নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে

  • নাসিমুল শুভ
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • 57

২০২২ সাল, কুর্দি তরুণী মাশা আমিনিকে সঠিকভাবে হিজাব না পরার দায়ে মারধর করে ইরানি নীতি পুলিশ। এতে ওই তরুণী হাসপাতালে মারা যান। সেই মর্মান্তিক ঘটনা ইরানসহ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ শিরোনামের আন্দোলন শুরু হয়, রাস্তায় নেমে আসেন ইরানের তরুণ-তরুণীরা। সেই বিক্ষোভে প্রচুর প্রাণহানি, হাজারো গ্রেপ্তারের পর অবশেষে কিছুটা নরম হয় ইরানের কট্টর শাসকরা। তবে সেই ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলছিল তুঁষের আগুনের মতোই। তাই এবার একই কট্টর শাসনের অধীনে যখন ইরানে দ্রব্যমূল্য চরমে তখন আবারও রাজপথে নেমে এলো ইরানিরা, শুরু হলো আগের চেয়েও তীব্র বিক্ষোভ। বরাবরের মতোই বিক্ষোভ দমনে ভীষণ কঠোর ইরানের কট্টরপন্থীরা। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে, অন্তত পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০০ প্রাণ গেছে।

 

এবার দেখে নেয়া যাক বিক্ষোভের মূল কারণসহ ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতা:

 

বিক্ষোভের মূল কারণসমূহ

১. অর্থনৈতিক সংকট: ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর রেকর্ড পতন (১ ডলারে প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল) এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি।

২. জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: ডিসেম্বরের শুরুতে সরকার ভর্তুকিপ্রাপ্ত পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

৩. রাজনৈতিক অসন্তোষ: ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

৪. ইন্টারনেট ও মতপ্রকাশে বাধা: সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ধরপাকড়।

 

১৬ দিনের বিক্ষোভের টাইমলাইন (২০২৫ – ২০২৬)

এই টাইমলাইনটি মূলত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আন্দোলনের ১৬ দিনের প্রধান ঘটনাগুলো তুলে ধরছে:

দিন ১

২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে বিক্ষোভের শুরু। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দিন ২

২৯ ডিসেম্বরবিক্ষোভ তেহরান থেকে অন্যান্য বড় শহর যেমন মাশহাদ ও ইসফাহানে ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করেন।

দিন ৩

৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

দিন ৪

৩১ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণ ইরানের ফাসা শহরে সরকারি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ শুরু করে।

দিন ৫

১ জানুয়ারি নতুন বছরের শুরুতে বিক্ষোভ অন্তত ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে হতাহতের খবর পাওয়া শুরু হয়।

দিন ৬-৭

২-৩ জানুয়ারি বিক্ষোভকারীরা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু” স্লোগান দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়। সরকার কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সীমিত করে দেয়।

দিন ৮

৪ জানুয়ারি ইরানের ৩০টিরও বেশি শহরে রাতভর বিক্ষোভ চলে। বেশ কিছু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

দিন ৯

৫ জানুয়ারি মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, অন্তত ১৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং শত শত মানুষ গ্রেফতার হয়েছে।

দিন ১০

৬ জানুয়ারি তেহরানের বাজারে ব্যবসায়ীরা পুনরায় সিট-ইন কর্মসূচি পালন করে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করে।

দিন ১১-১২

৭-৮ জানুয়ারি কুর্দিস্তান অঞ্চলে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্সের আহ্বানে মানুষ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরু করে।

দিন ১৩

৯ জানুয়ারি আইআরজিসি (IRGC) বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে সরাসরি মাঠে নামানো হয়।

দিন ১৪

১০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সত্ত্বেও দমন-পীড়ন তীব্র হয়। কারাবন্দী নেতা ও শিল্পীরা বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানান।

দিন ১৫

১১ জানুয়ারি শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বিক্ষোভের সমর্থনে ধর্মঘটের ডাক দেয়। জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

দিন ১৬

১২ জানুয়ারি বিক্ষোভের ১৬তম দিনে এসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য আদান-প্রদান কঠিন হয়ে পড়ে, তবে ছোট ছোট গ্রুপে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

 

বর্তমান অবস্থা

বিক্ষোভ এখন কেবল অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে মোড় নিয়েছে। সরকার একে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

 

বিক্ষোভ শহরে শহরে

তেহরান

রাজধানীতে মূলত ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে বিক্ষোভ চলছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত জড়ো হচ্ছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আসার আগেই জায়গা পরিবর্তন করছে। তেহরান ইউনিভার্সিটি এবং শরিফ ইউনিভার্সিটির আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

 

২. জাহেদান

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই শহরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। জুমার নামাজের পর প্রতিবারই সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে। এখানকার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর লাইভ অ্যামুনিশন বা তাজা গুলির মুখে পড়ছে।

 

৩. তাবরিজ ও মাশহাদ

এই বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ব্যবসায়ীরা দোকানের অর্ধেক সাটার নামিয়ে ‘মৌন প্রতিবাদ’ জানাচ্ছেন। এখানে মূলত অর্থনৈতিক ধসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বেশি তীব্র।

 

৪. সানানদাজ

কুর্দি অধ্যুষিত এই শহরে কার্যত শাটডাউন চলছে। দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। এখানে আইআরজিসি (IRGC) ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

প্লাস্টিক দূষণ রোধে বৈশ্বিক চুক্তির আলোচনা করতে নতুন নেতা নির্বাচিত  

নিহত আনুমানিক ৫০০! ইরানে হচ্ছেটা কী! দেশটির নতুন বিক্ষোভের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ দেখুন টাইমলাইনে

