটি পৃথিবী পাবে, যেখানে তারা প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধনে বেড়ে উঠবে। সেজন্য পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমি আশা করি ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

প্রকৃতিবার্তা: সুন্দর পরিবেশের জন্য আপনার জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং অবদান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনাকে ধন্যবাদ।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ধন্যবাদ আপনাকেও।

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান পরিবেশ অধিদপ্তরের

সাক্ষাৎকারে মুকিত মজুমদার বাবু

‘দেশের প্রতি আমার অনেক ঋণ আছে’

আপডেট সময় ১২:৪৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৪

ইমপ্রেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁর অসাধারণ অবদানের জন্য সুপরিচিত। ২৫ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রকতিবার্তার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ত্রৈমাসিক প্রকৃতিবার্তা ম্যাগাজিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহিন মাহফুজ

 

প্রকৃতিবার্তা: প্রথমেই আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। আমরা জানতে চাই, আপনার শৈশবের প্রভাব কীভাবে আপনার জীবনে প্রকৃতিপ্রেমের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ধন্যবাদ। আমার শৈশব কেটেছে ঢাকায়। সে সময়ের সবুজে ঘেরা শান্ত সুনিবিড় পরিবেশে কাটানো সময়গুলো আমার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। আমার মা রাবেয়া খাতুন ও বাবা মজুমদার আবদুল মতিনের স্নেহ এবং তখনকার প্রকৃতির বিশালতা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। খোলা মাঠ, নদীর নির্মলতা এবং প্রকৃতির বৈচিত্র্য আমাকে মুগ্ধ করত। সেখান থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাকে জীবনের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের পর কীভাবে আপনি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে যখন দেখি বাংলার প্রকৃতি দূষণের কবলে পড়েছে, তখন আমি উপলব্ধি করি যে, আমাদের দেশে পরিবেশ রক্ষার জন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। ২০০৯ সালে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করি, যার মাধ্যমে আমি পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজ শুরু করি।

 

প্রকৃতিবার্তা: চ্যানেল আইতে প্রচারিত আপনার ‘প্রকৃতি ও জীবন’ প্রামাণ্য অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করেন?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে প্রকৃতি ও পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরা। ইতিমধ্যে ৩৭০টির বেশি পর্ব প্রচারিত হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। মানুষ এখন পরিবেশ নিয়ে আরও বেশি কথা বলছে এবং নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে পারছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত বিশেষ প্রকল্পগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব রাখে?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: আমাদের ফাউন্ডেশনের অনেক প্রকল্প রয়েছে। তবে বিশেষভাবে বলতে গেলে এখন দেশব্যাপী ৬৪টি জেলাতে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব হয়েছে। আমরা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি, যা আমাকে আশাবাদী করে। এটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ‘সবুজে সাজাই বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে গত বছর প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব সারাদেশে ১০ লক্ষাধিক গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছে। চলতি বছরও এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

 

প্রকৃতিবার্তা: আপনার ব্যক্তিগত জীবনে মানবসেবার বিষয়ে জানতে চাই। প্রকৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি আপনি মানবিক উদ্যোগেও যুক্ত আছেন। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: মানবিক কাজ সবসময় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আমি বিশ্বাস করি, প্রকৃতিকে বাঁচানোর পাশাপাশি আমাদের মানবিক দায়িত্বও পালন করতে হবে। ২০১২ সালে আমরা ‘প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। এছাড়াও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা সবসময় করেছি। তারা আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তাদের জীবনে আনন্দ আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

 

প্রকৃতিবার্তা: আপনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে আপনাকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছে?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ১৯৭১ সালে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, তখন ক্লাস নাইনে পড়তাম। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। আমি জানতাম না বেঁচে ফিরতে পারব কিনা, কিংবা আমাদের দেশ স্বাধীন হবে কিনা। কিন্তু আমরা যুদ্ধ করেছি দেশের জন্য এবং আজ আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন। এই দেশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, আমাদেরই দায়িত্ব এটাকে ভালো রাখা। আমি সবসময় অনুভব করি এই দেশের প্রতি আমার অনেক ঋণ আছে। শুধু স্বাধীনতা অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ নয় বরং স্বাধীন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করাও জরুরি। এই ভাবনা থেকেই আমার পরিবেশ সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়।

 

প্রকৃতিবার্তা: প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাব নামে একটি সংগঠন করেছেন সম্প্রতি।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: হ্যাঁ, এই বছর শুরু হলো এটা। এখনো ওইভাবে লাইমলাইটে আসে নাই। প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য হলো হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গানগুলো ফিরিয়ে আনা এবং সংরক্ষণ করা। এটি এখনো শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গানগুলো আমার কাছে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানগুলো এখনো আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’-এ গানটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। প্রকৃতি ও জীবন মিউজিক ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের গান, পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, ফোক গান ও অন্যান্য দেশীয় গান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব গান আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম এই গানগুলোর সঙ্গে পরিচিত হোক এবং প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের গভীর সম্পর্ক বুঝতে পারুক। পিওজে মিউজিক ক্লাবের মাধ্যমে আমরা এসব গানের সংরক্ষণ ও প্রচারে কাজ করে যাব।

 

প্রকৃতিবার্তা: ভবিষ্যতের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী? বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণে আপনার স্বপ্ন কী?

 

মুকিত মজুমদার বাবু: আমার স্বপ্ন একটাই—একটি সবুজ ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ। আমি স্বপ্ন দেখি আগামী প্রজন্ম এমন একটি পৃথিবী পাবে, যেখানে তারা প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধনে বেড়ে উঠবে। সেজন্য পরিবেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমি আশা করি ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’ এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

প্রকৃতিবার্তা: সুন্দর পরিবেশের জন্য আপনার জীবনের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং অবদান সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনাকে ধন্যবাদ।

 

মুকিত মজুমদার বাবু: ধন্যবাদ আপনাকেও।