সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

দেশে পাখির তালিকায় যুক্ত নতুন সামুদ্রিক পাখি ‘ছোট নডি’

দেশে পাখির তালিকায় যুক্ত নতুন সামুদ্রিক পাখি ‘ছোট নডি’ । ছবি : সংগৃহীত

নতুন এক সামুদ্রিক পাখির দেখা মিলেছে বাংলাদেশে। নতুন সামুদ্রিক পাখিটির নাম ‘লেসার নডি’। লেসার নডি নামের এই পাখির ছবি ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থেকে তুলেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পাখি গবেষক গ্যারি অলপর্ট। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে গ্যারি অলপর্ট কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে যাওয়ার সময় এই নতুন পাখিটির দেখা পান।

সেপ্টেম্বর মাসে গ্যারি ও তার আরেক পাখিপ্রেমী বন্ধু জেন-এরিক নিলসেন কক্সবাজারের ফিশারিঘাট থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে যাচ্ছিলেন। বাঁকখালী নদীপথে তারা রওনা দিয়েছিলেন। এই নদীপথে হরেক রকমের পাখির দেখা মেলে। মাছ ধরার একটি ট্রলারের পেছনে তারা অনেকগুলো গাঙচিল আর পানচিলের দেখা পান। এসব সামুদ্রিক পাখির সঙ্গে একটি নতুন পাখির দেখা পেলেন। প্রথমে তাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন সামুদ্রিক পাখি! পাখিটির নাম ‘লেসার নডি’। বাংলায় এর নাম হতে পারে ‘ছোট নডি’। পাখিটিকে এ দেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। সোনাদিয়া থেকে ফেরার পথেও তারা ওই পাখি আরেকবার দেখতে পেয়েছিলেন।

সবচেয়ে বড় খবর হলো, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে একটি ডোবায় আরও তিনটি পাখির দেখা মিলেছে। সব মিলিয়ে এক দিনে চারটি লেসার নডির দেখা পেলেন। এর ফলে এ দেশের পাখির তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হল। পাখি গবেষকদের কাছে সত্যিই এটি একটি বড় আনন্দ। লেসার নডি পাখিটি কীভাবে এ দেশে এলো তা এক আশ্চর্যের বিষয়। পরিযায়ী পাখির পরিযায়নের মৌসুম মাত্র শুরু হয়েছে। এ সময় পাখিরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খাবার ও আশ্রয়ের খোঁজে যায়। লেসার নডি আমাদের দেশের জন্য পরিযায়ী পাখি নয়, এটি চলার পথের পাখি অথবা ইতস্তত ভ্রমণকারী পাখি। ইংরেজিতে যাকে বলে (Vagrant Birds) অর্থাৎ ভবঘুরে পাখি। এ পাখি একবারই আচমকা এ ধরনের ভ্রমণ করে। চলার পথে এ ধরনের পাখি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিশ্রাম নেয়।

তবে কিভাবে আমাদের দেশে এই পাখির দেখা মিলল। বড় কোনো সামুদ্রিক ঝড়ের আগে পড়ে এই ধরনের পাখি দেখা যাচ্ছে। অন্য মহাদেশের মহাসাগরগুলোতে যদি প্রবল ঝড় বা দুর্যোগপূর্ণ কোনো কিছু ঘটে। সেই ঝড়ে বা বাতাসে ভর করে পাখিরা অন্য অঞ্চলগুলোতে চলে আসে। এই কারণে হয়তো ভারত মহাসাগর থেকে এই নতুন পাখিটি আমাদের বঙ্গোপসাগরের সীমানায় চলে আসতে পারে। পাখিগুলো এত দূরের পথ আসার পর ভীষণ ক্লান্ত হয়ে যায়। নিরাপদ অঞ্চলে এসে যদি এরা পর্যাপ্ত খাবার পায় এবং তাদের অত্যাচার না করা হয় তাহলে তারা থেকে যায়। তবে আস্তে আস্তে ওরা ওদের পুরাতন আবাসস্থলে ফিরে যায়।

