পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেছেন, পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, বিনামূল্যে পানি পেলাম আর দূষণ করলাম এটা করা যাবে না।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর গ্রীন রোডে ওয়ারপো সম্মেলন কক্ষে নদী রক্ষায় তারুণ্যের অঙ্গীকার: বাংলাদেশ পানি আইন বাস্তবায়ন ও দূষণ প্রতিরোধে করণীয়” মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
ওয়ারপো মহাপরিচালক বলেন, ঢাকা শহরে দৈনিক ২৩০ কোটি থেকে ২৬৫ কোটি লিটার পানি লাগে। এই পানির ৭০ শতাংশ পানি মাটির নিচ থেকে তোলা হচ্ছে প্রতিদিন। এভাবে চলতে থাকলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

নদী দূষণের কারণ আমরা নিজেরাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ময়লা ফেলি ড্রেনে, ড্রেন থেকে ময়লা চলে যায় খালে, খাল থেকে নদীতে। এভাবেই দূষিত হচ্ছে নদী ও নদীর পানি। ঢাকা শহরের চারপাশে ৪টা নদী রয়েছে। এই নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরো বলেন, শিল্পকারখানাগুলো বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন করে ব্যবহার করে দূষিত করে ফেলে দেয় নদীতে। নদী দূষণের এটা অন্যতম একটা কারণ। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কারখানাগুলোকে ইটিপি ব্যবহার করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোকে দূষিত পানিকে পরিশোধন করে ব্যবহার করতে হবে। নদী দূষণের আরেকটি কারণ সুয়ারেজ লাইন। অধিকাংশ বাসাবাড়ির সুয়ারেজ লাইন ড্রেনের সাথে সংযুক্ত। ড্রেন থেকে ময়লা পানি চলে যাচ্ছে খালে, খাল থেকে নদীতে। নদী বাঁচাতে হলে সুয়ারেজের পানি খালে বা নদীতে ফেলা যাবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনির হোসেন সবাইকে নদীপ্রাণ শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, পরিবেশ দূষণ ও নদী দূষণ রোধে পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প কিছু নেই। পারিবারিক শিক্ষাই হচ্ছে একজন মানুষের প্রকৃত শিক্ষা।
পানি আইন জানার ব্যাপারে তরুণদের উৎসাহ প্রদান করে মনির হোসেন বলেন, আইন না জানলে সঠিক ভাবে প্রয়োগ সম্ভব হবে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো পোর্ট এলাকায় একটি জলাধার দখল হচ্ছে এবং কারখানা হচ্ছে। আমি পরিত্রানের জন্য গেলে যদি আইন না জানি আমাকে ভুল বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিবে দখলদার বাহিনী। কিন্তু আমি যদি আইন জানি, তা হলে বলতে পারবো পানি আইনের ২০ ধারায় বলছে এখানে আপনি এটা করতে পারবেন না ১০ মিটারের মধ্যে। তাই একজন তরুণ হিসেবে পানি আইন জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর এবং প্রকৃতিবার্তা অনলাইনের সম্পাদক এ এম এম খায়রুল আনাম বলেন, সচেতনতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ । সচেতনতার অভাবে নদী দূষণ কমানো যাচ্ছে না। আজকে এই প্রোগ্রামে এসে মনে হচ্ছে প্রচুর কাজ হচ্ছে। কিন্তু যথাযত প্রচার হচ্ছে না, মানুষ জানতে পারছে না। যার ফলে নদী দূষণ রোধে মানুষ সচেতন হচ্ছে না। সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপগুলো গণমাধ্যমের প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) পরিচালক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন।

সভায় ১৭ টি সংগঠনের তরুণরা অংশগ্রহণ করেন। নদী দূষণে সচেতনতার অভাবকে দায়ী করে তারা বাংলাদেশ পানি আইন -২০১৩ এর বাস্তবায়ন চায়। পাশাপাশি একটি অ্যাপ এর মাধ্যমে নদী দূষণ ও দখলের চিত্র তুলে ধরা এবং নদী রক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরার আহ্বান জানান তরুণরা।
জোবায়ের আহমেদ 




















