পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো রক্ষা এবং নদীর সাথে যে সম্পৃক্ত ঝর্ণাগুলো আছে সেগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে এ কথা বলেন তিনি।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) খাগড়াছড়ি টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা সভা।
সম্মিলনের আয়োজকদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ কথা বলে না, এমন একটা বিষয় নিয়ে আয়োজক সংস্থারা এই আয়োজন করছে, সেজন্য তাদের অনেক ধন্যবাদ। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এখানে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) রয়েছে, এখানে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে অর্থাৎ সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর এই আয়োজক সংস্থার মধ্যে আছে। তাদের জন্য আমি নিশ্চিত এটা নতুন একটা অভিজ্ঞতা। কেউ হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামের নদীগুলো নিয়ে এতটা ভাবেনি বা ভাবার প্রয়োজনও বোধ করেনি। আপনারা এই আয়োজনটা করেছেন, তার জন্য আপনাদের অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমরা নদীগুলোর প্রায় একটা সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করেছি। সেখানে একটা আপত্তি আছে যে, পার্বত্য অঞ্চলের সবগুলো নদী এই তালিকায় স্থান পায় নি। তার কারণ হচ্ছে এখানে ভূমি জরিপ সেভাবে হয় নি। যেহেতু ভূমি জরিপ সেভাবে হয়নি এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরস্থ নদীগুলোর জরিপ হয়নি ফলে নদীগুলো বাদ পড়েছে। কেউ বলছে এটা অমুক নদী, কেউ বলছে তমুক নদী। অর্থাৎ নদীগুলো সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। সরকার তো এই কন্ট্রাডিকশনের মাঝে তো কিছু করতে পারে না। আমাদের কিছু দালিলিক প্রমাণ তো লাগবে। সেজন্য আমরা নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট একটা কাজ শুরু করেছি যে, পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো চিহ্নিত করা হবে। একইভাবে সুন্দরবন এলাকার নদীগুলোকে চিহ্নিত করা হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের নদী নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তার প্রকৃতি অন্যরকম, তার সৌন্দর্য অন্যরকম, তার আবেদন অন্যরকম। জনগণের সাথে তাদের নির্ভরশীলতাও অন্য নদীর থেকেও অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকার মানুষ যেন পানি পায় অধিকারের সাথে। এই এলাকার নদী এবং ঝর্ণার অস্তিত্ব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত। এটা নিয়ে কথা বলুন। পাথর উত্তোলন হচ্ছে, বালু উত্তোলন হচ্ছে। পার্বত্য এলাকার নদীগুলো অবহেলিত। সরকার সরকারের মতো কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও তো কিছু দায়িত্ব আছে।
ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির গুরুত্বারোপ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমার শেষ কথা হচ্ছে, আপনারা এই সম্মেলনের পরে চেষ্টা করবেন একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করতে। আমি যে কয়দিন আছি সে কয়দিন কাজ করবো। আমি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে অনুরোধ করবো, নদী রক্ষা কমিশনকে অনুরোধ করবো, আমাদের যে আঞ্চলিক পরিষদ আছে তাদেরকে সম্পৃক্ত করে একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করেন। যাতে করে আমাদের নদী রক্ষা কমিশন কাজ সম্পর্কে বুঝতে পারে যে কি কাজ করতে হবে। কোথায় কোথায় আমাদের কাজের সুযোগ আছে। কমপ্লিট কাজের পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। আপনাদের এই সম্মেলন সফল হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আজকের এই সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
আরও পড়ুন: সফলভাবে সম্পন্ন হলো “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫” এর প্রথম দিনের কার্যক্রম
তিনি আরো বলেন, আরেকটি কথা বলার ছিল, সেটা হচ্ছে পার্বত্য এলাকায় আমাদের সেনাবাহিনীর সুদৃঢ় অবস্থান। আমরা যেহেতু আঞ্চলিক পরিষদের সাথে কথা বলবো, সেহেতু সেনাবাহিনীর সাথেও কথা বলতে হবে, যে এলাকায় সেনা ঘাঁটি সে এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন কেমন করে হয়? সকলেরই তো একটা দায়িত্ব আছে। আমি যদি কোনও দায়িত্ব নিই, তাহলে সেটা আমাকে বলে দিতে হবে? বলে দিলে পালন করবো নয়তো করবো না, এটা তো হতে পারে না। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা, ঝর্ণা রক্ষা করা এটা আমাদের সবার দায়িত্ব । আজকের এই সম্মেলনের পরে আপনারা মাসব্যাপী একটা সার্ভে করেন। আমার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে কোনও সাহায্য প্রয়োজন হলে এমনকি আর্থিক কোনও সহযোগিতার প্রয়োজন হলেও সেটা আমি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে দিয়ে দিচ্ছি। সেটা করে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট একটা প্রকল্পের অধীনে এই নদীগুলো আইডেন্টিফাই করেন। আমরা সকলে মিলে এই কাজটা শুরু করবো।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত এর সভাপতিত্বে সম্মিলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।
সম্মিলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন।
পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের আয়োজন করেছে, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো), নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল।
নদী রক্ষা সম্মিলনের সহযোগিতায় ছিল, হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, গার্ডেনিং বাংলাদেশ, হালদা নদী রক্ষা কমিটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, গ্রীন ভয়েস, ব্রাইর্টাস, ওয়েবি ফাউন্ডেশন। সম্মিলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেব ছিল চ্যানেল আই ও প্রকৃতিবার্তা (prokritibarta.com)।
জোবায়ের আহমেদ 




















