সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা Logo বৈধ অস্ত্র ৩১ জানুয়ারির মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ Logo সিলেটে ট্রেনের ধাক্কায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া হাতির অবস্থা আশঙ্কাজনক Logo সড়কজুড়ে অবৈধ বালুর ব্যবসা, হুমকির মুখে পরিবেশ Logo শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo যে উপায়ে কাপড়ের কঠিন দাগ সহজে দূর করা যায় Logo ইরানে বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৫ হাজার, ইসরায়েল-আমেরিকাকে দায়ী করলেন খামেনি Logo প্লাস্টিক বর্জ্য পুড়িয়ে ধান সেদ্ধ! বাতাসে, খাদ্যে, ফসলে বিষ Logo জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পৃথক বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

দ্বিতীয় সপ্তাহে কপ ৩০: কার্যকর রোডম্যাপের দাবি তুঙ্গে, ঋণ নয় অনুদান আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান   

দ্বিতীয় সপ্তাহে কপ ৩০: কার্যকর রোডম্যাপের দাবি তুঙ্গে, ঋণ নয় অনুদান আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান   

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনে কার্যকর রোডম্যাপের অভাব, লবিস্টদের প্রভাব এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য অর্থায়নের অপ্রতুলতার চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে আমাজনের বিপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জলবায়ু ন্যায্যতায় পদক্ষেপ নিতে দেরি করলে ফলাফল হবে

 

ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ ত্রিশের আসর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও দর কষাকষি হয়েছে।

 

গবেষণা বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতিমধ্যেই প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে, শতাব্দি শেষে তা আড়াই ডিগ্রি অতিক্রম করবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিজ্ঞানীরা।  এমন অবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানী বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থার তাগিদ বিশ্বমঞ্চে।

 

সম্মেলনের সাইড ইভেন্টগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবারেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে।

 

এর মধ্যে ‘ন্যাচারাল রাইটস লেড গভার্নেন্স’ শীর্ষক একটি রূপান্তরমূলক সংলাপে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভসহ একাধিক বাংলাদেশি সংস্থা প্রকৃতির অধিকারভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, ‘ফ্রেশওয়াটার প্রোভিজনিং ইন দ্য কোস্টাল ইকোসিস্টেমস অফ বাংলাদেশ: এ কেস অফ ফ্রুগাল ইনোভেশন’ বিষয়ে ইউএনএফসিসিসির অফিশিয়াল সাইড ইভেন্টে আলোচনা হয়েছে।

 

সেসময় উপকূলীয় অঞ্চলে মিঠাপানি সরবরাহের মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপিত হয়। ইভেন্টগুলোতে বৈশ্বিক নীতি ও স্থানীয় অভিযোজন—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা উঠে এসেছে।

 

বেলেমে শুরু থেকে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

 

তিনি দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো সম্মেলনের ফাঁকে বলেন, ‘কপ ৩০’র হাইলেভেল সেগমেন্টের মিটিং শুরু হয়েছে। সেখানে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আমাদের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় যে সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে তা সবিস্তারে তুলে ধরে সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে সারা পৃথিবীতেই সুপেয় পানির বিরাট সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট উত্তোরণ করতে হলে আমাদের পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে, সংযমী হতে হবে। ধরিত্রীকে ভাল রাখার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

 

ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতে অনুদান ভিত্তিক অর্থায়নের বাধ্যবাধকতা তুলে ধরেছেন পরিবেশবিদরা।

 

এ বিষয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমরা যে অর্থ পাচ্ছি সেটা কিন্তু আমাদের ঋণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ঋণ চাই না, অনুদান চাই-গ্রান্ট চাই। আর এজন্য আমাদের আরও সোচ্চার হয়ে আমাদের প্রাপ্য অনুদান আদায় করে নিতে হবে।’

 

সব মিলিয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য, স্বচ্ছতা, জলবায়ু অর্থায়ন, এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়গুলো৷ যা জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান

 

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তা

দ্বিতীয় সপ্তাহে কপ ৩০: কার্যকর রোডম্যাপের দাবি তুঙ্গে, ঋণ নয় অনুদান আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান   

আপডেট সময় ০৬:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাজিলের বেলেমে চলমান জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনে কার্যকর রোডম্যাপের অভাব, লবিস্টদের প্রভাব এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য অর্থায়নের অপ্রতুলতার চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে আমাজনের বিপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জলবায়ু ন্যায্যতায় পদক্ষেপ নিতে দেরি করলে ফলাফল হবে

 

ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ ত্রিশের আসর দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতেই আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও দর কষাকষি হয়েছে।

 

গবেষণা বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতিমধ্যেই প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে, শতাব্দি শেষে তা আড়াই ডিগ্রি অতিক্রম করবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিজ্ঞানীরা।  এমন অবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানী বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থার তাগিদ বিশ্বমঞ্চে।

 

সম্মেলনের সাইড ইভেন্টগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবারেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে।

 

এর মধ্যে ‘ন্যাচারাল রাইটস লেড গভার্নেন্স’ শীর্ষক একটি রূপান্তরমূলক সংলাপে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভসহ একাধিক বাংলাদেশি সংস্থা প্রকৃতির অধিকারভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, ‘ফ্রেশওয়াটার প্রোভিজনিং ইন দ্য কোস্টাল ইকোসিস্টেমস অফ বাংলাদেশ: এ কেস অফ ফ্রুগাল ইনোভেশন’ বিষয়ে ইউএনএফসিসিসির অফিশিয়াল সাইড ইভেন্টে আলোচনা হয়েছে।

 

সেসময় উপকূলীয় অঞ্চলে মিঠাপানি সরবরাহের মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপিত হয়। ইভেন্টগুলোতে বৈশ্বিক নীতি ও স্থানীয় অভিযোজন—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা উঠে এসেছে।

 

বেলেমে শুরু থেকে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু।

 

তিনি দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো সম্মেলনের ফাঁকে বলেন, ‘কপ ৩০’র হাইলেভেল সেগমেন্টের মিটিং শুরু হয়েছে। সেখানে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আমাদের উপকূলীয় এলাকাগুলোয় যে সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে তা সবিস্তারে তুলে ধরে সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে সারা পৃথিবীতেই সুপেয় পানির বিরাট সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট উত্তোরণ করতে হলে আমাদের পানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে হবে, সংযমী হতে হবে। ধরিত্রীকে ভাল রাখার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

 

ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতে অনুদান ভিত্তিক অর্থায়নের বাধ্যবাধকতা তুলে ধরেছেন পরিবেশবিদরা।

 

এ বিষয়ে প্রকৃতিবন্ধু বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমরা যে অর্থ পাচ্ছি সেটা কিন্তু আমাদের ঋণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা ঋণ চাই না, অনুদান চাই-গ্রান্ট চাই। আর এজন্য আমাদের আরও সোচ্চার হয়ে আমাদের প্রাপ্য অনুদান আদায় করে নিতে হবে।’

 

সব মিলিয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য, স্বচ্ছতা, জলবায়ু অর্থায়ন, এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়গুলো৷ যা জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

প্রতিবেদন: আলীম আল রাজী

ভিডিওচিত্র: মেহেদী হাসান