সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খাগড়াছড়িতে বনমোরগ জব্দ করে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত! Logo চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ Logo আগামী ৫ দিন দেশের কয়েক জায়গায় বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে Logo ভারতের তৃতীয় নাকি নিউজিল্যান্ডের প্রথম? আজ কার হাতে উঠবে শিরোপা? Logo নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন আলোচিত-সমালোচিত বালেন্দ্র শাহ      Logo ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা পেলেন খালেদা জিয়াসহ ৬ নারী Logo ইরান কতদিন পর্যন্ত তীব্র হামলা চালিয়ে যেতে পারবে জানালো আইআরজিসি Logo যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো কাতার থেকে ছাড়ছে এলএনজির জাহাজ, গন্তব্য বাংলাদেশ! Logo আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ Logo স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন প্রকৃতিবন্ধু মুকিত মজুমদার বাবু

নতুন অধ্যাদেশ জারি: ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা  বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

নতুন অধ্যাদেশ জারি: ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা  বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন থেকে নদী-নালা বা যে কোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বা ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল রাষ্ট্রপতি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন। এই অধ্যাদেশ মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও হ্রদের পাশাপাশি প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও এই আইনের আওতায় থাকবে।

সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এছাড়া, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘অন্যান্য কার্যকর এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’ বা ‘ওএসিম’ ঘোষণার নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ওএসিম বলতে এমন ভৌগোলিকভাবে সংজ্ঞায়িত এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সুরক্ষিত এলাকার বাইরেও জলজ জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাদেশে নতুন যুক্ত হওয়া ৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বা ধ্বংস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা রাখবে।

মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে বনমোরগ জব্দ করে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত!

নতুন অধ্যাদেশ জারি: ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা  বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

আপডেট সময় ০৬:১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর ফলে এখন থেকে নদী-নালা বা যে কোনো জলাশয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে বা ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল রাষ্ট্রপতি এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেন। এই অধ্যাদেশ মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন অধ্যাদেশে ‘জলাশয়’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নদী, ঝর্ণা, মোহনা, খাল, বিল, হাওর, বাওড় ও হ্রদের পাশাপাশি প্লাবনভূমি, পুকুর, দিঘি, ঘের এবং ঋতুগতভাবে ডুবে থাকা এলাকা বা জলাভূমিও এই আইনের আওতায় থাকবে।

সংশোধিত আইনের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, মাছ শিকারের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ‘ইলেকট্রোফিশিং ডিভাইস’ বা বিদ্যুৎ প্রবাহিত সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এছাড়া, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘অন্যান্য কার্যকর এলাকা-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা’ বা ‘ওএসিম’ ঘোষণার নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। ওএসিম বলতে এমন ভৌগোলিকভাবে সংজ্ঞায়িত এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, যা সুরক্ষিত এলাকার বাইরেও জলজ জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাদেশে নতুন যুক্ত হওয়া ৪খ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় জলাশয়ে মৎস্য বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি বা ধ্বংস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া টেকসই মৎস্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সরকার বিশেষ নির্দেশনা জারি করার ক্ষমতা রাখবে।

মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকার ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।