বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেছেন, পার্বত্য নদীকে আমরা দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং বহমান রাখতে চাই। কারণ প্রবাহমান নদী উন্নয়নের হাতিয়ার। তাই নদীকে আমরা বহমান রাখতে চাই। পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) খাগড়াছড়ি টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা সভা।
সবাইকে নদীপ্রান শুভেচ্ছা মুহাম্মদ মনির হোসেন বলেন , পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের এটা চতুর্থ আয়োজন। প্রথম আয়োজন হয়েছিল ২০১৯ সালে বান্দরবনে, দ্বিতীয় আয়োজন হয়েছিল ২০২০ সালে রাঙ্গামাটিতে, তৃতীয় আয়োজন হয়েছিল ২০২৩ সালে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫”
মনির হোসেন বলেন, মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয় গত কিছুদিন আগে চিন্তা করলেন যে, আমরা সমতলের নদীগুলোর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো কীভাবে রক্ষা করতে পারি? সেই জায়গা থেকে উনার চিন্তাটা ছিল এরকম। আমাদের সমতলের নদীগুলো যেমন গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা। মজার বিষয় হচ্ছে এই গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনার সাথে পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ করে খাগড়াছড়ি অঞ্চলের চেঙ্গী নদীর কোনও সম্পর্ক নেই, মাইনী নদীর কোনও সম্পর্ক নেই, কাসালং নদীর কোনও সম্পর্ক নেই। তারা পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে বিভিন্ন পথে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। তাহলে আমি পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো নিয়ে ভাবতে পারছি? পারছি না। তাই তিনি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে দায়িত্ব দিলেন পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো নিয়ে আলাদাভাবে গবেষণা করেন, যেন এই নদীগুলো মানুষের সামনে আসে। এই নদীগুলো এই অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি, জীবন, অর্থনীতি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ নদী নিয়ে আমরা যদি এভাবে চিন্তা করি যে, নদী ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারবো না। নদী নিয়ে আমাদের মূল জায়গা ধরেই কিন্তু অন্য জায়গায় যেতে পারি।

পার্বত্য নদী নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নদী এবং সমতলের নদী আলাদা। সমতলের নদীগুলোর গতিপথ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলোর গতিপথ তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি। পাহাড়ি নদীগুলোকে আলাদাভাবে দেখার জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন। অর্থাৎ পাহাড়ি নদীগুলোকে রক্ষা করার মাধ্যমে আমাদের পাহাড়ি জনপদের এই বিশাল এলাকা রক্ষা করতে পারি। নদীগুলোকে রক্ষা করতে পারি, নদীগুলোর বহুমুখী ডাইভাসিটি নিশ্চিত করতে পারি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমাদের সংকটগুলোর মধ্যে বড় একটি সংকট হচ্ছে দূষণ। দূষণের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে দায় পর্যটন। পানি দূষণ, প্লাস্টিক দূষণ। প্রত্যেকটা রেস্টুরেন্টে প্লাস্টিক ব্যবহার হয়। খাগড়াছড়িকে প্লাস্টিক দূষণ মুক্ত রাখতে হবে, আমি আশা করবো যে, খাগড়াছড়িতে একবার ব্যবহার যোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: সফলভাবে সম্পন্ন হলো “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫” এর প্রথম দিনের কার্যক্রম
তিনি আরও বলেন, আমি পর্যটন চাই, কিন্তু ইভেন্ট চাই না। পর্যটন হচ্ছে আমি যে ডেস্টিনেশনের যাবো সেখানকার মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদি কার্বন তৈরি করতে পারবো না। সেখানকার স্থানীয় সংস্কৃতিকে আমি শ্রদ্ধা করবো। সেখানকার জীবনমান উন্নয়নে আমি পৃষ্ঠপোষকতা করবো অর্থাৎ সিএসআর করবো। ট্যুরিজম অপারেটর যারা আছে তারা। এই পর্যন্ত থাকলে সেটা পর্যটন। আর এটা না থাকলে সেটা ইভেন্ট। আমরা এখন পর্যন্ত পর্যটনের নামে যা করি সেটা ইভেন্ট। কারণ আমাদের কোনও দক্ষ গাইড নাই। অর্থাৎ আমার জায়গাটা সম্পর্কে বর্ণনা করার মতো কোনও গাইড নাই। আমরা যখন মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডে যাই তখন সেখানকার গাইডরা সুন্দর বর্ণনা দেন। আমরা সেভাবে চলাফেরা করি। কিন্তু যখন বাংলাদেশে ঘুরি দক্ষ গাইডের অভাবে আমরা পর্যটন কেন্দ্রে আসি, ছবি তুলি, খাই-দাই, পরিবেশ নোংরা করে চলে যাই। সেই জায়গাটাতে পর্যটন করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ যারা আছে এই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মিলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত এর সভাপতিত্বে সম্মিলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।
আরও পড়ুন: পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের আয়োজন করেছে, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো), নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল।
নদী রক্ষা সম্মিলনের সহযোগিতায় ছিল, হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, গার্ডেনিং বাংলাদেশ, হালদা নদী রক্ষা কমিটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, গ্রীন ভয়েস, ব্রাইর্টাস, ওয়েবি ফাউন্ডেশন। সম্মিলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেব ছিল চ্যানেল আই ও প্রকৃতিবার্তা (prokritibarta.com)।
জোবায়ের আহমেদ 




