লেসার নডি একটি লরিডি পরিবারের পাখি। এই পরিবারে পৃথিবীতে নডি ছাড়াও গাঙচিল, পানচিল, গাঙচষার মত শতাধিক প্রজাতি দেখা যায়। বাংলাদেশেও এই পরিবারের প্রায় ২১ জাতের পাখি রয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। আগে শুধু এ দেশে নডি গোত্রের কোনো সদস্য ছিল না। এবার লেসার নডির দেখা মেলায় তা পূর্ণতা পেল। পৃথিবীতে নডি গোত্রে পাঁচটি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে লেসার নডির অবস্থা বেশ ভালো। বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাখিটির সংখ্যা খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। এই প্রজাতির পাখি ভারত মহাসাগরে বসবাস করে। প্রজননকালে এরা মালদ্বীপ, নেপাল, বাংলাদেশ অঞ্চলে যায়। এছাড়া সোমালিয়ার কয়েকটি দ্বীপেও এরা প্রজনন করতে যায়। তবে প্রজননকালের বাইরে এই পাখি দ্বীপরাষ্ট্র আরব উপকূল, মাদাগাস্কার এবং তানজানিয়ার উপকূলে দেখা যায়। কিন্তু শ্রীলঙ্কা এবং বঙ্গোপসাগরে এদের চলাচল একেবারেই বিরল।

লেসার নডি প্রজাতির পাখিরা দলে দলে থাকতে বেশি পছন্দ করে। প্রজননকালের বাইরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত থাকে। তবে ডিম পাড়ার মৌসুমে কয়েক হাজার পাখি একসঙ্গে বাসা বানায়। অগাস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ঘরসংসারের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর এ পাখি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ন করে। কিন্তু ঠিক এ সময় কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় পাখিটি দেখা সত্যিই বিরল ঘটনা। গোটা পৃথিবীতে এই জাতের লক্ষাধিক পাখি টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আবাসস্থল সংকট এই প্রজাতির পাখির জন্য একটি বড় সমস্যা। ইঁদুরজাতীয় প্রাণী এ পাখির ডিম খেয়ে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই পাখি এবং ডিম শিকার করে খায়। এত কিছুর পরও পাখিটি প্রকৃতিতে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে। আশা করি, পাখিটি আমাদের দেশ থেকে তার আবাসভূমিতে ভালোভাবে ফিরে যেতে পারবে। ব্রিটিশ পাখিবন্ধু গ্যারি অলপর্ট ও তার বন্ধু জেন-এরিক নিলসেনকে এদেশের পাখি গবেষণায় অবদান রাখায় অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো, আইইউসিএন 

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

দেশে পাখির তালিকায় যুক্ত নতুন সামুদ্রিক পাখি ‘ছোট নডি’

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৪
নতুন এক সামুদ্রিক পাখির দেখা মিলেছে বাংলাদেশে। নতুন সামুদ্রিক পাখিটির নাম ‘লেসার নডি’। লেসার নডি নামের এই পাখির ছবি ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার থেকে তুলেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পাখি গবেষক গ্যারি অলপর্ট। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে গ্যারি অলপর্ট কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপে যাওয়ার সময় এই নতুন পাখিটির দেখা পান।

সেপ্টেম্বর মাসে গ্যারি ও তার আরেক পাখিপ্রেমী বন্ধু জেন-এরিক নিলসেন কক্সবাজারের ফিশারিঘাট থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে যাচ্ছিলেন। বাঁকখালী নদীপথে তারা রওনা দিয়েছিলেন। এই নদীপথে হরেক রকমের পাখির দেখা মেলে। মাছ ধরার একটি ট্রলারের পেছনে তারা অনেকগুলো গাঙচিল আর পানচিলের দেখা পান। এসব সামুদ্রিক পাখির সঙ্গে একটি নতুন পাখির দেখা পেলেন। প্রথমে তাদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এটিই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নতুন সামুদ্রিক পাখি! পাখিটির নাম ‘লেসার নডি’। বাংলায় এর নাম হতে পারে ‘ছোট নডি’। পাখিটিকে এ দেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। সোনাদিয়া থেকে ফেরার পথেও তারা ওই পাখি আরেকবার দেখতে পেয়েছিলেন।

সবচেয়ে বড় খবর হলো, কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে একটি ডোবায় আরও তিনটি পাখির দেখা মিলেছে। সব মিলিয়ে এক দিনে চারটি লেসার নডির দেখা পেলেন। এর ফলে এ দেশের পাখির তালিকায় আরও একটি নাম যোগ হল। পাখি গবেষকদের কাছে সত্যিই এটি একটি বড় আনন্দ। লেসার নডি পাখিটি কীভাবে এ দেশে এলো তা এক আশ্চর্যের বিষয়। পরিযায়ী পাখির পরিযায়নের মৌসুম মাত্র শুরু হয়েছে। এ সময় পাখিরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খাবার ও আশ্রয়ের খোঁজে যায়। লেসার নডি আমাদের দেশের জন্য পরিযায়ী পাখি নয়, এটি চলার পথের পাখি অথবা ইতস্তত ভ্রমণকারী পাখি। ইংরেজিতে যাকে বলে (Vagrant Birds) অর্থাৎ ভবঘুরে পাখি। এ পাখি একবারই আচমকা এ ধরনের ভ্রমণ করে। চলার পথে এ ধরনের পাখি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিশ্রাম নেয়।

