বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও নদীপ্রেমী লেখক মুহাম্মদ মনির হোসেনের সম্পাদিত নদী, প্রকৃতি, পরিবেশ এবং পর্যটন বিষয়ক প্রকাশনা ‘নদীকাহন’ গ্রন্থের পাঠ উন্মোচন ও লেখক-পাঠক নদী আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারী) বিকেলে রাজধানীর গ্রীন রোডে ওয়ারপো ভবন সভাকক্ষে এ নদী আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়।
নদী আড্ডায় নদী রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, নদী বাংলাদেশের জীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীকে বাঁচাতে হলে শুধু আইন নয়, মানুষের সচেতনতা ও ভালোবাসাও জরুরি। ‘নদীকাহন’ গ্রন্থটি নদীর সৌন্দর্য, সংকট এবং সম্ভাবনাকে পাঠকের সামনে তুলে ধরবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। লেখক, প্রকাশক, আলোচক ও সমালোচক মিলিয়ে জমজমাট নদী আড্ডা অতিবাহিত হয়।

নদীকাহন প্রকাশনা নিয়ে মনির হোসেন বলেন, নদী সুরক্ষার পক্ষে, নদী বিপর্যয় রোধের পক্ষে এবং নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে এই ‘নদীকাহন’। আমরা বিশ্বাস করি যদি আমাদের মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার মতোই চেতনায় অভিন্ন। তাই নদী রক্ষা আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও নৈতিক অঙ্গীকার। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী বাচঁলেই বাংলাদেশ বাঁচবে।

মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আমাদের এই নদীকাহন প্রকাশনা শুরু করেছি এই জন্য যে, আমাদের অনেক কিছু একাডেমিক বিষয়গুলো দিয়ে অনেক জায়গায় পৌঁছানো যায় না। কেউ কবিতার মাধ্যমে নদী রক্ষার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিবে। তার কবিতা লেখার উৎসাহ প্রদান করবে নদীকাহন। কেউ নদী রক্ষার বার্তা দিয়ে ছড়া লিখবে, কেউ প্রবন্ধ লিখবে, কেউ গবেষণাধর্মী লেখা লিখবে। এই নদীকাহন সবার বার্তা পৌঁছে দিবে মানুষের কাছে। গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গবেষণা, ছড়া, কবিতা এবং প্রতিবেদন সব কিছু মিলিয়ে যেন নদীর কথা আমরা বলতে পারি তাই আমাদের এই নদীকাহন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদ, লেখক, সাংবাদিক ও নদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ‘নদীকাহন’ গ্রন্থটিকে নদী ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও সচেতনতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে জাতীয় পানি নীতি ২০২৫ প্রণয়ন বিষয়ক গণশুনানি ও মতামত গ্রহণ শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় পানি বিশেষজ্ঞ ও নদী রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন শুধু প্রস্তাবনা না দিয়ে, বাস্তবায়ন জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠান নদী দখল করে পানির ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর হতে হবে।

মতবিনিময় কর্মশালায় পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো)মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, আমাদের অবহেলায় দূষিত হচ্ছে নদী ও নদীর পানি। আমরা ময়লা ফেলি ড্রেনে, ড্রেন থেকে ময়লা চলে যায় খালে, খাল থেকে নদীতে।ঢাকা শহরের চারপাশে ৪টা নদী রয়েছে। এই নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকাকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। পানি রক্ষায় ওয়ারপো আগামীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট পলিসি নিয়ে কাজ করবে।
জোবায়ের আহমেদ 




















