সংবাদ শিরোনাম ::

পুতিন-কিমকে সাথে নিয়ে বিশ্বকে চীনের যেসব অস্ত্র দেখালেন শি জিনপিং (দেখুন ছবিতে)  

পুতিন-কিমকে সাথে নিয়ে বিশ্বকে চীনের যেসব অস্ত্র দেখালেন শি জিনপিং (দেখুন ছবিতে)  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তাদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকে চীনের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

এই মহাকুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয় চীনের সর্বাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট, ট্যাংক, অত্যাধুনিক ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও লেজার ক্যানন সহ নানা যুদ্ধাস্ত্র।

কুচকাওয়াজে অংশ নেয় প্রায় ১০ হাজার সেনা। এতদিন প্রকাশ্যে তেমনভাবে দেখা যায়নি এমন নানা অস্ত্র ছিল সামরিক কুচকাওয়াজের এই বহরে।

এর মধ্যে অন্যতম ও আকর্ষণীয় ছিল এক চোখ ধাঁধানো অপারেশন ড্রোন, যা দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও বিধ্বংসী বি-২ বোমারু জেটের মতো।

এই অনুষ্ঠানের শুরুতে খোলা ছাদের গাড়িতে শি জিনপিং রাজধানীর চ্যাং’আন এভিনিউ ধরে সেনাদের পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি অতিথিদের সঙ্গে যোগ দেন ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন গেটের মঞ্চে, যেখানে মাও সেতুংয়ের প্রতিকৃতির নিচে তৈরি করা হয়েছিল কুচকাওয়াজের কেন্দ্রীয় আসন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুষ্ঠানের আগে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, চীনকে কেউ থামাতে পারবে না এবং চীন কখনোই কোনো রকম হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কুচকাওয়াজে শি জিনপিং-এর আক্রমণাত্মক উচ্চাভিলাষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে, গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছে এই আয়োজনে।

কুচকাওয়াজে ওয়াইজে-১৭ হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে বেইজিং।

এই প্রদর্শনীর অন্যতম মূল বার্তা হলো—চীন দ্রুত বৈচিত্র্যময় অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এক দশক আগে যেখানে তাদের সামরিক প্রযুক্তি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবিত উন্নত সরঞ্জামের নকল, এই প্যারেডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষ করে উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অগ্রগতি চোখে পড়েছে।

 

এ সময় সামরিক কুচকাওয়াজে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি কৌশলগত স্ট্রাইক গ্রুপ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে।

কুচকাওয়াজে নজর কাড়ে চীনের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সাবমেরিন ড্রোন এজেএক্স-০০২।

এ সময় একটি অপারেশন গ্রুপ মানবহীন হেলিকপ্টার প্রদর্শন করে।

কুচকাওয়াজে পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনারা মেরিটাইম অপারেশনস গ্রুপ লেজার অস্ত্র প্রদর্শন করে। চীনের সর্বাধুনিক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই কুচকাওয়াজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে চীন। এখন বিশ্বশক্তি এবং তাদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Shuvo

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ক যোগ দিয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’!

পুতিন-কিমকে সাথে নিয়ে বিশ্বকে চীনের যেসব অস্ত্র দেখালেন শি জিনপিং (দেখুন ছবিতে)  

আপডেট সময় ০৪:০৯:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তাদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকে চীনের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

এই মহাকুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয় চীনের সর্বাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট, ট্যাংক, অত্যাধুনিক ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও লেজার ক্যানন সহ নানা যুদ্ধাস্ত্র।

কুচকাওয়াজে অংশ নেয় প্রায় ১০ হাজার সেনা। এতদিন প্রকাশ্যে তেমনভাবে দেখা যায়নি এমন নানা অস্ত্র ছিল সামরিক কুচকাওয়াজের এই বহরে।

এর মধ্যে অন্যতম ও আকর্ষণীয় ছিল এক চোখ ধাঁধানো অপারেশন ড্রোন, যা দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও বিধ্বংসী বি-২ বোমারু জেটের মতো।

এই অনুষ্ঠানের শুরুতে খোলা ছাদের গাড়িতে শি জিনপিং রাজধানীর চ্যাং’আন এভিনিউ ধরে সেনাদের পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি অতিথিদের সঙ্গে যোগ দেন ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন গেটের মঞ্চে, যেখানে মাও সেতুংয়ের প্রতিকৃতির নিচে তৈরি করা হয়েছিল কুচকাওয়াজের কেন্দ্রীয় আসন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুষ্ঠানের আগে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, চীনকে কেউ থামাতে পারবে না এবং চীন কখনোই কোনো রকম হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কুচকাওয়াজে শি জিনপিং-এর আক্রমণাত্মক উচ্চাভিলাষ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে, গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ান নিয়ে চীনের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনার আভাস পাওয়া গেছে এই আয়োজনে।

কুচকাওয়াজে ওয়াইজে-১৭ হাইপারসনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে বেইজিং।

এই প্রদর্শনীর অন্যতম মূল বার্তা হলো—চীন দ্রুত বৈচিত্র্যময় অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এক দশক আগে যেখানে তাদের সামরিক প্রযুক্তি ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবিত উন্নত সরঞ্জামের নকল, এই প্যারেডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষ করে উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ অগ্রগতি চোখে পড়েছে।

 

এ সময় সামরিক কুচকাওয়াজে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি কৌশলগত স্ট্রাইক গ্রুপ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করে।

কুচকাওয়াজে নজর কাড়ে চীনের অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সাবমেরিন ড্রোন এজেএক্স-০০২।

এ সময় একটি অপারেশন গ্রুপ মানবহীন হেলিকপ্টার প্রদর্শন করে।

কুচকাওয়াজে পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনারা মেরিটাইম অপারেশনস গ্রুপ লেজার অস্ত্র প্রদর্শন করে। চীনের সর্বাধুনিক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে এই কুচকাওয়াজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে চীন। এখন বিশ্বশক্তি এবং তাদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করা আর সম্ভব নয়।