তবে কিভাবে আমাদের দেশে এই পাখির দেখা মিলল। বড় কোনো সামুদ্রিক ঝড়ের আগে পড়ে এই ধরনের পাখি দেখা যাচ্ছে। অন্য মহাদেশের মহাসাগরগুলোতে যদি প্রবল ঝড় বা দুর্যোগপূর্ণ কোনো কিছু ঘটে। সেই ঝড়ে বা বাতাসে ভর করে পাখিরা অন্য অঞ্চলগুলোতে চলে আসে। এই কারণে হয়তো ভারত মহাসাগর থেকে এই নতুন পাখিটি আমাদের বঙ্গোপসাগরের সীমানায় চলে আসতে পারে। পাখিগুলো এত দূরের পথ আসার পর ভীষণ ক্লান্ত হয়ে যায়। নিরাপদ অঞ্চলে এসে যদি এরা পর্যাপ্ত খাবার পায় এবং তাদের অত্যাচার না করা হয় তাহলে তারা থেকে যায়। তবে আস্তে আস্তে ওরা ওদের পুরাতন আবাসস্থলে ফিরে যায়।

লেসার নডি একটি লরিডি পরিবারের পাখি। এই পরিবারে পৃথিবীতে নডি ছাড়াও গাঙচিল, পানচিল, গাঙচষার মত শতাধিক প্রজাতি দেখা যায়। বাংলাদেশেও এই পরিবারের প্রায় ২১ জাতের পাখি রয়েছে। যার প্রায় সবগুলোই সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা। আগে শুধু এ দেশে নডি গোত্রের কোনো সদস্য ছিল না। এবার লেসার নডির দেখা মেলায় তা পূর্ণতা পেল। পৃথিবীতে নডি গোত্রে পাঁচটি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে লেসার নডির অবস্থা বেশ ভালো। বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৮৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাখিটির সংখ্যা খুব বেশি পরিবর্তিত হয়নি। এই প্রজাতির পাখি ভারত মহাসাগরে বসবাস করে। প্রজননকালে এরা মালদ্বীপ, নেপাল, বাংলাদেশ অঞ্চলে যায়। এছাড়া সোমালিয়ার কয়েকটি দ্বীপেও এরা প্রজনন করতে যায়। তবে প্রজননকালের বাইরে এই পাখি দ্বীপরাষ্ট্র আরব উপকূল, মাদাগাস্কার এবং তানজানিয়ার উপকূলে দেখা যায়। কিন্তু শ্রীলঙ্কা এবং বঙ্গোপসাগরে এদের চলাচল একেবারেই বিরল।

লেসার নডি প্রজাতির পাখিরা দলে দলে থাকতে বেশি পছন্দ করে। প্রজননকালের বাইরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত থাকে। তবে ডিম পাড়ার মৌসুমে কয়েক হাজার পাখি একসঙ্গে বাসা বানায়। অগাস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ঘরসংসারের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর এ পাখি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ন করে। কিন্তু ঠিক এ সময় কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় পাখিটি দেখা সত্যিই বিরল ঘটনা। গোটা পৃথিবীতে এই জাতের লক্ষাধিক পাখি টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আবাসস্থল সংকট এই প্রজাতির পাখির জন্য একটি বড় সমস্যা। ইঁদুরজাতীয় প্রাণী এ পাখির ডিম খেয়ে ফেলে। অস্ট্রেলিয়ার মানুষ এই পাখি এবং ডিম শিকার করে খায়। এত কিছুর পরও পাখিটি প্রকৃতিতে বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে। আশা করি, পাখিটি আমাদের দেশ থেকে তার আবাসভূমিতে ভালোভাবে ফিরে যেতে পারবে। ব্রিটিশ পাখিবন্ধু গ্যারি অলপর্ট ও তার বন্ধু জেন-এরিক নিলসেনকে এদেশের পাখি গবেষণায় অবদান রাখায় অসংখ্য ধন্যবাদ।

 

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো, আইইউসিএন