নেপালে বিক্ষোভ-সহিংসতায় পর্যটন খাতে ২৫ বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়েছে। কেবল হিলটন হোটেলেই ক্ষয়ক্ষতি ৮ বিলিয়ন রুপি। হোটেলে ভাঙচুর-আগুনের কারণে অনেক বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। এতে, মূল পর্যটন মৌসুম শুরুর ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেল দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটি।
অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সহিংসতা চলে বিভিন্ন জায়গায়। বাদ যায়নি পর্যটন কেন্দ্র এবং হোটেল-মোটেল। হিলটনসহ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোটেলে আগুনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ব্যাপক ধবংসযজ্ঞের খবর টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশি পর্যটকরা হোটেল বুকিং বাতিল ও স্থগিত করেন।

দেশটির হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, ২০টির বেশি হোটেলে লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়েছে। কাঠমান্ডু ছাড়াও পোখরা, ভৈরহওয়া, বিরাট/নগর ও ধানগাধি শহরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিমালয়ান টাইমসের হিসাবে, পর্যটন খাতে ক্ষতি আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন রুপি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্থাপনা পোড়ানোর ছবি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও বড় ধাক্কার কারণ হতে পারে।
এদিকে আজ রোববার(১৪ সেপ্টেম্বর) নেপালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুশীলা কার্কি।

নেপালে আন্দোলন থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে মন্তব্য করে, তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিংহ দরবারে নিজের নতুন কার্যালয়ের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব নেয়ার আগে, সকালে তিনি লেইনচৌরে শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্কি জেন-জি আন্দোলনের নিহতদের পরিবারের জন্য ১০ লাখ রুপির সহায়তার ঘোষণা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের শহিদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্দোলনে আহত ১৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং ৫৭ জন পুলিশ সদস্যের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আন্দোলনের সময় হওয়া ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। জেন-জি আন্দোলনে নিহতদের সংখ্যা বর্তমানে ৭২-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন কারাবন্দী এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 

























