পানি, চা ও কফি—এই তিনটার সঠিক সমন্বয়ই শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি। পানি, চা এবং কফি এই তিন তরল নিয়মিত ও সঠিক পরিমাণে পান করলে শরীর ও মন প্রাণবন্ত থাকে। দিনে সাত থেকে আট কাপ তরল গ্রহণ করলে সামগ্রিক মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম থাকে। “স্মার্ট হাইড্রেইশন’ বলতে বোঝানো হয় পানি, চা এবং কফির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা।
পানি শরীরের প্রাথমিক আর্দ্রতার চাহিদা মেটায়। তবে চা ও কফি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহরোধী যৌগ সরবরাহ করে, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষা দেয়। চা’তে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ ও ‘ফ্লাভানল্স’ কোষের বয়স কমাতে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। কফিতে থাকা ‘ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড’ মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ঠিক রাখে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গবেষণা অনুযায়ী, দিনে সাত থেকে আট কাপ তরল গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে দুই অংশ কফি, তিন অংশ চা এবং বাকি অংশ পানি হতে পারে।
“অর্থাৎ সকালে এক কাপ কফি, দুপুরে ও বিকেলে চা এবং সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি— এই সরল রুটিনই দীর্ঘজীবনের একটি নিঃশব্দ সহায়ক। এই মিশ্রণ একঘেয়ে ‘আট গ্লাস পানি’ নিয়মের চেয়ে শরীরকে আর্দ্র রাখতে আরও কার্যকর করে”। এই তিন পানীয় একত্রে মস্তিষ্ক, হজমতন্ত্র এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষা করে। কফি ও চা শরীরের প্রদাহ কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
পানির সঙ্গে মিশে এগুলো কোষে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায়। ফলে সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। তবে কয়েকটি সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। চিনি ছাড়া কফি ও চা পান করা উচিত। দুধ ব্যবহার করলে হালকা রাখতে হবে যেন পানীয় ভারী না হয়। রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ক্যাফিইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
দিনে গড়ে ২–২.৫ লিটার দরকা। শরীরের গঠন ও আবহাওয়া অনুযায়ী বাড়তে পারে। সকালে উঠে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করা ভালো। চা–কফির আগে ও পরে পানি পান করা জরুরি। চা দিনে ১–২ কাপ যথেষ্ট। দুধ-চা বা খুব মিষ্টি চা বেশি না। খালি পেটে চা এড়িয়ে চলা ভালো। গ্রিন টি হলে দিনে ১ কাপ যথেষ্ট। কফি দিনে ১ কাপ, সর্বোচ্চ ২ কাপ যথেষ্ট। এই সরল বিন্যাসই হতে পারে সুস্থ, দীর্ঘ ও দীপ্ত জীবনের চাবিকাঠি।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 
























