ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় পাকিস্তান, ভারত-শাসিত কাশ্মীর এবং নেপালের বিভিন্ন অংশে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। রোববার (১৭ আগস্ট) মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। দেশটির উত্তরাঞ্চল বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) শনিবার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ৩৪৪ জন নিহত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানেই নিহত হয়েছে ৩২৮ জন। গিলগিট বালতিস্তানে নিহত ১২ জন এবং আজাদ কাশ্মীরে নিহত হয়েছে ১১ জন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। কেননা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বুনার, সোয়াত, বাজৌর, বাটাগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব এলাকায় অনেক বাড়ি, দোকান এবং বিভিন্ন স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সীমান্তের ওপারে, জনপ্রিয় তীর্থস্থান চাশোটিতে কমপক্ষে ৬০ জন মারা গেছেন এবং ২০০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালে বন্যা ও ভূমিধসের ফলে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত এবং ১২১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ বলছে, রোববার থেকে বৃষ্টিপাত আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা আরও আকস্মিক বন্যা এবং নগর বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
ভারতের আবহাওয়াবিদরা মেঘভাঙনে ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাতকে দায়ী করেছেন। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট হিমালয় জুড়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং বন্যাকে তীব্রতর করছে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 



















