আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশের আবহাওয়া ব্যাপক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। ২০৫০ সালে গড় তাপমাত্রা বাড়বে অন্তত ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা দাঁড়াবে অর্ধেকে, কমবে শীতের স্থায়িত্ব। ২১০০ সাল নাগাদ শৈত্যপ্রবাহই থাকবে না। বাড়বে বন্যার শঙ্কাও। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও নরওয়ের মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এসব শঙ্কা জাগানো বদলে যাওয়ার আভাস।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয় বাংলাদেশ। খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় প্রতিবছরের ঘটনা। তবে কয়েক বছর ধরে বাড়ছে তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহ ও অসময়ের বৃষ্টি। সেই তুলনায় কমছে শীতের স্থায়িত্ব ও শৈত্যপ্রবাহ। এসবের পেছনে আছে দ্রুত ঘটে চলা জলবায়ু পরিবর্তন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও নরওয়ের মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় ২০৫০ সালে বাংলাদেশের আবহাওয়া পরিবর্তনের ব্যাপক তারতম্যের কথা উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকাল থেকে বর্ষা পর্যন্ত প্রলম্বিত হচ্ছে তাপপ্রবাহ। ২৫ বছর পর অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশীদ বলেন, এক থেকে ৩ ডিগ্রি তামপাত্রা বেড়ে যাবে, ২০৫০ সালের দিকে। তাপপ্রবাহ বাড়বে, তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়বে কয়েকগুণ।
শীতের স্থায়িত্বের বড় তারতম্যের তথ্যও পাওয়া গেছে গবেষণায়। বলা হয়েছে, শীতে গড় তাপমাত্রা প্রতি বছরই বাড়ছে। ২০৫০ সালে থেকে গড় স্বাভাবিক শৈত্যপ্রবাহ অর্ধেকে নেমে আসবে। ড. বজলুর রশীদ বলেন, একটা পর্যায়ে আর শৈত্যপ্রবাহ আসবে না। এটা আশঙ্কার বিষয়। একটা পর্যায়ে শীতকাল ছোট হয়ে আসবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, সিলেট, ময়মনসিংহে বৃষ্টির পরিমাণ গড়ে ১৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। এতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহে বন্যার তীব্রতা অস্বভাবিকরকম বাড়তে পারে।
ড. বজলুর রশীদ বলেন, সিলেট, ময়মনসিংহে বৃষ্টির পরিমাণ গড়ে বেড়ে যাবে।
এই সময়ে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে লবণের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে এই যৌথ গবেষণা।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















