এক সময় আমাদের বনবাদার, মাঠ-ঘাট
পাখ-পাখালির বিচরণে মুখরিত ছিল,
তখন পাখির কলতানে ঘুম ভাঙতো
ঘুম থেকে জেগে মনটা ভালো হয়ে যেতো
পাখির সুমধুর ডাক শুনে।
শিল্পায়ন ও নগরায়নের ছোঁয়ায় পাখির অভয়ারণ্য বিলুপ্ত প্রায়,
পরিনামে কিছু কিছু পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াসহ,
ক্রমান্বয়ে পাখির সংখা কমে যাচ্ছে।
পর্যাপ্ত অভয়ারন্য না থাকায় আগের মতো
পরিযায়ী পাখিরও দেখা মিলছে না।
এতে করে পাখিদের অস্তিত্ব রক্ষা যেমন সংকটের মুখে পড়ছে,
অন্যদিকে পরিবেশগত ভারসাম্যহীণতা নষ্ট হচ্ছে।
অতিথি পাখি আনাগোনা কমে যাচ্ছে এবং মারা পড়ছে,
যা পাখিপ্রেমীদের অন্তরাত্মা বিষাদময় করে তুলছে।
গাছপালা যেমন ফুলেফলে পৃথিবীকে সাজিয়ে রাখে,
পাখিও তেমনি প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্যের আধার,
এখানে সেখান নানান বর্ণের পাখিদের মেলা,
সে যে কী সুন্দর!
দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়।
আবার অন্যদিকে এরা নানাভাবে, প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবদান রাখছে।
সামান্যতম কাক দেখতে কতো অসুন্দর,
এদের কা কা রব শুনতে খারাপ লাগলেও
এরা বেশ উপকারী পাখি।
এদেরকে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হয়,
এরা নানান রকম ময়লা আবর্জনা খেয়ে
প্রকৃতিকে বিভিন্ন দূষণ থেকে রক্ষা করে থাকে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো,
ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে এরা প্রায়ই মারা যাচ্ছে,
অন্যদিকে শহরাঞ্চলে গাছপালা কমে যাওয়ায় কাকের সংখ্যাও দিন দিন কমছে।
পরিবেশবান্ধব আর একটি পাখি শকুন,
এখন বিলুপ্ত প্রায়।
কদাচিৎ দুই একটি অঞ্চলে হয়তো এর দেখা পাওয়া যায়,
শকুনও মৃত জীবজন্তু খেয়ে পরিবেশকে রক্ষা করে থাকে,
কিন্তু অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয় হলো
বেঁচে থাকার জন্য তারা প্রকৃতি থেকে যে খাবার সে খায়,
তাতে ক্লোরোফেনাক নামক এক ধরণের ওষুধ ব্যবহার করায়,
তা তাদের জীবন বিনষ্টের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে,
ফলে এসব খাবার খেয়ে তারা মারা যাচ্ছে।
অথচ তারা এসব মৃত জীবজন্তু খেয়ে প্রকৃতিকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।
এমন এক সময় ছিলো মানুষ শখের বশে পাখি শিকার করতো,
এখনও মানুষ সামান্য লোভের বশবর্তী হয়ে,
পরিযায়ী পাখিদের শিকার করে বিক্রি করে,
আর আমরা আমাদের রসনা বিলাসের জন্য তা কিনে খাই,
এটা পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য-
একটি নির্মম ও অমানবিক বিষয়,
আর পরিবেশের জন্য একটি অকল্পনীয় ক্ষতিকর বিষয়।
পরিযায়ী পাখি শিকার করা আইনত দন্ডনীয়,
আমরা অনেকেই তা জানিনা,
আবার অনেকে জেনেশুনেও এ অন্যায় কাজ করছি।
আমরা অনেকেই আবার খাঁচায় পাখি পুষে আনন্দ পাই,
মানুষের শখ যে কতো বিচিত্র-আমি তা বুঝে উঠতে পারি না,
আমরা সামান্য এ কথা বুঝি না,
বণ্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
চলুন আমরা পাখি রক্ষায় কাজ করি
পাখির নিরাপদ আবাস গড়ি।
সবাই সমস্বরে আওয়াজ তুলি
আর পাখি নিধন নয়
গোটা বিশ্বই হোক পাখির জন্য একটি নিরাপদ অভয়াশ্রম।
আলম হোসেন 




















