পার্বত্য অঞ্চলের নদী, পাহাড়, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা জোরদার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫’। দিনব্যাপী এ সম্মিলনে অংশ নেন পরিবেশ গবেষক, নদী কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সমাজকর্মীরা।
সম্মিলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে নদী রক্ষার সংগ্রাম দীর্ঘদিনের। কিন্তু জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বিত নীতির অভাবে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন সবসময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তারা বলেন, “নদী বাঁচলে পাহাড় বাঁচবে; আর পাহাড় বাঁচলে এখানকার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও কৃষি নিরাপদ থাকবে।”পার্বত্য এলাকায় নদী শুধু প্রতিবেশব্যবস্থার ভিত্তি নয়; মানুষের জীবন, কৃষি, পানির উৎস এবং স্থানীয় সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫”
সম্মিলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সম্মিলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মনির হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,পার্বত্য অঞ্চলের নদী নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তার প্রকৃতি অন্যরকম, তার সৌন্দর্য অন্যরকম, তার আবেদন অন্যরকম। জনগণের সাথে তাদের নির্ভরশীলতাও অন্য নদীর থেকেও অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকার মানুষ যেন পানি পায় অধিকারের সাথে। এই এলাকার নদী এবং ঝর্ণার অস্তিত্ব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত। পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো রক্ষা এবং নদীর সাথে যে সম্পৃক্ত ঝর্ণাগুলো আছে সেগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

পাঁচটি অধিবেশনের মধ্যে দিয়ে পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলননের দ্বিতীয় দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের ১ম দিনের মূল কর্মসূচি হিসেবে কাপ্তাই লেকের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও জলধারায় ভ্রমণ এবং নদী রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিল, পার্বত্য নদী সংরক্ষণ: গবেষণা, নীতি, বাস্তবায়ন ও সচেতনতার সমন্বয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আরও পড়ুন:পার্বত্য অঞ্চলের নদীগুলো রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি: উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
অধিবেশনে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ আনোয়ার সাদাত এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মহাপরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান।
দ্বিতীয় অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিল, প্রস্তাবিত জাতীয় পানি নীতি ২০২৫: নদী রক্ষায় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা (গণশুনানি)।
দ্বিতীয় অধিবেশনের উপস্থিত ছিলেন, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আলাউদ্দীন হোসেন, পানি স¤পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মাহফুজ রাসেল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য মো: সহিদুল ইসলাম সুমন।
আরও পড়ুন: সফলভাবে সম্পন্ন হলো “পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলন ২০২৫” এর প্রথম দিনের কার্যক্রম
তৃতীয় অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিল, দূষণ: পার্বত্য জলাধারের সংকট ও সমাধান
তৃতীয় অধিবেশনের উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (সার্বিক)হাসান মারুফ, খাগড়াছড়ি পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাছান আহম্মদ, গ্রিন প্লানেটের চেয়ারম্যান স্থপতি মো: মিজানুর রহমান, গুইমারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম সমন্বয়কারি এ এম এম খাইরুল আনাম, রসায়নবিদ ও পরিবেশকর্মী সাঈদ চৌধুরী।
আরও পড়ুন: পার্বত্য নদীকে দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত এবং বহমান রাখতে চাই: মুহাম্মদ মনির হোসেন
চতুর্থ অধিবেশনের বিষয়বস্তু ছিল, তরুণের নদী আন্দোলন: ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের শক্তি।
চতুর্থ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিরুপন চাকমা, ও এ বি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান তুহিন, ব্রাইর্টাস এর প্রতিষ্ঠাতা ফারিহা অমি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা জুবায়ের ইসলাম, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি।

সমাপনী অধিবেশন ছিল নদী বিষয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে পার্বত্য নদী রক্ষার বার্তা প্রদান করা হয়।

এর আগে পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের ১ম দিনের মূল কর্মসূচি হিসেবে কাপ্তাই লেকের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও জলধারায় ভ্রমণ এবং নদী রক্ষায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

পার্বত্য নদী রক্ষা সম্মিলনের আয়োজন করেছে, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো), নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল।
নদী রক্ষা সম্মিলনের সহযোগিতায় ছিল, হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি, গার্ডেনিং বাংলাদেশ, হালদা নদী রক্ষা কমিটি, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, গ্রীন ভয়েস, ব্রাইর্টাস, ওয়েবি ফাউন্ডেশন। সম্মিলনের মিডিয়া পার্টনার হিসেব ছিল চ্যানেল আই ও প্রকৃতিবার্তা (prokritibarta.com)।
জোবায়ের আহমেদ 




















