বাংলাদেশের পাহাড়, নদী, জলাভূমি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে আছে বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদজগৎ। দেশের উদ্ভিদরাজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। আমাদের দেশের অন্যতম বনভূমি সুন্দরবনসহ উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বা প্যারাবন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি চিরসবুজ বন এবং গাজীপুর, টাঙ্গাইল অঞ্চলের পত্রঝরা বন। এছাড়াও আমাদের চারপাশেও দেখা যায় চিরচেনা বৃক্ষের সমাহার।
বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানো বা ভারসাম্য রক্ষাই করে না, আমাদের জীবন ও জীবিকার সাথেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কাঠ, ফল, ঔষধ, তন্তু, জ্বালানিসহ জীবনধারনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ক্ষেত্রেই বৃক্ষ অপরিহার্য। অক্সিজেন উৎপাদন ও কার্বন শোষণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অন্যতম কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হলো বৃক্ষ। এছাড়া মাটি ধরে রাখা, পাহাড় ও নদীতীরের ভাঙন প্রতিরোধে বৃক্ষ অত্যন্ত কার্যকর। একইসাথে বৃষ্টির পানি ধরে রাখে এবং ঝর্ণা, ছড়া ও নদীতে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করে এসব বৃক্ষ। বৃক্ষ পোকামাকড়, পাখি, স্তন্যপায়ী, সরীসৃপসহ অসংখ্য প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে।
তবে দ্রুত নগরায়ণ, বন ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বাংলাদেশের মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আকাশমনি ও ইউক্যালিপ্টাসের মত দ্রুতবর্ধনশীল আগ্রাসী ভিনদেশী উদ্ভিদ স্থানীয় প্রজাতিগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিপন্ন বৃক্ষ সংরক্ষণে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ ও বনভূমি টিকিয়ে রাখা জরুরি। একই সাথে প্রয়োজন বন সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ। দেশীয় বৃক্ষ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। স্কুল, কলেজ, গণমাধ্যম, সামাজিক উদ্যোগসহ সব জায়গায় বৃক্ষ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা প্রয়োজন।
মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘প্রকৃতি ও জীবন’-এর এবারের পর্ব- ‘বিপন্ন বৃক্ষ’। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন।
‘প্রকৃতি ও জীবন’ অনুষ্ঠানটি দেখবেন বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত ১০:১৫ মিনিটে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ১১:০৫ মিনিটে এবং রবিবার ভোর ৫:৩০ মিনিটে, শুধুমাত্র চ্যানেল আই’তে।
প্রকৃতিবার্তা ডেস্ক 




