আপডেট সময় ০১:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

২০২২ সাল, কুর্দি তরুণী মাশা আমিনিকে সঠিকভাবে হিজাব না পরার দায়ে মারধর করে ইরানি নীতি পুলিশ। এতে ওই তরুণী হাসপাতালে মারা যান। সেই মর্মান্তিক ঘটনা ইরানসহ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। প্রতিবাদে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ শিরোনামের আন্দোলন শুরু হয়, রাস্তায় নেমে আসেন ইরানের তরুণ-তরুণীরা। সেই বিক্ষোভে প্রচুর প্রাণহানি, হাজারো গ্রেপ্তারের পর অবশেষে কিছুটা নরম হয় ইরানের কট্টর শাসকরা। তবে সেই ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলছিল তুঁষের আগুনের মতোই। তাই এবার একই কট্টর শাসনের অধীনে যখন ইরানে দ্রব্যমূল্য চরমে তখন আবারও রাজপথে নেমে এলো ইরানিরা, শুরু হলো আগের চেয়েও তীব্র বিক্ষোভ। বরাবরের মতোই বিক্ষোভ দমনে ভীষণ কঠোর ইরানের কট্টরপন্থীরা। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হচ্ছে, অন্তত পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫০০ প্রাণ গেছে।

 

এবার দেখে নেয়া যাক বিক্ষোভের মূল কারণসহ ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতা:

 

বিক্ষোভের মূল কারণসমূহ

১. অর্থনৈতিক সংকট: ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর রেকর্ড পতন (১ ডলারে প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল) এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি।

২. জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: ডিসেম্বরের শুরুতে সরকার ভর্তুকিপ্রাপ্ত পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

৩. রাজনৈতিক অসন্তোষ: ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

৪. ইন্টারনেট ও মতপ্রকাশে বাধা: সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং ধরপাকড়।

 

১৬ দিনের বিক্ষোভের টাইমলাইন (২০২৫ – ২০২৬)

এই টাইমলাইনটি মূলত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আন্দোলনের ১৬ দিনের প্রধান ঘটনাগুলো তুলে ধরছে:

দিন ১

২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মাধ্যমে বিক্ষোভের শুরু। মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দিন ২

২৯ ডিসেম্বরবিক্ষোভ তেহরান থেকে অন্যান্য বড় শহর যেমন মাশহাদ ও ইসফাহানে ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করেন।

দিন ৩

৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

দিন ৪

৩১ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণ ইরানের ফাসা শহরে সরকারি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জ শুরু করে।

দিন ৫

১ জানুয়ারি নতুন বছরের শুরুতে বিক্ষোভ অন্তত ২৫টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে হতাহতের খবর পাওয়া শুরু হয়।

দিন ৬-৭

২-৩ জানুয়ারি বিক্ষোভকারীরা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু” স্লোগান দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়। সরকার কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সীমিত করে দেয়।

দিন ৮

৪ জানুয়ারি ইরানের ৩০টিরও বেশি শহরে রাতভর বিক্ষোভ চলে। বেশ কিছু সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

দিন ৯

৫ জানুয়ারি মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানায়, অন্তত ১৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং শত শত মানুষ গ্রেফতার হয়েছে।

দিন ১০

৬ জানুয়ারি তেহরানের বাজারে ব্যবসায়ীরা পুনরায় সিট-ইন কর্মসূচি পালন করে। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করে।

দিন ১১-১২

৭-৮ জানুয়ারি কুর্দিস্তান অঞ্চলে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্সের আহ্বানে মানুষ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুরু করে।

দিন ১৩

৯ জানুয়ারি আইআরজিসি (IRGC) বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিক্ষোভ দমনে সরাসরি মাঠে নামানো হয়।

দিন ১৪

১০ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সত্ত্বেও দমন-পীড়ন তীব্র হয়। কারাবন্দী নেতা ও শিল্পীরা বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানান।

দিন ১৫

১১ জানুয়ারি শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বিক্ষোভের সমর্থনে ধর্মঘটের ডাক দেয়। জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

দিন ১৬

১২ জানুয়ারি বিক্ষোভের ১৬তম দিনে এসে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য আদান-প্রদান কঠিন হয়ে পড়ে, তবে ছোট ছোট গ্রুপে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

 

বর্তমান অবস্থা

বিক্ষোভ এখন কেবল অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবিতে মোড় নিয়েছে। সরকার একে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

 

বিক্ষোভ শহরে শহরে

তেহরান

রাজধানীতে মূলত ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলে বিক্ষোভ চলছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত জড়ো হচ্ছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী আসার আগেই জায়গা পরিবর্তন করছে। তেহরান ইউনিভার্সিটি এবং শরিফ ইউনিভার্সিটির আশেপাশে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

 

২. জাহেদান

ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এই শহরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। জুমার নামাজের পর প্রতিবারই সেখানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হচ্ছে। এখানকার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর লাইভ অ্যামুনিশন বা তাজা গুলির মুখে পড়ছে।

 

৩. তাবরিজ ও মাশহাদ

এই বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ব্যবসায়ীরা দোকানের অর্ধেক সাটার নামিয়ে ‘মৌন প্রতিবাদ’ জানাচ্ছেন। এখানে মূলত অর্থনৈতিক ধসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বেশি তীব্র।

 

৪. সানানদাজ

কুর্দি অধ্যুষিত এই শহরে কার্যত শাটডাউন চলছে। দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। এখানে আইআরজিসি (IRGC) ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টহল দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।