সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ Logo ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের Logo ৮ ইউএনওকে বদলির আদেশ বাতিল Logo সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতিসংঘের ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর, স্বাগত জানালো চীন Logo মাঘে শীত কেন কম লাগছে? যা বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo বদ্বীপে নতুন বিপদ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির চেয়েও দ্রুত নামছে মাটির স্তর Logo বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজি হতে হবে! Logo নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু: মানতে হবে ইসির আচরণবিধি Logo প্রকৃতি ও জীবনের ৪০০ তম পর্ব ‘চর ও জীবন’ Logo ভারতে যদি বাংলাদেশ না খেলে তাহলে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি

নিয়মিত হাই হিল পরার ফলে হতে পারে মানসিক সমস্যা

ফ্যাশনের দুনিয়ায় নারীদের সৌন্দর্য ও স্টাইলের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে হাই হিল। বিশেষ করে নানা পার্টি, অফিস বা উৎসবের সাজে হাই হিল যেন এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। অনেকেই মনে করেন, হাই হিল পরলে নারী আরও আকর্ষণীয়, স্মার্ট ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই ফ্যাশন স্টেটমেন্টের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক যন্ত্রণা!

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস নারীদের শুধু শারীরিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দীর্ঘসময় পরে এটি মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, উঁচু হিল পরলে হাঁটার গতি কমে যায়, শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং হাঁটু ও মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই শারীরিক অস্বস্তিগুলো থেকে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং অবসাদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

গবেষণা বলছে, যেসব নারী প্রতিদিন হাই হিল পরেন, তারা ফ্ল্যাট জুতো পরা নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি পিঠের ব্যথা ও মানসিক চাপের শিকার হন। কারণ শরীরে যখন দীর্ঘসময় ব্যথা থাকে, তখন কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলেই দেখা দেয় উদ্বেগ, মেজাজের পরিবর্তন ও অস্বস্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক বা সাজসজ্জা যদি আরামদায়ক ও পছন্দনীয় হয়, তবে তা আমাদের মস্তিষ্কে ‘ইতিবাচক উদ্দীপনা’ তৈরি করে, ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। এটি আত্মবিশ্বাস ও ভালো মেজাজ ধরে রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু হাই হিলের কারণে যদি শরীরে ব্যথা বা চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেই ‘ইতিবাচক অনুভূতি’ উল্টো নেতিবাচক সংকেতে পরিণত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

তবে কি হাই হিল পুরোপুরি বর্জন করতে হবে? না, কিছু সচেতনতা মেনে চললেই শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। চলুন, দেখে নিই হাই হিল ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি কমানোর কিছু কার্যকর উপায়—

সঠিক হিল নির্বাচন করুন

হিলের আকার ও উচ্চতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চওড়া ও তুলনামূলক ছোট হিল ভারসাম্য রাখতে সুবিধা দেয় এবং পায়ের ওপর চাপ কম পড়ে।

পরিধানের সময়সীমা নির্ধারণ করুন

প্রতিদিন হিল পরার বদলে বিশেষ অনুষ্ঠান, অফিস মিটিং বা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পরুন। দীর্ঘসময় পরা এড়িয়ে চলুন।

পায়ের ব্যায়াম করুন

নিয়মিত পায়ের কিছু ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে, ব্যথা ও চাপে স্বস্তি পাওয়া যায়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ

নিয়মিত হাই হিল পরার ফলে হতে পারে মানসিক সমস্যা

আপডেট সময় ১২:১৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফ্যাশনের দুনিয়ায় নারীদের সৌন্দর্য ও স্টাইলের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে হাই হিল। বিশেষ করে নানা পার্টি, অফিস বা উৎসবের সাজে হাই হিল যেন এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। অনেকেই মনে করেন, হাই হিল পরলে নারী আরও আকর্ষণীয়, স্মার্ট ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই ফ্যাশন স্টেটমেন্টের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক যন্ত্রণা!

ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত হাই হিল পরার অভ্যাস নারীদের শুধু শারীরিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, দীর্ঘসময় পরে এটি মানসিক স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা অনুযায়ী, উঁচু হিল পরলে হাঁটার গতি কমে যায়, শরীরের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং হাঁটু ও মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই শারীরিক অস্বস্তিগুলো থেকে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ এবং অবসাদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

গবেষণা বলছে, যেসব নারী প্রতিদিন হাই হিল পরেন, তারা ফ্ল্যাট জুতো পরা নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি পিঠের ব্যথা ও মানসিক চাপের শিকার হন। কারণ শরীরে যখন দীর্ঘসময় ব্যথা থাকে, তখন কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলেই দেখা দেয় উদ্বেগ, মেজাজের পরিবর্তন ও অস্বস্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোশাক বা সাজসজ্জা যদি আরামদায়ক ও পছন্দনীয় হয়, তবে তা আমাদের মস্তিষ্কে ‘ইতিবাচক উদ্দীপনা’ তৈরি করে, ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। এটি আত্মবিশ্বাস ও ভালো মেজাজ ধরে রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু হাই হিলের কারণে যদি শরীরে ব্যথা বা চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেই ‘ইতিবাচক অনুভূতি’ উল্টো নেতিবাচক সংকেতে পরিণত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

তবে কি হাই হিল পুরোপুরি বর্জন করতে হবে? না, কিছু সচেতনতা মেনে চললেই শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। চলুন, দেখে নিই হাই হিল ব্যবহারে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি কমানোর কিছু কার্যকর উপায়—

সঠিক হিল নির্বাচন করুন

হিলের আকার ও উচ্চতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চওড়া ও তুলনামূলক ছোট হিল ভারসাম্য রাখতে সুবিধা দেয় এবং পায়ের ওপর চাপ কম পড়ে।

পরিধানের সময়সীমা নির্ধারণ করুন

প্রতিদিন হিল পরার বদলে বিশেষ অনুষ্ঠান, অফিস মিটিং বা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে পরুন। দীর্ঘসময় পরা এড়িয়ে চলুন।

পায়ের ব্যায়াম করুন

নিয়মিত পায়ের কিছু ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে, ব্যথা ও চাপে স্বস্তি পাওয়া যায়।